fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আবহে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বাড়ছে বন্দী সংখ্যা, কপালে চিন্তার ভাজ কর্তৃপক্ষের

দুলাল সিংহ, দক্ষিণ দিনাজপুর: দিন দিন বাড়ছে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের বন্দী সংখ্যা, অথচ নেই পর্যাপ্ত সংখ্যক ঘর, কপালে চিন্তার ভাজ সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের। জানা গেছে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বর্তমানে সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন বন্দী সংখ্যা ৫৪৭। যাদের মধ্যে রয়েছে ৫০৪ জন পুরুষ, ৪৩ জন মহিলা বন্দী এবং ১০ জন শিশু রয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সংশোধনাগার পরিষেবার মহানির্দেশক অফিস সূত্রে খবর কেন্দ্রীয় সরকারের গাইড লাইন মেনে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনারে আগত নতুন বন্দীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ প্রেরণ করা হয়েছে সংশোধনাগার পরিষেবার মহানির্দেশকের অফিসের পক্ষ থেকে। বিশেষ সূত্র মারফৎ খবর যে নির্দেশকে কার্যকর করতে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষও সংশোধনাগারে আগত নতুন বন্দীদেরকে আলাদা আলাদা ঘরে কোয়ারেন্টাইন করে রাখার ব্যবস্থা শুরু করে।

সূত্র মারফৎ এও খবর শুধু গত ৪-ই মে থেকে গত ১০-ই মে অবধি বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে আগত নতুন বন্দীর সংখ্যা ৪২। জানা গেছে সরকারি নির্দেশ পালনে খামতি না রেখে আগত নতুন বন্দীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ঘরের সংখ্যা কম থাকায় বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ সংশোধনাগারের একাধিক ওয়ার্ড ফাকা করে আগত নতুন বন্দীদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করেছে। বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার বন্দীদের পরিবার সূত্রে খবর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রেরিত নির্দেশ কার্যকর করতে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের মানসিক ভারসাম্যহীন বন্দীদের ওয়ার্ড খালি করে সেই ওয়ার্ডে নতুন বন্দীদের কোয়ারেন্টাইন করে রেখেছে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। যার ফলে পর্যাপ্ত ঘরের অভাবে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের মানসিক ভারসাম্যহীন ওয়ার্ডে থাকা ১৩ জন মানসিক ভারসাম্যহীন বন্দীদের বর্তমানে রাখা হয়েছে সাধারণ বন্দীদের সাথেই। যদিও এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে কোনরুপ তথ্য দিতে চায়নি বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ-এর বিল মকুবের দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ বিজেপির

অপরদিকে পর্যাপ্ত ঘরের অভাবে সাধারণ বন্দীদের সাথে মানসিক ভারসাম্যহীন বন্দীদের রাখা কথা সংশোধনাগারের বন্দীদের পরিবারের লোকেদের কানে পৌছাতেই বন্দীদের পরিবারের সদস্যরা রীতিমত আতঙ্কে। তাদের বক্তব্য এটি বিপদ জনক, এতে যেকোন সময় সাধারণ বন্দীদের প্রাণ সংশয় হতে পারে। বন্দীদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের বন্দীদের থাকার মূল ভবনের পাশেই রয়েছে সংশোধনাগারের এনেক্স বিল্ডিং, যেখানে বন্দীদের থাকার জন্য ৮ টি ব্লক নির্মিত হয়েছে। বন্দীদের পরিবারের লোকেদের বক্তব্য সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ সাধারণ বন্দীদের মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন বন্দীদের না রেখে পাশের এনেক্স বিল্ডিংটি ব্যবহার করুক বন্দীদের রাখার জন্য। অপর একটি সূত্র মারফৎ জানা গেছে সংশোধনাগার পরিষেবার মহানির্দেশকের অনুমতিক্রমে বালুরঘাট সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এনেক্স বিল্ডিংটি ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বিল্ডিং চারিদিকে থাকা উচু পাচিলের একটি ফাটল বন্ধ করার নির্মাণ কাজের জন্য পূর্ত দপ্তরের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঠানো সেই আবেদন বর্তমানে পূর্ত দপ্তরের লাল ফিতেয় এখন আটকে। ফলে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ চাইলেও সেই বিল্ডিংটি ব্যবহার করতে পারছে না। যদিও এই বিষয়েও মুখে কুলু এটেছে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। গোটা বিষয়টি সম্পর্কে এদিন বন্দীদের পরিবারের পরিবারের সদস্যরা প্রশ্ন তুলে বলেন মুম্বাই অর্থার রোড জেল-এ কোভিড-১৯ সংক্রমণের মত যদি এখানে ঘরের অভাবে বন্দীদের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণের মত কোন ঘটনা ঘটে তাহলে তার দার কে নেবে।

ঘটনা প্রসঙ্গে প্রাক্তন কারামন্ত্রী বিশ্বনাথ চৌধুরী বলেন বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে তিনি এও বলেন সিগনিফিকেন্স করে রাখা দরকার। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পূর্ত দপ্তর সূত্রে খবর তারা কাজের টাকা পেলে ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে তারা বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের এনেক্স বিল্ডিং-এর পাচিলের কাজ করে দেবে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে এদিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জেলা শাসককে একাধিকবার ফোন করা হলেও উনি ফোন না ধরায় জেলা শাসকের বক্তব্য জানা যায়নি।

Related Articles

Back to top button
Close