fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পর্যটকশূন্য দিঘা, সঙ্কটে ঘোড়সওয়ারি ব্যবসা

ভীষ্মদেব দাশ, খেজুরি (পূর্ব মেদিনীপুর): করোনা সংক্রমণ এড়াতে দিঘায় পর্যটকদের আগমন বন্ধ। প্রশাসনের তরফে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফলে ভ্রমণপিপাসুদের সেই সৈকত শহর দিঘা আজ পর্যটকশূণ‍্য। যার ফলে ব‍্যাপক প্রভাব পড়ছে দিঘার ঘোড়সওয়ারি ব‍্যবসার ওপর। পর্যটক না আসার আয়- ইনকাম তেমন হচ্ছে না। তাই রোজগার না থাকায় সুযোগ নেই ঘোড়ার খাবার জোগাড়ের।

 

 

একসময় পর্যটকদের আগমনে গমগম করতো সৈকত শহর দিঘা। সৈকতের ধারে ঘোড়ার পিঠে চেপে টগবগিয়ে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। দিঘার এইসমস্ত আনন্দ আজ অন্য এক নস্টালজিয়া। প্রবাদে আছে বাঙালি নাকি ‘ঘোড়া দেখলে খোঁড়া’। ফুল, জরি দিয়ে সাজানো ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘোড়সওয়ারের অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। যা অবশ্য দিঘার খুব চেনা দৃশ্য বলা চলে। কিন্তু বর্তমানে এই লকডাউনে দিঘার ঘোড়সওয়ারি ব‍্যবসা খুবই সঙ্কটে। মন খারাপ ঘোড়ার সাথে সাথে তার মালিকেরও। ব্যবসায়ীদের মতে, লকডাউনের মধ্যে ব‍্যবসা না চলায় ঘোড়ার খাবার জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা তাঁদের। আগে একেকদিন ঘোড়সওয়ারি করে ইনকাম হতো তিন- থেকে চার হাজার টাকা। কিন্তু সেসব লকডাউনে শূণ‍্যতে গিয়ে ঠেকেছে। ফলে ঘোড়ার দানাপানি জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে ঘোড়সওয়ারি ব‍্যবসায়িরা। ঘোড়াদেরকে এখন আর আস্তাবলে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ছেড়ে দিতে হচ্ছে মাঠে- ঘাটে ঘাস পাতা খাওয়ার জন্য। কিন্তু তাতেও বাড়ছে বিপদ। আস্তাবলের দানাপানি ছেড়ে এভাবে মাঠে- ঘাটে ঘাস- পাতা খেতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বহু ঘোড়া। দিঘার প্রত‍্যন্ত গ্রামগুলোতে এখন ঢুকলেই চোখে পড়বে সৈকতে টকবগ করা সেইসব ঘোড়াগুলো আজ মাঠেঘাটে চরে বেড়াচ্ছে। সকাল হলেই মালিক দিয়ে যাচ্ছে মাঠে ঘাস খাওয়ার জন্য, আবার সন্ধ্যায় নিয়ে যাচ্ছে আস্তাবলে। কিন্তু এভাবে আর কতদিন? যেভাবে লকডাউন দিনের পর দিন ক্রমশ লম্বা হচ্ছে তাতে ঘোড়াদের পাশাপাশি খাদ‍্য সঙ্কটে পড়ছেন দিঘার ঘোড়সওয়ারি ব‍্যবসায়িরাও।

 

 

ঘোড়সওয়ারি ব‍্যবসায়ি সিরাজুল শেখ বলেন, “বংশ পরম্পরায় ঘোড়াসওয়ারির ব্যবসা। রোজগার কমায় পরিবারের অন্যান্যরা ঘোড়ার গাড়ির ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। বাচ্চারা ঘোড়ায় চড়তে ভালবাসে। তাতে যা রোজগার হয় কোনওমতে চলে যেত। কিন্তু এখন লকডাউনে ব্যবসা বন্ধ থাকায় টান পড়েছে পকেটে।নিজেরাই ঠিকমতো খেতে পাচ্ছি না। ফলে ঘোড়াকেও খাওয়াতে পারছি না। আমাদের দু’টি ঘোড়া ছিল। তাদের ছেড়ে দিয়েছি। মাঠেঘাটে ঘাস খাচ্ছে। এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ছেড়ে রাখতে গিয়ে, অসুস্থও হয়ে পড়ছে।” সবমিলিয়ে বলা চলে লকডাউনের জেরে সঙ্কটে আজ দিঘার ঘোড়সওয়ারি ব‍্যবসা। প্রশাসনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন ব‍্যবসায়ীরা।

Related Articles

Back to top button
Close