fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

করোনায় থমকে গেছে টিকাদান, শিশুমৃত্যু বৃদ্ধির শঙ্কায় রাষ্ট্রপুঞ্জ ও হু

জেনেভা,  (সংবাদ সংস্থা): মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে শিশুদের বিভিন্ন সংক্রামক রোগপ্রতিরোধী টিকাদান একপ্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে শিশুমৃত্যুর হার ভয়ানকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে রাষ্ট্রপুঞ্জ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- হু।
সম্প্রতি ৮০টি দেশে রাষ্ট্রপুঞ্জ পরিচালিত এক জরিপে প্রকাশ, করোনার কারণে  তিন-চতুর্থাংশ দেশেই টিকাদান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে, প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ডিপথেরিয়া, টিটেনাস ও হুপিং কাশি প্রতিরোধী টিকাদানের হার কম দেখা গেছে। এপ্রসঙ্গে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেছেন, “টিকা না পাওয়ায় শিশুদের মধ্যে রোগ সংক্রমণ ও মৃত্যুহার অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।”
একইসঙ্গে ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ (পিপিই) না থাকা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, স্বাস্থ্যকর্মী সংকট ও ঘরছাড়তে অনীহার কারণে চলতি বছর শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত অন্তত ৩০টি হাম প্রতিরোধী টিকাদান অভিযান বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্যমতে, করোনা মহামারীর আগে থেকেই হামের ভয়াবহ সংক্রমণের মুখে ছিল বিশ্ব। ২০১৮ সালে এতে আক্রান্ত হয়েছিলেন অন্তত এক কোটি মানুষ, এর মধ্যে মারা গেছেন কমপক্ষে ১ লক্ষ ৪০ হাজার। মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল শিশু।
ইউনিসেফের পরিসংখ্যান পেশ করে জানিয়েছে, প্রতিবছর সময়মতো টিকাদানের কারণে জীবন বেঁচে যায় অন্তত ৩০ লক্ষ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা। তারপরও বহু জায়গা এই কার্যক্রমের বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে প্রতিবছর এমন ১৫ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছেন, যাদের টিকা দিতে পারলে হয়তো জীবনরক্ষা সম্ভব হতো।
তথ্য বলছে,২০১৯ সালে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ শিশু হাম-ডিপথেরিয়ার মতো রোগের টিকা পায়নি। এদের অধিকাংশই আফ্রিকা অঞ্চলের এবং দুই-তৃতীয়াংশ হচ্ছে ভারত, পাকিস্তান, ব্রাজিল, কঙ্গো, ইথিওপিয়াসহ ১০ দেশের বাসিন্দা। এপ্রসঙ্গে ইউনিসেফ প্রধান হেনরিয়েট ফোর জানিয়েছেন, “করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তারপরেও আমাদের অবশ্যই টিকাদান কার্যক্রমের আরও অবনতি রোধ করতে হবে… যেন অন্যান্য রোগের মাধ্যমে শিশুদের জীবন হুমকিতে না পড়ে। আমরা একটি স্বাস্থ্য সংকটের সঙ্গে আরেকটির বিনিময় করতে পারি না।”

Related Articles

Back to top button
Close