fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় অশ্লীল নাচের আসর… ‘শাসকদলের মদতেই এই ধরনের অনুষ্ঠান’, মন্তব্য খগেন মুর্মুর

মিল্টন পাল, মালদা: উত্তরপ্রদেশের কায়দায় মালদার বিভিন্ন জায়গায় চলছে অশ্লীল নাচ। তাও আবার পুলিশের নাকের ঢগায়। করোনা আবহে কার্যত সরকারি নির্দেশকে উপেক্ষা করেই চলছে এই অনুষ্ঠান। কালিয়াচকের গোলাপগঞ্জের পর এবার কালিয়াচক ২নম্বর ব্লকের পঞ্চনন্দপুর এলাকায় বসানো হয়েছে অশ্লীল নাচের আসর। আর সেখানেই চলছে মোচ্ছব। ‘এর পেছনে প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে রাজ্যের শাসক দলের নেতার। না হলে করোনা আবহে কিভাবে এই অশ্লীল নাচের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় পুলিশ’, এই প্রশ্ন উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর।

জানা গিয়েছে, কালীপুজো উপলক্ষ্যে প্রতিবছর এই কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের পঞ্চনন্দপুর এলাকায় দুই দিনব্যাপী সারারাত এই নাচের আসর বসানো হয়। যেখানে বহিরাগত নর্তকীদের দিয়ে নাচ করানো হয়। যেখানে ওই এলাকার মানুষ তো বটেই আশপাশের বিভিন্ন ব্লকের মানুষ সারারাত ব্যাপী এই অশ্লীল নাচের আসরে যোগদান করে। করোনা আবহে যেখানে উচ্চ আদালত থেকে রাজ্য প্রশাসন উৎসবের মরশুমে বিভিন্ন নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে থানা থেকে বেশ কিছুটা দূরে গ্রামের ভেতরে মঞ্চ বেঁধে অশ্লীল নাচের অনুমতিদের পুলিশ প্রশাসন।

উল্লেখ্য ,সম্প্রতি বেশ কয়েকদিন আগে গোলাপগঞ্জ পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান সাবিনা ইয়াসমিন তার স্বামী জাইসুদ্দিনের নেতৃত্বে, অশ্লীল নাচের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গোলাপগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের চকমাইলপুর গ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা সদস্য বকুল মিয়াঁ প্রকাশ্য মঞ্চে উঠে মেয়েদের সঙ্গে নাচ করছে ও টাকা বিতরণ করছে ধরা পড়েছে তেমন ছবিও। দুইদিন ধরে চলে এই অনুষ্ঠান। একজন তৃণমূলের নেতা কিভাবে এ ধরনের কাজ করে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এরপর আবার মালদার পঞ্চানন্দপুরে এই অশ্লীল নাচ। কিভাবে হচ্ছে উঠছে প্রশ্ন। বড় প্রশ্ন জেগেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কিভাবে এত মানুষকে একত্রিত হয়। এধরনের আসর বসাতে দেয় পুলিশ। যদি অনুমতি না নিয়ে থাকে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, ‘বর্তমান শাসকদল প্রত্যক্ষ মদত দিয়ে এ ধরনের অশ্লীল নাচ করাচ্ছে। তাদের অনেক নেতারাও এতে অংশগ্রহণ করছে। দুদিন আগেই এই ছবি আমরা দেখেছি। বাংলা কৃষ্টি সংস্কৃতিকে নষ্ট করছে এরা। শাসক দলের প্রত্যক্ষ মদত না থাকলে পুলিশ এই ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় কিভাবে। গ্রামে অনুষ্ঠান চলছে দুইদিন ধরে অথচ পুলিশ জানে না এটা হয় না। আমরা চাই এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক যেখানে করোনা অতিমারী চলছে। কিভাবে এই অশ্লীল নাচের অনুষ্ঠন হচ্ছে প্রশ্ন বিজেপির?

আরও পড়ুন: করোনা আক্রান্ত সুয়ারেজ

জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, সামাজিক অবক্ষয় যেখানে গিয়ে পৌঁছেছে সেখান থেকে শাসক বা বিরোধী দল কেউ রক্ষা পাবে না। পেটের তাগিদে বহিরাগত মহিলারা জেলার বিভিন্ন জায়গায় এসে অনুষ্ঠান করছে। বিভিন্ন ক্লাব সংগঠন তাদের নিয়ে আসছে। নিজেদের রুচির যতক্ষণ পরিবর্তন না হবে ততক্ষণ পুলিশ দিয়ে আইন দিয়ে বন্ধ করা যাবে না। নিজেদের মধ্যে চেতনা না আসলে এগুলো চলতেই থাকবে। যদিও ঘটনা নিয়ে জেলার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Related Articles

Back to top button
Close