fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতা

এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা, খুব তাড়াতাড়িই প্রকাশ পাবে উচ্ছ্বাসের ফল, আশঙ্কায় চিকিৎসকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি:  কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পুজোর মন্ডপে দর্শক প্রবেশ করতে পারেনি। কিন্তু তা সত্ত্বেও লাগামছাড়া ভিড় উপচে পড়েছে রাজপথে। তার একটা বড় অংশের মুখে দেখা যায়নি মাস্ক। যথারীতি মানা হয়নি দূরত্ববিধিও। যে বিষয়গুলি নিয়ে চিন্তিত চিকিৎসক মহল। যদিও বিসর্জনের সময় অনেক বেশি সক্রিয় দেখিয়েছে রাজ্য প্রশাসনকে। কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করে প্রতিমা বিসর্জনের পাশাপাশি কলকাতায় গঙ্গার ঘাটগুলিকে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। গার্ডরেলের বেষ্টনি পেরোতে দেওয়া হয়নি প্রতিমা বিসর্জন দিতে আসা সকলকে। যা দেখে চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, এই কঠোর অবস্থান পুজোর দিনগুলিতে যদি আরও ভালভাবে রাজ্য প্রশাসন নিত, তাহলে অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকা যেত।

এক সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ বলেন, “পুজোর উদ্যোক্তা ও প্রশাসনের সকলে নিজের দায়িত্ব পালন করেননি,  মেনে নিলাম। কিন্তু মানুষ কী করে এতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করলেন, সেটাও তো প্রশ্ন। মানুষজন কি পুরনো স্মৃতি সব ভুলে গিয়েছেন!”

কলকাতার এক করোনা চিকিৎসার হাসপাতালের প্রবীণ চিকিৎসক জানাচ্ছেন, “এখন সময়ের অপেক্ষা। এত দিনের দাপাদাপির ফলাফল প্রকাশ পাবে খুব তাড়াতাড়ি। তাতে শতাংশের হিসেবে পাশ ও ফেলের মধ্যে কোনটা বেশি হবে, তা এখন বলা যাচ্ছে না। ভিড়ে ঠাসাঠাসি করা লোকজনের ক’জন আক্রান্ত হবেন, আর ক’জন হবেন না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে গতিক ভাল নয়। মৃদু উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও বহু মানুষই এখন করোনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না।”

এই প্রবণতা আরও বড় রকমের বিপদ ডেকে আনবে বলে অনেক চিকিৎসকের আশঙ্কা। কারণ, মৃদু উপসর্গ যুক্ত করোনা রোগীরা অবাধে রাস্তায় ঘুরে ভাইরাস ছড়াতে থাকবেন। কো-মর্বিডিটি থাকা কিংবা বয়স্ক ব্যক্তি তাতে আক্রান্ত হলে বিপদ কয়েক গুণ বাড়বে। এমনকী প্রাণসংশয়ের আশঙ্কা পর্যন্ত করছেন চিকিৎসকরা। করোনার তৃতীয় ঢেউ যে কোনও মুহূর্তে আছড়ে পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গে, এই সতর্কবার্তা বহুবার দিয়েছেন চিকিৎসকরা। গতবার পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও এবছর সেটা করা যায়নি। যা নিয়ে চিন্তিত চিকিৎসকরা।

শহরের এক প্রবীণ চিকিৎসকের কথায়, “পুজো বন্ধের কথা কেউ বলেননি। শুধু বলা হয়েছিল, পুজোর উচ্ছ্বাসে রাশ টানা হোক। রাস্তায় ভিড় ঠেলে প্যান্ডেল হপিং বন্ধ রাখা হোক। করোনা বিধি মেনে নিজের বাড়ি বা পাড়ার মণ্ডপে থাকতে তো কাউকে বারণ করা হয়নি। কিন্তু কে আর কথা শুনলেন!” চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, করোনা পরীক্ষা অত্যন্ত কম হওয়ার ফলেই আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। তাই খাতায়-কলমে মাঝেমধ্যে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও, বেড়ে যাচ্ছে পজিটিভিটি রেট।

সবচেয়ে বড় কথা টিকার জোড়া ডোজ়ের পরেও অনেকেই সংক্রমিত হয়েছেন।  বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কের সঙ্গে জানাচ্ছেন, “অতিমারির বাঘ কাকে পুরো কামড়াবে, আর কাকে থাবা মারবে, সেটা আগাম বলা সম্ভব নয়।” অর্থাৎ আগামী দিনগুলিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বহুগুণে বাড়তে পারে বলে মনে করছে চিকিৎসক মহল।

Related Articles

Back to top button
Close