fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সংক্রমণের ভয়ে যাযাবর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরতে পারছেন না, সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে

মালদা:   লকডাউন শেষ শুরু হয়েছে আনলক – ১। এই পরিস্থিতিতে যাযাবর পরিবারের সদস্যরা কলকাতার বারাসাতের নিজেদের বাড়ি ফিরতে পারছেন না। কারণ, একটাই করোনা সংক্রমণের ভয় তাদের পরিবারের লোকেরা বাড়িতে ফেরাতে চাইছেন না।  পুরাতন মালদার রায়পুর এলাকায় খোলা আকাশের নিচেই ১৬টি যাযাবর পরিবারের পুরুষ, মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ মিলিয়ে মোট ৬০ জন সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রুজি-রোজগার হারিয়ে এখন অন্যের বাগানে আম পাড়াটাই হয়েছে দিনমজুরের কাজ । আর সেই আম পাড়তে গিয়ে কেউ গাছ থেকে পড়ে জখম হচ্ছেন। আবার আমের রস শরীরে লেগে দগদগে ঘা’ও পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে। অনভিজ্ঞতা আম পাড়তে গিয়ে এখন সংকটের মুখে যাযাবরদের জীবন। যদিও এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত ও প্রশাসন কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেটা আর কতদিন।

যাযাবরদের বক্তব্য, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত আমডাঙ্গা তাদের বাড়ি । কিন্তু সেখানে করোনায় জেরবার বহু মানুষ। তাই আমাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিচ্ছে না । রুজি রোজগার বন্ধ। কোনরকমে একবেলা না খেয়ে দিন কাটছে তাদের। যদিও এব্যাপারে স্থানীয় বিধায়ক অর্জুন হালদার জানিয়েছেন, এলাকার যাযাবরদের সমস্যার কথা শুনেছি । ওদের চাল , ডাল বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে মাঝেমধ্যে সাহায্য করা হচ্ছে। তবে ওরা বাড়ির ফেরার ব্যাপারে যে সমস্যা ও অভিযোগে সমস্যার কথা বলেছেন, তা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দেখা হবে।

পুরাতন মালদা ব্লকের সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রায়পুর এলাকার আমবাগানে ১৬টি যাযাবর পরিবারের ৬০ জন সদস্য রয়েছেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ এবং প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ, মহিলারা রয়েছেন এই যাযাবর দলের মধ্যে । নানান ধরনের কবিরাজি ওষুধ গাছ-গাছালি বিক্রি করে এদের রুজি রোজগার চলে। কিন্তু লকডাউনের জেরে সবই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। গত তিন মাস ধরে এই অবস্থায় স্থানীয় পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের তরফ থেকে চাল , ডাল , আলু সহ নানান ধরনের খাদ্য সামগ্রী যখন যেভাবে পারছেন সেভাবেই তাদের পেট চলছে।

আরও পড়ুন: গাছ থেকে আম পেড়ে খাওয়ার মাশুল! দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রকে কিল, চড় মেরে খুনের হুমকি! ভাইরাল ভিডিও

যাযাবর দলের মহিলা সদস্য মালাইয়া মালো, দেবী মাল বলেন, আমডাঙ্গায় তাদের বাড়ি রয়েছে। এখন তো ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু বাড়ির লোকেরা আমাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না। ওরা বলছে আমরা নাকি বাইরে ছিলাম, তাই করোন সংক্রামিত হয়ে থাকতে পারি। দেশের বাড়ির অবস্থা ভালো নেই। কিন্তু আমরা খাব কি। কতদিন এবার খোলা আকাশের নীচে থাকবো। তাই সবাই বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলাম । কিন্তু গ্রামের বাড়ির এলাকার লোকেরা আমাদের ফিরতে দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। ফোনের মাধ্যমে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু ওরা আমাদের ঘরে ফিরে নিবে না। তাই এখন দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।

ওই যাযাবর দলের মহিলারা বলেন, হাতে কোনো কাজ নেই । তাই এলাকার আশেপাশে বাগানে আম ভাঙার কাজ শুরু করেছি। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা আমাদের নেই ।গাছে উঠে আম ভাঙতে গিয়ে পড়ে জখম হচ্ছে অনেকেই। আবার আমের কস গায়ে লেগে দগদগে ঘা হচ্ছে। এরকম আর কতদিন চলবে। পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে জানি না। কিন্তু এরকম চলতে থাকলে বাঁচার কোন পথ নেই, হয়তো অর্ধাহারে মরতে হবে আমাদের। সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান উকিল মন্ডল বলেন, রায়পুর এলাকায় যাযাবরদের দল দীর্ঘদিন ধরেই আছে। ওদের সমস্যার কথা শুনেছি । শুধু পঞ্চায়েত , প্রশাসনই নয় , বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকেও ওদের খাবারের দিয়ে সহযোগিতা করা হয়েছে । তবে ওরা নিজেদের বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছে। এব্যাপারে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে । তাই প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close