fbpx
কলকাতাহেডলাইন

পিপিই-র সুরক্ষা জানতে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে বিশেষ যন্ত্রে পরীক্ষার আহ্বান ওএফবির

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে করোনার বিরুদ্ধে সামনের সারিতে লড়াই করছেন চিকিৎসকরা। আর সেই লড়াইয়ে তাঁদের অন্যতম অস্ত্র পিপিই বা পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট। কিন্তু যে হারে এই পিপিই-র চাহিদা বেড়ে গিয়েছে, স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন উঠেছে, চাহিদার চাপে ঠিকঠাক মানের পিপিই তৈরি হচ্ছে তো? সেই বিষয়ে জানতেই এবার নিজেদের নির্মিত বিশেষ যন্ত্রে কৃত্রিম রক্ত নিঃসরণ যন্ত্রে পিপিই প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে পরীক্ষার আহ্বান জানাল অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড। তাদের সরকারি অস্ত্র কারখানায় এই যন্ত্রগুলি রাখা থাকবে।

প্রসঙ্গত পিপিই পরেও চিকিৎসকরা সংক্রামিত হচ্ছেন এমন অভিযোগও জানা গিয়েছে। যেভাবে রাজ্যে চিকিৎসকদের সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে পিপিই-র মান নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। কোনওভাবে পিপিই-র ‘ফেব্রিক’ ভেদ করে যদি করোনা আক্রান্ত রোগীর দেহরস স্পর্শ করে চিকিৎসক, নার্স বা রোগীকে উদ্ধারকারীর শরীরে, তাহলে তিনি সংক্রামিত হয়ে যেতে পারেন।

সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এবার কলকাতার সরকারি অস্ত্র কারখানায় বসছে পিপিই পরীক্ষা করার যন্ত্র। এই যন্ত্রের সাহায্যে কৃত্রিম রক্ত ঢেলে দেখা হবে পিপিইর ‘ফেব্রিক’ চিকিৎসক বা নার্সদের রক্ষা করতে পারবে কি না। সেই কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ কৃত্রিম রক্ত মজুত রাখা হচ্ছে। এই রাজ্যে পিপিই তৈরি করছে, এমন সংস্থাগুলিকে আহ্বান জানাচ্ছে অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড, যাতে কোন ঝুঁকি এড়িয়ে করোনার থাবা থেকে বাঁচতে এই যন্ত্রের মাধ্যমে সেগুলি সহজেই পরীক্ষা করে নেওয়া যায়। ইছাপুর গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরি লাগোয়া মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরিতেও এমন যন্ত্র বসানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: উত্তপ্ত লেবানন, লকডাউনের চরম সংকটে ব্যাংকে হামলা-লুটপাট

অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড বা ওএফবি সূত্রে জানা গিয়েছে, অতি ঘন পলিইথিলিন বা এইচডিপিই দিয়ে এই ফেব্রিক তৈরি হয়। তার ফলে এই ‘কভারঅল সুট’ দিয়ে ঘাম বা তাপ বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু কোনও তরল পদার্থ অথবা বাতাসে ভেসে বেড়ানো ক্ষুদ্র বস্তু ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না। তাই তৈরি করার সময় সেলাইয়ের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া, যাতে কোনওভাবে লিক না হয়। বেশ কিছু অংশে ‘লিকুইড টাইট সিল’ ব্যবহার করা হয়। জিপারও থাকে ‘লিকুইড টাইট’। ওএফবি কানপুরের অস্ত্র কারখানায় ইতিমধ্যেই যে পিপিই তৈরি করতে শুরু করেছে, তা কম্পিউটারের প্রোগ্রামের ভিত্তিতে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে কাটা হয়। সেলাই করার ক্ষেত্রে যন্ত্রের সাহায্য নেওয়া হয়।

কিন্তু কোনও পিপিই লিক করছে কি না, তা জানতে শুরু হয় ‘ব্লাড রেজিস্ট্যান্স টেস্ট’। প্রথমে এই পরীক্ষা করত কোয়েম্বাটুর এর সাউথ ইন্ডিয়ান টেক্সটাইল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু সারা দেশে যেভাবে করোনা থাবা বসিয়েছে, তা থেকে বাঁচতে ওএফবি চেন্নাই ও কানপুরের অস্ত্র কারখানায় শুরু করে এই পরীক্ষা।

অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের যুগ্ম অধিকর্তা ড. উদ্দীপন মুখোপাধ্যায় জানান, পূর্ব ভারতে যাতে পিপিইর ওই পরীক্ষা বা ‘ব্লাড রেজিস্ট্যান্স টেস্ট’ করা যায়, তার জন্য এবার কলকাতার ইছাপুর গান অ্যান্ড সেল ফ্যাক্টরি লাগোয়া মেটাল অ্যান্ড স্টিল ফ্যাক্টরিতে বসানো হয়েছে যন্ত্র। কিছুদিনের মধ্যেই এই যন্ত্র চালু হয়ে যাবে। কৃত্রিম রক্ত ব্যবহার করে বিশেষজ্ঞরা পিপিইর নমুনা পরীক্ষা করবেন।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই পরীক্ষার জন্য কৃত্রিম রক্ত বা সিন্থেটিক ব্লাড অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সাধারণভাবে ফ্লোরিন ও কার্বনের যৌগ দিয়েই এই রক্ত তৈরি হয়। লাল রঙের এই পদার্থটির ঘনত্ব মানুষের রক্তের মতোই। পিপিইর ফেব্রিক এই বস্তুটিকে আটকে দিলে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, করোনা রোগীর দেহরস পিপিই ব্যবহারকারীকে সংক্রমিত করতে পারবে না। তাই সব পিপিই প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ে পিপিই সুরক্ষা যাচাই করিয়ে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নিজেদের অবদান রাখতে চায় অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড।

Related Articles

Back to top button
Close