fbpx
কলকাতাহেডলাইন

ফেক ছবি প্রচারের জন্য বাবুলের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা !

শংকর দত্ত, কলকাতা: শেষ অব্দি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলার করলো কলকাতা পুলিশ। সূত্রের খবর, সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ফেক ছবি পোস্ট করবার জন্য এই মামলা করেছে লালাবাজার। জানা যাচ্ছে, শুধু মাত্র কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় নয়। এই ছবি যারা যারা শেয়ার করেছেন তাঁদের সকলকেই অভিযুক্ত করা হতে পারে। কিন্তু আসল ঘটনাটা ঠিক কী? কিসের বিরুদ্ধে এই মামলা? ঘটনায় প্রকাশ,তিনি যে ছবি পোস্ট করেছেন সেটিতে রয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব কুমার,মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দোপাধ্যায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মুখ। ওই ছবিতে ছিলেন আরও কয়েকজন মহিলা। ছিলো পানাহারের ব্যবস্থাও। যদিও ঘটনার তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ জানতে পারে এই ছবিটির কোনও সারবত্তা নেই। নেই কোনও সত্যতাও।

আর ঠিক এই কারণেই মিথ্যে গুজব ও সম্মানহানি করণের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে অফ আই আর করে মামলা রুজু হয়। জানা যাচ্ছে ভারতীয় দণ্ড বিধির ১৫৩এ, ৫০৫, ও ১২০বি সহ বেশ কয়েকটি ধারায় এই জামিন অযোগ্য মামলা হয়।পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে যেকোনো রকম ফেক ছবি শেয়ার করা ও পোস্ট করবার অপরাধে যে কেউয়ের বিরুদ্ধে এই মামলা হতে পারে।কারণ আইনের চোখে এটাও একটা বড় অপরাধ। এ বিষয়ে কলকাতার এক ডেপুটি কমিশনারের এর বক্তব্য, ‘বাবুল সুপ্রিয়র’সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছবি পোস্ট করা হয়েছে। সেটা সম্পূর্ণ ফেক। এমনকি এই ছবির সঙ্গে তিনি যে লিখিত বার্তা পোস্ট করেছেন সেটি মিথ্যে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলায় পাইকারি বাজারতে বিশেষ দৃষ্টি পুরসভা

প্রসঙ্গত গত কয়েকদিন ধরেই এই পোস্টটি নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতির একাংশে। এক শ্রেণীর মানুষ যেমন বাবুল সুপ্রিয়র মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই পোস্ট দেখে তাজ্জব বনে গেছেন। একটা শ্রেণী আবার রাজনৈতিক ভাবে উজ্জীবিত হয়েছেন। কেই কেউ এটাকেই হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছিলেন। অনেকেই অতি উৎসাহিত হয়েবতা শেয়ার ও করে ফেলেছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দোপাধ্যায় একজন সমাজসেবী হিসাবে কলকাতায় যথেষ্ট পরিচিত। একই সঙ্গে মুখ্যসচিবের মতন রাজ্যের এক নম্বর সরকারি আমলাকে নিয়ে এইরকম ফেক ছবি পোস্ট করাটা ঘরতর অপরাধ বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে অবশ্য বাবুলের পাল্টা যুক্তি, যে ছবিটি করেছেন,সেটা আগেই ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। তাই তাঁর এতে কোনও দায় নেই। তিনি বলেছেন, ‘আমিই প্রথম এই ছবি পোস্ট করিনি। এটা আগেই সোশ্যাল মিডিয়াতে বহুল প্রচারিত হয়ে গেছে।ছবিটি দেখে মনে হয়েছে ছবিটি দেখে মনে হয়েছে রাজ্যের পুলিশ তৃণমূলের সাম্প্রসারিত শাখা মনে হচ্ছে।’ বাবুলের এই টুইটের পর রীতিমতো পক্ষ-বিপক্ষে আলোচনার ঝড় উঠেছে নেট দুনিয়ায়।

এ বিষয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দীলিপ ঘোষ সোমবার বলেন, ‘পোস্ট টি আমিও দেখেছি। ঠিক কিংবা ভুল সেটা আমি জানি না। পুলিশ সঠিক তদন্ত করে দেখুক এর সত্য বা মিথ্যেটি।’ একই সঙ্গে খানিকটা বাবুলের পক্ষ নিয়েই তাঁর দাবী, ‘তবে আমি মনে করি না তাঁর মতো একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী তিনি কোনো অসত্য বা মিথ্যে ছবি পোস্ট করবেন। আর রাস্তার যে কেউ গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এফআই আর করবেন। পুলিশের উচিত আগে গুরুত্ব দিয়ে ছবির মূল বিষয়টি তদন্ত করা।’ এখন এটাই দেখার এই ছবি-বিতর্তকে কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

Related Articles

Back to top button
Close