fbpx
কলকাতাহেডলাইন

আমার নামে বিজ্ঞপ্তি অথচ আমিই জানি না,পুরসভা নিয়ে আবার বিস্ফোরক রাজ্যপাল

শংকর দত্ত, কলকাতা: এবার কলকাতা পুরসভার প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি নিয়ে আবার সরব রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। কলকাতা পুরসভার ৬ মের বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে রাজ্য সরকার কেন তাঁকে অন্ধকারে রাখলো,কেনই বা ওই বিষয়টি আগে তাঁর কাছে পাঠিয়ে অনুমোদন নেওয়া হলো না সেটাই তাঁর মুখ্য অভিযোগ। এ নিয়ে নিত্য দিনের মতোই আবার তিনি ৭ মে টুইট করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন রাজ্য রাজনীতিতে। তাঁর বক্তব্য, ‘কলকাতা পুরসভা নিয়ে ৬ মে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তি রাজভবনে পাঠানো হয়নি,অথচ তা সংবাদ মাধ্যমে চলে গেল। অবিলম্বে তা আমার কাছে পাঠাতে হবে জরুরি ভিত্তিতে।’ তিনি উষ্মা প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমার নামে নির্দেশিকা। অথচ আমিই জানি না। এ বিষয়ে কোনও আলোচনা নেই। আগাম খবরাখবর নেই।’ একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন ও হুঁশিয়ারি, ‘ কোথায় যাচ্ছি আমরা? সবাইকেই সংবিধান মেনে চলতে হবে।’

প্রসঙ্গত রাজ্যপাল হওয়া ইস্তক প্রথম থেকেই রাজ্যের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত লেগেই আছে। কোনও পত্র যুদ্ধ তো কখনো টুটিটার বোমা। কখনও মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে চিঠি দিয়ে তাঁর অধিকার ও ক্ষমতা নিয়ে সতর্ক করেছেন তো কখনো তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন সংবিধানে ঠিক কীকী বলা আছে। এই সব করতে গিয়ে তাকে অবশ্য মূল্যও চোকাতে হচ্ছে অনেক। শাসক শিবিরের কাছে তিনি পদ্মপাল নামে অভিহিত হচ্ছেন। কখনো বা সরকার পক্ষের লোকজন রাজভবনকে বিজেপির সদর দপ্তর বানাতে তিনি উদ্যোগী বলেও পরিহাস করেছেন। যদিও রাজ্য বিজেপির প্রধান কর্তারা তাঁর এই এক রোখা মনোভাবকে মানবতার পক্ষে শুভ বলেই মনে করছেন। আর তিনি নিজেই বার বার বলেছেন, ‘আমি রাজ্যের মানুষের সমস্যা হলেই মুখ খুলবো। রাজ্যের মানুষের সুরক্ষার জন্য সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে আমার রাজ্যপাল হিসাবে একটা দায়িত্ব থেকে যায়।’

আরও পড়ুন: বঙ্গের বাঙ্গালী মহারাজা প্রতাপাদিত্যের রাজ্যাভিষেক দিবস

বুধবার ও বৃহস্পতিবার তিনি পরপর কয়েকটি টুইট করেন। যেখানে মূলত রাজ্যের রেশন ব্যবস্থার কালোবাজারি নিয়ে তিনি সরব হন। এমনকী এই লকডাউনে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্য কতখানি খাদ্য শস্য পাচ্ছে সেইসব উল্লেখ করেন। আর বৃহস্পতিবার সরাসরি কলকাতা পুরসভার প্রশাসক পদের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে হইচই ফাকে দেন।এদিন তাঁর টুইটের মাধ্যমে তিনি এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা তাঁকে পাঠানোর জন্য মুখ্যসচিবকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। এমনকি নির্দেশিকা জারি হলে তাঁকে কেন জানানো হইবে না সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলে খোঁচা দেন রাজ্য সরকারকে। পর্যবেক্ষক মহলের ধারনা কলকাতা পুরসভার মেয়াদ বাড়াতে গেলে রাজ্য সরকারকে আলাদা ভাবে অর্ডিন্যান্স জারি করতে হতো। আর সেক্ষেত্রে রাজ্যপালের অনুমোদন ছাড়া তা করাই যেত না।তাই তাঁকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই অন্য নিয়মে পুরসভায় প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও সেই বিজ্ঞপ্তি নিয়েও রাজ্যপাল সরকারকে এক প্রকার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাখলেন বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন এই টুইট-বিতর্ক কোনদিকে যায়,সেদিকেই তাকিতে রাজবাসী।

Related Articles

Back to top button
Close