fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আত্মহত্যা করতে আসা গৃহবধূকে বাঁচিয়ে বাড়িতে ফেরাল নোয়াপাড়া থানার পুলিশ

অলোক কুমার ঘোষ, ব্যারাকপুর: পারিবারিক অশান্তির জেরে বাড়ি থেকে পালিয়ে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে আসা এক গৃহবধূকে বাঁচালেন উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মীরা। জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধূর বাড়ি হুগলী জেলার শ্রীরামপুর এলাকায়। মাত্র ৯ মাস আগে বিয়ে হয় ওই গৃহবধূর। তার স্বামী এক বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তবে পণ সামগ্রী দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ওই গৃহবধূর সঙ্গে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের অশান্তি চলছিল।

ওই গৃহবধূর দাবি, তার উপর তার শ্বাশুড়ি অত্যাচার করে। তবে ওই গৃহ বধূ স্বামীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেন নি। শ্বাশুড়ীর সঙ্গে ঝগড়া করে হুগলি জেলার শ্রীরামপুর থেকে সোজা গঙ্গা পার করে উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুরে পৌঁছায় ওই গৃহবধূ। এরপরই ইছাপুর নবাব গঞ্জের বিশ্বাস ঘাটে গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় সে। ইতিমধ্যেই ওই গৃহবধূকে গঙ্গা তীরে স্থানীয়রা আটকানোর চেষ্টা করে। টহলরত নোয়াপাড়া থানার পুলিশের গাড়ি গঙ্গা তীরবর্তী নবাব গঞ্জের বিশ্বাস ঘাটে দ্রুত পৌঁছে গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার আগেই ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে সোজা নোয়াপাড়া থানায় নিয়ে আসে। এরপর থানায় বসিয়ে ওই গৃহ বধূর কাউন্সিলিং করেন পুলিশ কর্মীরা।

জানা যায়, ওই গৃহবধূর বিয়ে হয়েছিল মাত্র ৯ মাস আগে। বিয়ের ২ মাস পর থেকে পারিবারিক অশান্তি শুরু হয় শ্বশুর বাড়িতে। সেই অশান্তির জেরে মঙ্গলবার বাড়ি থেকে পালিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ইছাপুরে এসে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তবে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মীদের তৎপরতায় শেষ রক্ষা হয় তার। মঙ্গলবার রাতে ওই গৃহবধূর স্বামীকে হুগলি জেলা থেকে নোয়াপাড়ায় ডেকে পাঠায় পুলিশ কর্মীরা। এরপর ওই গৃহবধূকে থানাতেই ভাত খাইয়ে তার স্বামীর হাতে তুলে দেয় পুলিশ।

ওই গৃহ বধূ বলেন, “আমি একটা ভুল পদক্ষেপ নিতে চলেছিলাম। সেটা আমাকে পুলিশ কর্মীরা বুঝিয়েছেন। উনারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন বলেই আমি এখানে এসেছি। আমি আর আত্মহত্যার চেষ্টা করব না ।” গৃহবধূর স্বামী পুলিশ কর্মীদের কথা দেন আগামীদিনে স্ত্রীর খেয়াল রাখবেন। শেষ পর্যন্ত নতুন জীবন ফেরত পেয়ে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মীদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে স্বামীর হাত ধরে নিজের বাড়িতে ফেরেন ওই গৃহবধূ। ওই গৃহবধূকে বাঁচিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে দিতে পেরে ভীষন খুশী নোয়াপাড়া থানার পুলিশ কর্মীরা।

Related Articles

Back to top button
Close