fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

“করোনা নয়, বিজেপিকে আটকানোর জন্য এখানে লকডাউন করা হচ্ছে”: দিলীপ ঘোষ

দিব্যেন্দু রায়, কেতুগ্রাম: করোনাকে আটকাতে নয়, রাজনীতি করার জন্যই লকডাউনকে ব্যবহার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার এমন অভিযোগ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। “করোনা নয়, বিজেপিকে আটকানোর জন্য এখানে লকডাউন করা হচ্ছে৷” বুধবার কেতুগ্রামে সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে রাজ্যের লক ডাউন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই কথাই বললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি তিনি বলেন, “এভাবে লকডাউন করে কোনও লাভ হচ্ছে না বরঞ্চ লোকের কষ্ট হচ্ছে । পরীক্ষার আগের দিন লকডাউন করার কি মানে হয়? এটা অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্ত । কারোর সঙ্গে আলোচনা না করে শুধু মাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে মানুষের কষ্ট বাড়বে ।”

কালনায় বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, “সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিজেপি কর্মী খুন হচ্ছেন। রোজ হচ্ছে,  এটা রাজ্য সরকারের নীতি। বিজেপিকে আটকানোর সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে তাই গুন্ডা দিয়ে, পুলিশ দিয়ে, খুন করে, কেস দিয়ে,বাড়ি ছাড়া করে আমাদের আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এত অত্যাচার সত্ত্বেও আমরা ১৮ টা আসন জিতেছি। ২ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন । আগামী দিনেও এই অত্যাচারের মোকাবিলা করে আমরা বাংলায় পরিবর্তন করব।”  সেই সঙ্গে তিনি রাজ্য পুলিশের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যে পুলিশকর্মীরা তৃণমূলের হাত ধরে আমাদের কর্মীদের মিথ্যা কেস দিচ্ছে, বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে এসে পিটিয়ে মেরে ফেলছে আগামী দিনে মানুষ তাদের ছাড়বে না ।”

প্রসঙ্গত,গত মঙ্গলবার আউশগ্রামে দলের বুথ ভিত্তিক কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে ব্যক্তিগত আক্রমন করেন বীরভুম জেলার তৃনমুলের সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আগেও আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে। তাতে কি হয়েছে?  আমাদেরই লাভ হয়েছে । আমরা ব্যক্তিগত আক্রমণ করিনা”। পাশাপাশি নাম না করে তিনি অনুব্রত মন্ডলের সমালোচনা করে বলেন, “ওঁরা কি ধরনের লোক সবাই জানে। তাই পুলিশ দিয়ে গুন্ডা দিয়ে রাজনীতি করেন । ওঁদের পার্টি অফিসে বস্তা বস্তা বোম পাওয়া যায় । নেতার বাড়ির বাথরুমের মধ্যে ঝুড়িতে বোম পাওয়া যাচ্ছে । বোম বিস্ফোরন হয়ে পার্টি অফিস উড়ে যাচ্ছে । লোক জানেনা কে কি রকম?  তাই ওঁরা যদি আমাদের  আক্রমণ করেন তাহলে আখেরে আমাদেরই লাভ হবে।”

আরও পড়ুন: বউবাজারে বিপজ্জনক বাড়ি ভেঙে মৃত ১

গত মঙ্গলবার আউশগ্রামে ও তার আগের দিন কেতুগ্রামে কর্মী সম্মেলনে যোগ গিয়ে দলীয় কর্মীদের কাছে এলাকার রাস্তার দূরবস্থা নিয়ে অভিযোগ শুনতে হয় তৃনমুল নেতা অনুব্রত মন্ডলকে। অভিযোগ শোনার পর অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই তিনি ব্লক ও জেলা প্রশাসনকে ফোন করে অবিলম্বে সমস্যার সমাধানের কথা বলেন । অনুব্রতর এই উদ্যোগকে এদিন “লোক দেখানো” বলে কটাক্ষ করেন দিলীপবাবু।

এদিন কেতুগ্রামের রাজমহল লজে  বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। ওই বৈঠকে দিলীপ ঘোষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির পুর্ব বর্ধমান(গ্রামীন) জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ।  জেলা ও বিভিন্ন ব্লকের নেতারাসহ হাজার খানেক বিজেপি কর্মীসমর্থক ওই বৈঠকে যোগ দেন।  এদিন বিভিন্ন দল থেকে বিজেপিতে যোগদান করতে দেখা যায় । পুর্ব বর্ধমান জেলার বিজেপির সাধারন সম্পাদক রানা প্রতাপ গোস্বামী জানিয়েছেন, এদিন তৃণমুল  ও সিপিএম সমর্থক ৬০০ পরিবার বিজেপিতে যোগদান করেছেন । নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন  দলের রাজ্য সভাপতি।

 

Related Articles

Back to top button
Close