fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় কালনা হাসপাতালে নার্স চিকিৎসকদের মারধোর, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিনিধি, কালনা: চিকিৎসার গাফিলতিতে মাতৃগর্ভে শিশুর মৃত্যু! এমনিই এক অভিযোগ তুলে রোগীর আত্মীয় পরিজনেরা কালনা হাসপাতালের কর্মী সহ চিকিৎসক ও নার্সদের উপর চড়াও হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল হাসপাতালে। খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ বলে জানা যায়।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কালনা নান্দাই পঞ্চায়েতের অন্তর্গত নান্দাই গ্রামের বাসিন্দা বিউটি বিবি রবিবার বিকেলে কালনা মহকুমা হাসপাতালে প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে ভর্তি হন। সোমবার দুপুর ১টা নাগাদ তার পরিবারের লোকজনরা হঠাৎই জানতে পারেন বিউটি বিবির গর্ভস্থ সন্তান মারা গিয়েছে। এরপরই উত্তেজনা ছড়ায় কালনা মহকুমা হাসপাতালে। উত্তেজিত রোগীর আত্মীয় পরিজনরা চড়াও হয় কালনা মহকুমা হসপিটালের নার্স ও চিকিৎসকদের উপর। বেশ কয়েকজন কর্মীকে মারধোর করারও অভিযোগ ওঠে। এরপরই নিরাপত্তাহীনতার দাবি নিয়ে কাজ বন্ধ করে নার্সরা সুপারের ঘরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় কালনা মহকুমা হাসপাতালে।

খবর পেয়েই কালনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। মৃত শিশুর পরিবারের লোকেরা পুলিশের সামনেই চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তোলেন। সেই কারণেই গর্ভস্থ সন্তান মারা গেছে বলে জানান। কালনা হাসপাতাল সুপারের কাছেও অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে রোগীর আত্মীয় পরিজনরা। এই বিষয়ে রোগীর আত্মীয় খাদিম সেখ জানান, হাসপাতালে ভর্তি করার পরেও স্যালাইন ওষুধ কিছুই দেয়নি। যন্ত্রনায় ছটফট করছিল। চিকিৎসাই করেনি।নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও নিয়ে যেতে দেয়নি। এরমধ্যেই হঠাৎ করে হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায় আমাদের বাচ্ছা মারা গেছে। এরপর নার্সরাও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।

এই বিষয়ে হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বড়াই বলেন, রোগীর আত্মীয় পরিজনেরা চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মীদের মারধোর করে। হাসপাতাল ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় জখম হন ১৫ জন।নিরাপত্তাহীনতার দাবি নিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন নার্সরা। হাসপাতাল ও পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলে তারা আবার কাজ শুরু করেন। ওই প্রসূতির গর্ভাবস্থায় থাকা বাচ্ছার অবস্থা ভালো ছিলো না।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব দাস।

Related Articles

Back to top button
Close