fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সাগরে স্বাস্থ্য শিবিরে প্রশাসনের বাধা, ফিরে আসলেন চিকিৎসকদল!

নিজস্ব  প্রতিনিধি, সাগর: সাগর দ্বীপে আমফান বিধ্বস্ত মানুষদের জন্য পরিচালিত স্বাস্থ্য শিবির প্রশাসনের বাধায় ফিরে আসতে হল চিকিৎসকদলকে। এমনই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।

 

 

রবিবার কলকাতার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. অর্চনা মজুমদার সাগরে আমফান বিধ্বস্ত মানুষদের জন্য স্বাস্থ্য শিবির করতে গিয়ে বাধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। এদিন তিনি যুগশঙ্খকে বলেন,‘ আমফান কবলিত মানুষদের স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে আমি দক্ষিণ বঙ্গে ২৭ টি স্বাস্থ্য শিবির করেছি। কিন্তু কোথাও প্রশাসনের বাধার সম্মুখিন হইনি। কিন্তু অদ্ভুত ঘটনা ঘটল সাগরে রবিবার শিবির করতে গিয়ে, প্রশাসনের বাধায় আমরা চিকিৎসক দলকে নিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হলাম।’

 

 

অর্চনা মজুমদার বলেন, ‘শনিবার আমাদের স্বাস্থ্য শিবির ছিল কাকদ্বীপে। স্বাস্থ্য শিবির করতে গেলে প্রশাসনের কোনও অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তাও আমি প্রতিটি স্বাস্থ্য শিবির করার আগে স্থানীয় থানায় ইমেল করে জানিয়ে থাকি। কাকদ্বীপেও জানিয়ে ছিলাম থানাকে। কিন্তু ওখানকার স্থানীয় আয়োজকরা আমায় জানান, শুক্রবার রাতে থানার পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্বাস্থ্যশিবিরে স্থানীয়দের আসতে বারণ করা হয়েছে। তাও আমাদের শিবির হয় ওইদিন। ৪৭০ জন মানুষকে আমরা ওষুধ সহ চিকিৎসা পরিষেবা দিই। রবিবার সকালে লঞ্চে করে মুড়িগঙ্গা নদী পেরিয়ে আমাদের সাগরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লঞ্চমালিককে বারণ করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পুলিশের বিভিন্ন কর্তাব্যাক্তিরা আমায় ফোন করে বার বার বাধা দেন না যাওয়ার জন্য। যদিও আমি আগেই সাগর থানাকে ইমেল করে শিবিরের বিষয়ে জানিয়ে ছিলাম।’

 

 

ডা, মজুমদারের অভিযোগ করে বলেন,‘ আমি জানতে পেরেছি, লঞ্চের চালক ও সাগরে যাঁরা স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা করেছিলেন তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়। যাতে শিবির না হয়। আমরা ৫ জন চিকিৎসক সহ বারো জনের দল লঞ্চঘাট থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হলাম। আমার প্রশ্ন, আমরা কোনও রাজ্যে বাস করছি। কোনও রাজনৈতিক ব্যানারে এই শিবির হয়নি তাহলে এই বাঁধা কেন? সম্পূর্ণভাবে একক প্রচেষ্টায় গরিব মানুষদেও স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হল তা অকল্পনীয়। রাজ্য সরকার খালি মুখেই বলছে সবাই হাতে হাত রেখে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি একদমই অন্যরকম। এখানেই শাসকদলের কাছেই একমাত্র মানুষের সেবা করার অধিকার আছে, আর কারোর পারমিশন নেই।’

Related Articles

Back to top button
Close