fbpx
অফবিটকলকাতা

শুধু রসনায় নয়, ‘গ্রেট কলকাতা কিলিং’ রুখে ইতিহাস গোপাল পাঁঠার মাংসের দোকান

ঠাকুর বললেন, ' যে দোকানে কালিমূর্তি আছে, সেখান থেকে মাংস আনবি।' ঠাকুরের অন্ত্যলীলা' শেষ হয়েছিল ১৮৮৬ র ১৬ আগস্ট।

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তখন ইহজীবনের ‘ অন্ত্যলীলা’ করছেন কাশীপুরের বাগানবাড়িতে। সেই সময় ঠাণ্ডা লেগে ঠাকুরের সর্দি কাশি বেড়ে গেল। ডাক্তার নির্দেশ দিলেন পাঁঠার মাংসের সুরুয়া খাওয়ার জন্য। ঠাকুর বললেন, ‘ যে দোকানে কালিমূর্তি আছে, সেখান থেকে মাংস আনবি।’ ঠাকুরের অন্ত্যলীলা’ শেষ হয়েছিল ১৮৮৬ র ১৬ আগস্ট। আর ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ‘ গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ রুখে ছিলেন যিনি সেই গোপাল মুখোপাধ্যায়েরও পাঁঠার মাংসের দোকান ছিল। যে কারণে গোপাল পাঁঠা নামেই তিনি পরিচিতি লাভ করেছিলেন। আর সেই মাংসের দোকান আজও কলকাতার অন্যতম সেরা মাংসের দোকান, আর তার পরতে পরতে জড়িয়ে কলকাতার ইতিহাস।

গোপাল মুখোপাধ্যায়

গোপাল পাঁঠার মাংসের দোকানের ভোজনরসিকদের কাছে কদর ‘ বেঙ্গল গোট’ পাওয়া যায় বলে। একবার যিনি এই দোকানের মাংস খেয়েছেন তিনি অন্য কোথাও যাবেন না। একমাত্র এঁরাই আজও বুক ঠুকে বলেন, ‘ এখানে বেঙ্গল গোট’ পাওয়া যায়। আর গোপাল মুখোপাধ্যায়ও কালিভক্ত ছিলেন। তাঁর এলাকায় প্রতি বছর তিনি কালিপুজো শুরু করেন। দোকানে আজও মা কালির উপস্থিতি। এবার ইতিহাস, বিপ্লবী অনুকূল চন্দ্রের ভাগ্নে ছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়। তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা সূত্রেই ওই পাঁঠার মাংসের দোকান। সেই সূত্রে তাঁর পরিচিতি গোপাল পাঁঠা। ১৯৪৬ সালে মুসলিম লিগের নেতৃত্বে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ শুরু হলে রুখে দাঁড়ান গোপাল মুখোপাধ্যায় ও তাঁর ভারতীয় জাতীয় বাহিনী। মূলত একার হাতেই সেদিন কলকাতাকে বাঁচিয়েছিলেন তিনি। প্রবাদ হয়ে গিয়েছে গোপাল ছিলেন বলে টালা ট্যাঙ্ক আছে, শিয়ালদা স্টেশন আছে, আপনি, আমি রয়েছি। আর সেই প্রবাদের সঙ্গে জড়িয়ে আজও রয়েছে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উল্টোদিকে এক চিলতে মাংসের দোকান।

Related Articles

Back to top button
Close