fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পরিযায়ী দলে মিশে এসেছিল উড়িষ্যা থেকে বাংলায়, ঘরে ফিরল রাধাগোবিন্দ

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: অবশেষে বাড়ি ফিরল সে। কিছুদিন আগে লকডাউনের মধ্যে পথ ভুল করে ভিন রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে উড়িষ্যা থেকে বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমান্ত পার করে বাংলার পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুড়িয়া এলাকায় চলে আসে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবক। প্রায় দুমাস ধরে বাড়ি থেকে নিঁখোজ থাকা সেই যুবককে পরিবারের হাতে তুলে দিলো আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের জামুড়িয়া থানার পুলিশ।

জানাগেছে, লক ডাউনের মধ্যেই গত ৪ এপ্রিল উড়িষ্যার বস্তা থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল রাধাগোবিন্দ প্রধান ওরফে বিজু নামে ঐ যুবক । রাধাগোবিন্দ মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলো । সেদিন সে বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলো। তারপর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। বাড়ির লোকেরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরে গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে স্থানীয় থানায় একটি মিসিং ডায়েরি করেন। শেষ পর্যন্ত জামুড়িয়ার বাহাদুরপুর এলাকা থেকে রাধাগোবিন্দকে পাওয়া যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিন সাতেক আগে জামুড়িয়ার কেন্দা ফাঁড়ির অফিসার পরিমল বিশ্বাস গভীর রাতে এলাকায় টহল দেওয়ার সময় বাহাদুরপুর মোড় সংলগ্ন রাস্তায় ঐ যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন৷ তিনি তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন। পুলিশ অফিসার দেখেই বুঝতে পারেন যুবকটি মানসিক ভারসাম্যহীন। যুবকটিকে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে রেখে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। দিন কয়েক পরে সে বেশ কিছুটা স্বাভাবিক হয়। এরপর পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, তার নাম রাধাগোবিন্দ প্রধান। তার ডাক নাম বিজু। উড়িষ্যার বালেশ্বর জেলার বস্তা থানার মেরাইন ফাঁড়ি এলাকায় তার বাড়ি। সঙ্গে সঙ্গে কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশ মেরাইন ফাঁড়িতে যোগাযোগ করে জানতে পারে যে, রাধাগোবিন্দ প্রধান নামের এক যুবকের নিখোঁজের ডাইরি হয়েছে। কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশ যুবকের ব্যাপারে মেরাইন ফাঁড়ির পুলিশকে বলে। সেখানকার পুলিশ যুবকের বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কথা জানায়। বুধবার রাতে যুবকের বাবা ও পরিবারের সদস্যরা জামুড়িয়ার কেন্দা ফাঁড়িতে আসেন৷ পুলিশ ঐ যুবককে তাদের হাতে তুলে দেয়।
রাধাগোবিন্দর বাবা যদুনন্দন প্রধান বলেন, গত ৪ এপ্রিল সকালে সাইকেল নিয়ে বাজারে যাবো বলে ছেলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। সেদিন রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় আমরা আশাপাশের সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি। যেহেতু লক ডাউন চলছিলো, তাই ভালো করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে সেই ভাবে খোঁজাখুজি করতে পারিনি। তাই পরের দিনই মেরাইন ফাঁড়িতে ছেলের মিসিং ডায়েরি করি। মঙ্গলবার মেরাইন ফাঁড়ির পুলিশ আমাকে খবর দেয় যে, পশ্চিম বাংলার জামুড়িয়া থানায় আমার ছেলে রয়েছে। সেই খবর পেয়েই পুলিশের অনুমতি নিয়ে ছেলেকে নিতে এসেছি। এতদিন পরে ছেলেকে কাছে পেয়ে যদুনন্দনবাবু খুব খুশি।

রাধাগোবিন্দ পুলিশকে জানিয়েছে, বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পথ ভুল করে অন্যদের মিশে গিয়ে তাদের সঙ্গে চলে এসেছি। রাস্তায় তার সাইকেল চুরি হয়ে যায় বলে সে জানায়।

Related Articles

Back to top button
Close