fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দিনের আলোয় মসজিদ ভাঙলেও দোষী নয়! সিবিআই আদালতের রায়ে হতাশ মুসলিমদের ভরসা সুপ্রিম কোর্টই

মোকতার হোসেন মন্ডল: দিনের আলোয় মসজিদ ভাঙলেও দোষী নয়! এমনই প্রশ্ন তুলে সিবিআই আদালতের রায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলার মুসলিম নেতারা। সেই সঙ্গে মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের সুপ্রিমকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা। নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা শফিক কাসেমী, ফুরফুরা দরবার শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীরা বলছেন, সিবিআই আদালতের এই রায়ে তাঁরা হতাশ। তাদের মন্তব্য, ওখানে রাম মন্দির করছে। তারপর আর এই রায় নিয়ে কী আশা করা যায়। কিছু বলার নেই।

জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক বলেন,’সিবিআই আদালতের এই রায় অপ্রত্যাশিত। এখানে সুবিচারকে অবহেলা করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্ট তার রায়ে বাবরি মসজিদ ধ্বংসকে ক্রিমিনাল এ্যক্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছে তার পরেও সিবিআই আদালত কিভাবে এমন রায় দিতে পারে। আদালতের কাছ থেকে আমরা এমন প্রত্যাশা করিনি। আইন মাফিক এই রায় প্রদান করা হয়নি। যারা অযোধ্যায় রাম মন্দিরের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছে, তারা হটাৎ করে মসজিদকে ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে এমন নয়,পরিকল্পনা করেই মসজিদ ভাঙা হয়েছে। গোটা পৃথিবী দেখেছে মসজিদ ভাঙতে। বাবরি নিয়ে এই রায়ের ফলে সিবিআই আদালতের প্রতি প্রশ্ন ওঠার অনেক কারণ রয়েছে।

জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সম্পাদক ডাঃ আলমগীর সরদার বলছেন, ‘বাবরি মসজিদ মামলার রায় দানের পর এই মামলা একটি গুরুত্বহীন মামলা। বাবরি মসজিদ মামলার রায় কী হয়েছে তা দেশের আপামর জনসাধারণ সহ গোটা বিশ্ববাসী জানেন। এই মামলার রায় কি হতে পারে তাও ভারতবাসী সম্ভবত পূর্বে জেনে গেছিলো। অবাক করার বিষয় কেউ-না-কেউ বাবরি মসজিদ ভেঙে ছিল! ঝড়ে কিংবা মৃদু বাতাসে তো আর উড়ে যায়নি? যারা আসামি ছিলেন তারা বহুবার সদর্পে ঘোষণা করেছিলেন বাবরি মসজিদ ভেঙেছি বেশ করেছি। ফাঁসি হলেও আমরা ফাঁসিতে ঝুলতে রাজি। অথচ বিচারব্যবস্থায় কাউকে দোষী করা গেল না! তাই বলা যায় বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে!’ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামানের মন্তব্য, ‘বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলায় অভিযুক্ত আদবানি সহ ৩২ জনকে বেকসুর খালাস করলো সিবিআই আদালত। এই রায় ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের উপর বড় আঘাত।’

সিবিআই আদালতের রায় নিয়ে মুসলিম বুদ্ধিজীবী ও লেখক মুহাম্মদ নুরুদ্দিন বলেন,বাবরী মসজিদ ধংসের সঙ্গে যারা জড়িত আজ তাঁদেরকে যেভাবে সিবিআই-এর বিশেষ আদালত নির্দোষ বলে ঘোষণা দিয়ে দিল তা শতাব্দীর সেরা একটি পরিহাস হিসাবে থাকবে। প্রকাশ্য দিনের আলোকে শত শত ক্যামেরার সামনে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর যারা পাঁচশত বৎসরের ঐতিহাসিক বাবরী মসজিদকে গুঁড়িয়ে দিল তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই কোন প্রমাণ দিতে পারেনি। এই রায়ে দেশের বাইরেও ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড সুবিচার চেয়ে যে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সঠিক। পক্ষপাতিত্ব নাকরে আদালত নিরপেক্ষ ভাবে রায় দিক এটাই কামনা করি।’

আবার যাদবপুর ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আব্দুল মতিনের মন্তব্য,’খুব দুর্ভাগ্যজনক, এইসব রায় থেকে পরিস্কার হচ্ছে যে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কিভাবে প্রভাবিত হচ্ছে রাজনৈতিক দল ও তাদের দর্শন দ্বারা। দেশের গণতন্ত্রকে বিপন্ন করে ইসরাইলি এথনিক ডেমোক্রেসির মডেলের দিকে দ্রুত এগুচ্ছে। দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষ আস্থা হারালে গণতন্ত্রের পক্ষে খুব ক্ষতিকর।”

তিন তালাক বিরোধী আন্দোলনের নেতা কাজী মাসুম আখতার বলছেন,’সুপ্রিম কোর্ট রাম মন্দির তৈরির পক্ষে রায় দিয়েছে। বাবরি ধ্বংস না হলে কি এই রায় হতো ? এমতাবস্থায়,নিম্নতর আদালত এই রায় দেবে-এটাই তো স্বাভাবিক ! তাতে যদি দেশে দাঙ্গা-অশান্তি একটুও কমে-সেটাই আমার কাছে বড় প্রাপ্তি। মন্দির-মসজিদের চেয়ে আমার কাছে একটি মানুষের জীবনও অনেক বড়।’

Related Articles

Back to top button
Close