fbpx
অন্যান্যঅফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

এবার মসজিদ হবে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ! উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন মুসলিমরা

ইমাদ উদ্দিন মজুমদার, কাটিগড়া: মসজিদেও গড়ে উঠবে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। কাছাড় জেলার কাটিগড়ার গুমড়ার এক মসজিদকে এরজন্য বাছাই করে রেখেছে প্রশাসন। ত্রিতল বিশিষ্ট সুদৃশ্য এই মসজিদ হবে কাছাড়ের প্রথম কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের জন্য বাছাই করা মসজিদ। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন মুসলিমরাও।

বহিঃভারত থেকে সড়ক পথে বরাক উপত্যকায় প্রবেশ করলে কাছাড়-মেঘালয় সীমান্ত অতিক্রম করে কিছু দূর এগোলেই ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে দেখা মিলবে সুদৃশ্য এক মসজিদ। গুমড়া পাইকান জামে মসজিদ নামে পরিচিত এই সুদৃশ্য মসজিদ হবে কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের জন্য কাছাড় জেলা প্রশাসনের বাছাই করা স্থানগুলির তালিকায় রয়েছে এই মসজিদের নাম। কোনও মসজিদকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করার জেলার মধ্যে এটি প্রথম। কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের তালিকায় নিজেদের মসজিদের নাম দেখে কিন্তু মোটেই বিচলিত নন এলাকায় মানুষ। মসজিদ কমিটি থেকে শুরু করে এলাকার মানুষ প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মসজিদের দোয়ার খোলে দেওয়ার জন্য যেন অধীর আগ্রহে থাকিয়ে আছেন। বিষয়টাকে মানব সেবার এক সেরা সুযোগ হিসাবেই দেখছেন মসজিদ পরিচালন কমিটির কর্মকর্তারা।

রবিবার দুপুরে গুমড়া পাইকান জামে মসজিদে গিয়ে দেখা যায় তালা বন্ধ মসজিদের মূল ফাটক।লকডাউনের শুরু থেকেই সরকারের নির্দেশ মেনে তালা বন্ধ মসজিদ।মূল ফাটকে ঝুলানো রয়েছে একটা বিজ্ঞপ্তি। জনসমাগম এড়াতেই মসজিদের মূল ফাটক বন্ধ করে বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যাতে এলাকার মানুষ নামাজ বা অন্যান্য ধর্মীয় কাজের জন্য মসজিদে এসে ভীড় না করেন।

বর্তমানে রমজান মাস চলছে। এ প্রতিবেদক মসজিদের সামনে যখন উপস্থিত হন তখন জুহরের (দুপুরের নামাজ) নামাজের সময়। কিন্তু তা সত্ত্বেও জনমানবশূন্য মসজিদ।সাংবাদিকের উপস্থিতির খবর পেয়ে কিছুক্ষণ পর অবশ্য জড়ো হন মসজিদ কমিটির কর্মকর্তারা। ইমদাদুল হক মজুমদার,মাসুম আহমদ বড়ভূঁইয়া, সরিফ উদ্দিন লস্কর,মসজিদ কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন লস্কর,সম্পাদক আব্দুল সবুর বড়ভূঁইয়ারা এসে হাজির হন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা জানান, কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের জন্য মসজিদের নাম তালিকাভূক্ত হওয়ায় বেজায় খুশি তাঁরা। বিশ্বত্রাস কোভিড-১৯-এর এই সময় তাঁদের মসজিদকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসাবে গড়ে তোলার প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে তাঁরা স্বাগত জানান। এমনটা হলে বর্তমান এই দুঃসময়ে মানব সেবার এক উত্তম সুযোগ পাবেন এলাকার মানুষ।

মসজিদ পরিচালন কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন লস্কর জানান, ত্রিতল এই মসজিদে গ্রাউন্ড ফ্লোর অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। ফাস্ট ফ্লোর আর সেকেন্ড ফ্লোরে চলে নামাজ। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে তাও বন্ধ। মসজিদকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হলে তাঁদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু পরিকাঠামোগত কিছু সমস্যা রয়েছে। এনিয়ে কিছুটা দুঃশ্চিতায় রয়েছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, ১০০ জন লোকের থাকার ব্যবস্থা না হয় হয়ে যাবে কিন্তু এত লোকের শৌচালয়ের ব্যবস্থা নেই। নেই পানীয়জলের সুবন্দোবস্ত।

সাধারণত মসজিদের লোকজনের থাকার প্রয়োজন হয় না। তাই একাধিক লোকের থাকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া তড়িঘড়ি অস্থায়ী হিসাবে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো জায়গারও অভাব রয়েছে। মসজিদ ক্যাম্পাসে বা তার আশেপাশে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো খালি জায়গাও নেই,জানান সভাপতি।প্রায় একই কথা বলেন, ইমদাদুল হক মজুমদার,সরিফ উদ্দিন লস্কররাও। তাঁদের কথায়,ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের পাশাপাশি মানব সেবার লক্ষ্যেই গড়ে উঠেছিল এই মসজিদ।

বর্তমান এই দুঃসময়ে মানব সেবার এক বড় সুযোগ পাওয়া গেছে।এই সুযোগকে হাতছাড়া করতে নারাজ তাঁরা। কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের জন্য গুমড়ার এই মসজিদকে চিহ্নিত করায় সরকার, প্রশাসনকে ধন্যবাদও জানান। ইমদাদুলবাবুর কথায়, মসজিদের পরিকাঠামোগত কিছু সমস্যা থাকায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টার গড়া নিয়ে দুঃশ্চিতায় রয়েছেন এলাকার মানুষ। সমস্যা গুলো মিটিয়ে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হলে কোন আপত্তি নেই। বরং করোনা যুদ্ধে নিজেদের সামিল করতে পেরে গর্ববোধ করবে গোটা মুসলিম সমাজ।মানব সেবার চেয়ে বড় যে আর কিছুই হতে পারে না এমনটাও বলেন মসজিদ পরিচালন কমিটির কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, মসজিদের পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা ইতিমধ্যে কাটিগড়ার সার্কল অফিসারকে জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কাটিগড়া রাজস্ব চক্রে আটটা স্থানকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুমড়ার পাইকান বড় মসজিদ। এই তালিকায় রয়েছে অডিটরিয়াম সিদ্ধেশ্বর প্রগতি সংঘ,বন বিভাগের বাংলো, দেশবন্ধু ক্লাব,প্রশান্তি লজ, কাটিগড়া গ্রাম উন্নয়ন পরিষদ, শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু আখড়া, ভুবনেশ্বর সাধু ঠাকুর আশ্রম।

Related Articles

Back to top button
Close