fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

১ মে নয়, বাংলা জুড়ে বিশ্বকর্মা জয়ন্তীতে শ্রম দিবস পালনে সক্রিয় সংঘ

রক্তিম দাশ, কলকাতা: আমেরিকা শিকাগো শহরে হে মার্কেটে আট ঘণ্টার কাজের দাবিতে ১৮৮৬ সালে ১ মে শ্রমিকদের মিছিলে গুলি চলে। অনেক শ্রমিক নিহত এবং আহত হন। সেই আন্দোলনের স্মরণে ১ মে বিশ্ব জুড়ে শ্রমিক দিবস রূপে পালিত হয়ে আসছে। ভারতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মূলত বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলো এই দিবসটি পালনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল। পশ্চিমবঙ্গে দিনটি সরকারি ছুটি দিন হিসাবে পালিত হয়। কিন্তু এই দিবসটি নয়, ভারতীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে বজায় রেখে বিশ্বকর্মা পুজোর দিনটিকে শ্রম দিবস পালনে এবার বাংলায় সক্রিয় হচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস)।

জানা গিয়েছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজোর দিনটিকে বিভিন্ন কারখানা সহ শ্রমিক মহল্লাগুলো শ্রম দিবস রূপে পালন করার পাশাপাশি এই দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে বিএমএস।
বিএমএসের পশ্চিমবঙ্গ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন,‘ আমরা বিএমএসের জন্মলগ্ন থেকে এই দিনটি ভগবান বিশ্বকর্মা জয়ন্তী রূপে পালন করে আসছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। এই দিনটি শ্রম দিবস হিসাবে পালন করার পাশাপাশি আমরা শ্রমিক ও মালিকদের সংবর্ধনা দিই তাঁদের কাজে উৎসাহিত করার জন্য।’

কেন শ্রম দিবস এপ্রশ্নের উত্তরে উজ্জ্বলবাবু বলেন, ‘বামপন্থীরা বিদেশের বিচারধারায় ১ মে শ্রমিক দিবস পালন করেন। আমরা ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। ভগবান বিশ্বকর্মা শ্রমের দেবতা। তাই আমরা ওই দিনটিকে স্মরণ করি। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলায় আমাদের ৮০০ শাখায় দিনটি ব্যাপক ভাবে পালন করার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

বিএমএসের সভাপতি রবিশঙ্কর সিং বলেন, ‘ভগবান বিশ্বকর্মা আমাদের ভারতীয় সমাজের শ্রেষ্ঠ শিল্পী। এই দিনটিকে আমরা সংগঠনগত ভাবে রাষ্ট্রীয় শ্রম দিবস হিসাবে পালন করি। আমরা চাই দিনটিতে জাতীয় ছুটি ঘোষণা হোক। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগঢ় এবং রাজস্থানে দিনটিকে বিভিন্ন সময়ে সরকারি ছুটি হিসাবে ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু আবার রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের সঙ্গে তা বন্ধও হয়েছে। আমরা চাই এরাজ্যেও দিনটিকে স্মরণ করে ছুটি দেওয়া হোক।’

আরও পড়ুন:নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

রবিশঙ্করবাবুর সাফ কথা, ‘ ১ মে আমেরিকায় যে ঘটনা ঘটেছিল ওই দিনটিকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে এটা যায় না। কারণ আমাদের নিজস্ব শ্রম দিবস আছে বলেই। বাংলায় এবার দিনটিকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি, তার কারণ প্রতিটি শিল্পাঞ্চলে বিএমএসে অন্য শ্রমিক সংগঠন ছেড়ে যোগদান বাড়ছে। বাংলার শ্রমিকরা এই রাজ্য সরকারের ওপর আস্থা হারিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিকদলের শ্রমিক সংগঠনগুলো মালিক ও শ্রমিক সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে রাজ্যে শিল্পের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পারছে না।’

রবিশঙ্করবাবু আরও বলেন, ‘আমরা রাজ্যে এবার দিনটিতে লকডাউনের সময় যেসব মালিক শ্রমিকদের পক্ষে ছিলেন তাঁদের সংবর্ধনা দেব। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর আমরা পরীযায়ী শ্রমিকদের জন্য জীবন জীবিকা বাঁচাও দিবস পালন করব রাজ্যজুড়ে।’

Related Articles

Back to top button
Close