fbpx
দেশহেডলাইন

কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নই:‌ পাইলট

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: একের পর এক নাটকীয় মোড় নিচ্ছে রাজস্থানের রাজনীতিতে। পাইলট বনাম গেহলট দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। গেহলটের সঙ্গে লড়াইয়ের মাঝপথে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যত্‍ নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন শচীন পাইলট। রাজস্থানের সদ্য-প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে কংগ্রেস হাইকমান্ডের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, ‘‌বিধায়ক পদ খারিজ হলে আমার রাজনৈতিক জীবন শেষ হবে। সেটা আমি চাই না।’‌

বুধবার রাতে শচীন বলেছেন, ‘‌গেহলট প্রকাশ্যে আমাকে গালমন্দ করছেন। হাইকমান্ড সব দেখেও চুপ রয়েছে। তারা আজও আমাকে তিরস্কার করেনি। এরপর আদালতে আমি জয়ী হলেও দলে থেকেই অভ্যন্তরে লড়াই চালিয়ে যাব।’‌ মুখ্যমন্ত্রী গেহলট আগাগোড়া অভিযোগ করে চলেছেন, বিজেপি-‌র সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন শচীন। গোপনে সরকার ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। যদিও শচীন অভিযোগ মানতে চাননি। তিনি বলেছেন, ‘‌নিজের সরকার ফেলার চেষ্টা করব কেন? বরং আমার লক্ষ্য, নেতৃত্বে রদবদল করা।’‌

দলবিরোধী কাজের অভিযোগে শচীন-শিবিরের বিরুদ্ধে স্পিকার সি পি যোশির নোটিস বৈধ কি না তা নিয়ে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করবে কাল, শুক্রবার‌। স্পিকার সুপ্রিম কোর্টে গেলেও সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের রায়ের আগে কোনওভাবে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। এই সময়ে পাইলটের এই আক্ষেপ কংগ্রেসে ফেরার পথ খোলা রাখার চেষ্টা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী জানিয়ে দিয়েছেন, দল শচীনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছে। তবে, শচীন যেন আগাম কোনও শর্ত না রাখেন।

আরও পড়ুন: করোনা মোকাবিলায় মোদি সরকারের নয়া উদ্যোগ, মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই পাওয়া যাবে করোনা পরীক্ষার ফল

প্রায় দু’‌সপ্তাহ ধরে চলা রাজস্থানের রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে স্পিকারের আর্জি এদিন সুপ্রিম কোর্ট ফের হাইকোর্টেই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ায় কিছুটা হলেও ধাক্কা খেয়েছে কংগ্রেস শিবির। সাময়িক জয় পেয়েছে শচীন পাইলট শিবিরের। শুনানির পর ‌সর্বোচ্চ আদালতের ৩ বিচারপতি অরুণকুমার মিশ্র, বি আর গাভাই ও কৃষ্ণ মুরারির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘‌গণতন্ত্রে বিরুদ্ধ স্বরকে কখনওই দমিয়ে দেওয়া যায় না।’‌ এই মামলায় হাইকোর্টের রায়ের ওপরেই আস্থা রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। স্পিকারের আর্জি ছিল, শচীন পাইলট-‌সহ ১৯ কংগ্রেস বিধায়ককে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কার্যত সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সর্বোচ্চ আদালতে মামলার শুনানিতে পাইলট শিবির জানিয়েছে, তাঁদের কেউ দলত্যাগে ইচ্ছুক নন। দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন চেয়ে সরব হয়েছেন মাত্র।

সুপ্রিম কোর্টে স্পিকারের হয়ে সওয়াল করছেন কংগ্রেসের আইনজীবী কপিল সিবাল। তিনি বলেন, ওই বিধায়করা দলের বৈঠকে যোগ দেননি। তাই তাঁদের বরখাস্তের নোটিস পাঠিয়েছেন স্পিকার। হাইকোর্ট বিধায়কদের রক্ষাকবচের ব্যবস্থা করে দিতে পারে না। তাঁর যুক্তি শুনে বিচারপতি অরুণ মিশ্রর পর্যবেক্ষণ, ‘ধরে নেওয়া যাক, ওই বিধায়করা মানুষের আস্থা হারিয়েছেন। তা হলেও দলে থাকা অবস্থায় তাঁদের এইভাবে বরখাস্ত করা যায় না। এমন হলে অনেকেই সেটাকে অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করবে। দলের অন্দরে কেউই বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবেন না। গণতন্ত্রকে বিরুদ্ধ স্বরকে কখনওই দমিয়ে দেওয়া যায় না।’

Related Articles

Back to top button
Close