fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পিকের হস্তক্ষেপেও দক্ষিণ দিনাজপুরে মিটল না তৃণমূলের অন্তর্কলহ

টানা তিন ঘন্টার রুদ্ধদ্বার কোর কমিটির বৈঠকেও বেরোলো না সমাধান সূত্র

পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট: প্রশান্ত কিশোরের টিমের উপস্থিতিতে টানা তিন ঘন্টার কোর কমিটির বৈঠকেও সমাধান হলো না গুরু-শিষ্যের মতানৈক্যের। অভিমানে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি বিপ্লব মিত্র। দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক গুরু বলে স্বীকার করলেও এদিন ঘটনা প্রসঙ্গে তেমনভাবে মুখ খোলেননি বর্তমান জেলা সভাপতি গৌতম দাস। শনিবার বালুরঘাটের পতিরাম পথসাথীতে অনুষ্ঠিত তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকে বিপ্লব মিত্রকে কোণঠাসা করেছেন বর্তমান জেলা সভাপতি-সহ কমিটির অনান্য সদস্যরা। নির্বাচনের আগে কমিটিতে নাম না পরিবর্তনে সায় দিয়ে গৌতমের পাশেই বাকিরা। ফলে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে বিপ্লবকে।

বিজেপি ছেড়ে পুনরায় তৃণমূলে যোগদানের পর বিপ্লব মিত্রকে সেভাবে দলে কোনও দায়িত্বই দেওয়া হয় নি। বর্তমান জেলা সভাপতি গৌতম দাস সকলকে নিয়ে চলার বার্তা দিলেও একঘরে করে রাখা হয়েছিল বিপ্লব মিত্রকে। ফলে বিপ্লবের আপত্তি সত্ত্বেও বেশকিছু পদে বিতর্কিত কিছু নেতৃত্বদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের স্বার্থে বিপ্লবকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত মেলে। চলতি সপ্তাহে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোরের উপস্থিতিতে শিলিগুড়িতে বৈঠক করে বিপ্লব মিত্রের অসুবিধা দূর করতে ১৭ তারিখ জেলাতেই নেতৃত্বদের বৈঠকের নির্দেশ দেন বলে সুত্রের খবর।

এদিন সকাল ১১টায় পিকের টিমের ৪ সদস্যের উপস্থিতিতে বৈঠক শুরু হয় পতিরাম পথসাথীতে। যেখানে বিপ্লব মিত্র ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি গৌতম দাস, চেয়ারম্যান শংকর চক্রবর্তী, কো-অর্ডিনেটর সুভাষ চাকী, ললিতা টিগ্গা, বিধায়ক বাচ্চু হাঁসদা, তোরাব হোসেন মন্ডল এবং যুব সভাপতি অম্বরিশ সরকার। বৈঠকের শুরুতেই গঙ্গারামপুর আদালতের সরকারি আইনজীবী প্রতুল মৈত্রকে কোর কমিটির বৈঠকে দেখে কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন বিপ্লব মিত্র। যদিও তারপরেই তাকে সেখান থেকে বের করে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

এরপরেই নতুন জেলা কমিটিতে গঙ্গারামপুর,  বংশীহারী, হরিরামপুর ব্লকের সভাপতি পরিবর্তনের দাবি জানান বিপ্লব মিত্র বলে সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, গঙ্গারামপুর টাউন সভাপতি অশোক বর্ধন ও জেলা কমিটিতে স্থান পাওয়া আনন্দ দাস, আনোয়ার হোসেন, সরফরাজ আলীকে জেলা কমিটি থেকে সরিয়ে দেবার দাবি জানিয়ে সরব হন বিপ্লব মিত্র। সূত্রের খবর, এরপরেই জেলা সভাপতি গৌতম দাস সহ কোর কমিটির অন্যান্যরা একযোগে বিপ্লব মিত্রকে সাঁড়াশি আক্রমণ করেন। তাছাড়া নির্বাচনের আগে আর কোন মতেই নতুন জেলা কমিটি পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলেও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন অনান্য সদস্যরা বলেও খবর।

শিলিগুড়ির বৈঠকে রাজ্য নেতৃত্বের আশ্বাসের পরেও জেলায় কোর কমিটির বৈঠকে এব্যাপারে গুরুত্ব না পাওয়ায় অভিমানে সভা ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে যান বিপ্লব মিত্র। দীর্ঘদিন বাদে দলের মিটিং এ জেলার বরিষ্ঠ নেতাকে দেখতে পেয়ে আবেগে ভিড় জমান প্রচুর নেতা কর্মী। বিপ্লব মিত্র অবশ্য জানিয়েছেন, বৈঠক নিয়ে তার কিছু বলার নেই। যা বলার সভাপতিই বলবেন। জেলা সভাপতি গৌতম দাস জানিয়েছেন, কোর কমিটির বৈঠক আরও আগেই করার কথা ছিল। বিপ্লব দার শারিরীক অসুস্থতার কারনেই তা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন পরামর্শ শোনা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ চলবে।

Related Articles

Back to top button
Close