fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পুষ্টিকর খাদ্য-মাশরুম

নিজস্ব প্রতিনিধি: মাশরুম খুবই লাভজনক চাষ। যত দিন যাচ্ছে মাশরুম ততই লাভজনক চাষ হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে সারা পৃথিবীতে এমনকী ভারতে। ব্যবসায়িক ভিত্তিতে মাশরুম চাষকেˆ বেশ লাভজনক বলা যায়। এগ্রিকালচার খাদ্য হিসেবে বটন মাশরুম শীতকালে বাজারে খুবই বিক্রি হয় সারা দেশে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল প্রথম মাশরুম চাষ শুরু হয় চিন দেশে। আমাদের দেশে মাত্র কয়েক বছর আগে মাশরুম চাষ শুরু হয় প্রথম হিমাচলপ্রদেশে, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশে এবং পরে দক্ষিণ ভারতের কর্নাটক রাজ্যে।

রান্নায় একটি সমৃদ্ধ খাদ্য হিসেবে মাশরুমকে খাদ্য তালিকায় অনায়াসেই রাখা যায়। এখন পশ্চিমবাংলার অনেক জায়গাতেই মাশরুম কিছু কিছু চাষ হচ্ছে। বটন মাশরুমে যে কোনও সবজি বা ফল এর তুলনায় অনেক বেশি প্রোটিন থাকে। নিযমিত মাশরুম খেলে কলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাছাড়াও মাশরুমে ভিটামিন-বি, ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-ডি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। তাছাড়াও অন্যান্য খাদ্যগুণের ভিতর আছে আয়রণ এবং পটাশিয়াম। সে জন্য এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন ইউনাইটেড নেশন মাশরুমকে স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ঠান্ডার সময় অর্থাৎ শীতকালে পশ্চিমবঙ্গে মাশরুম চাষ খুব ভালো হয়। কেন্দ্রীয় সরকার মাশরুমকে আরও জনপ্রিয় করার জন্য বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দায়িত্ব দিয়েছে স্থানীয় চাষিভাইদের মিশ্রণ দেওয়ার জন্য। তাছাড়াও মাশরুম চাষকে আরও বেশি উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার চাষিভাইদের অনেক সাবসিডি দিয়ে থাকেন। বটন মাশরুম ছাড়াও ভারতবর্ষে আরও কয়েকটি প্রজাতির মাশরুম চাষ হয়ে থাকে। যেন অয়েস্টার মাশরুম, ধানের স্ট্র মাশরুম। তবে বটন মাশরুম সর্বাধিক জনপ্রিয়। বটন মাশরুম দেশের বড় বড় শহরের বিভিন্ন হোটেলে বিক্রি হয়। অনেক বাড়িতেও এই মাশরুম রান্না করা হয়।

আরও পড়ুন: স্থিতিশীল ফুয়াদ হালিম, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন সিপিএম নেতা

মাশরুম চাষ কিভাবে করা হয়?

প্রথমে মাশরুমের বীজ যোগাড় করতে হবে তার প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে। ঐ বীজকে স্পন বলা হয়। এরপর কম্পোস্  এর প্রয়োজন। শেষে দড়িতে মাশরুম স্পন ছিটিয়ে দিলে কয়েকদিনের মধ্যে বটন মাশরুম প্রচুর পরিমাণে বের হতে থাকে। ঘরের বাইরে মাশরুম তৈরি করলে বের হতে তার ২৮ দিন সময় লাগে। গমের খড়ের উপর বীজ কিছুটা ছড়িয়ে দিন। এরপর তার উপর ৪ কেজি ইউরিয়া, ৩ কেজি পটাশ, ৩ ফসফেট কেজি এবং জিপসাম ব্যবহার করতে হবে। তার উপরে মাঝে মাঝে জল স্প্রে করতে হবে।

এই খড়ের গাদায় যেখানে মাশরুমের বীজ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই জায়গায় কিছুদিন পর পর জল ছিটিয়ে দিন।

মাশরুমের জন্য কম্পোস্ট  কি করে তৈরি করবেন?

এতে থাকবে আই.এম.টি খড়, ৬০০ কেজি মুরগীর লিটার,  ইউরিয়া ১৫ কেজি এবং জিপসাম ৫০ কেজি। মাশরুম তৈরি হয়ে গেলে প্রয়োজনমতো প্যাকিং করতে হবে। মাশরুম তৈরি খরচ এবং আয়-

১) একটি ঘর ৩০-১৭  ভাড়া বাবদ ২৫০০০ টাকা লাগে|

২) স্প্রে করার খরচ-১৫০০ টাকা লাগে।

৩)দুটো বাল্টি-৫০০ টাকা।

৪)ওজন করার যন্ত্র-৫০০টাকা।

৫)অন্যান্য খরচ-৫০০টাকা।

মোট খরচ-আনুমানিক ২৮০০০ টাকা। মোট লাভ আপনি পাবেন ১৮০০ কেজি মাশরুম যার বাজার দর ৬০ টাকা প্রতি কেজি। মোট- ১,০৮,০০০।

মোট লাভ- ৮১০০০ টাকা (১,০৮,০০০-২৮,০০০)

সারা বছরে ৩-৪ বার মাশরুম তৈরি করা যায়।

দেশের যে সব জাযগায় সারা বছর ঠান্ডা থাকে, সেখানে আরও বেশি ভালো করে মাশরুম চাষ করা যায়।

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close