fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

তিন বছর থেকে বন্ধ বার্ধক্য ভাতা, অসহায় অবস্থায় চড়চড়াবাড়ির সহায়সম্বলহীনা বৃদ্ধা দীনবালা

বিজয় চন্দ্র বর্মন, মেখলিগঞ্জ: সংসারে আপন বলতে কেহ নাই, তাই একাকিত্ব ও দারিদ্র্যের যন্ত্রণা সহ্য করেও কোনও রকমে জীবনী শক্তি টুকু ধারণ করে মৃত্যুর প্রহর গুণছেন মেখলিগঞ্জ ব্লকের উছলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের চড়চড়া বাড়ি এলাকার সহায়সম্বলহীনা বৃদ্ধা দীনবালা রায় ( ৭০)। স্বামী গত হয়েছেন বছর দশেক আগে। এক মেয়ে, তাকেও পাত্রস্থ করেছেন। কিন্তু মায়ের এই সংকটকালেও কোনও খোঁজ খবর রাখেন না মেয়ে। খবর পাঠালেও আসেন না। শরীরে যখন বল ছিল তখন অন্যের বাড়িতে দিন মজুরির কাজ করে দুবেলা দুমুঠো অন্ন জোটাতেন। এর পর বার্ধক্যজনিত কারণে আর কায়িক পরিশ্রম করার মতো শক্তি না থাকায় অন্ন সংস্থানে বেছে নেন ভিক্ষাবৃত্তি। ভিক্ষা করেই কোনও রকমে চলে যাচ্ছিল। একদিন হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোক!  আর তার পর থেকেই ঘরে বসা দীনবালা।

আরও পড়ুন:মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত পাঞ্জাবের গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী তৃপ্ত রাজিন্দর সিং বাজওয়া

সেই থেকে তাঁর জীবন হয়ে ওঠে আরও দূর্বিষহ ও যন্ত্রণার। বর্তমানে তিনি হাঁটাচলাও করতে পারেন না। প্রতিবেশীদের দয়ায় তাঁর অন্ন জোটে।

অথচ এই সব অসহায় মানুষদের জন্য অনেক প্রকল্প চালু করেছে সরকার। তবে সেসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত কেন দীনবালা রায়, জানতে চেয়েছেন প্রতিবেশীরাই। লকডাউনে তার অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠলে তার পাশে দাঁড়ান ওই এলাকারই বাসিন্দা তথা মাথাভাঙ্গা কলেজের গণিত বিষয়ের অধ্যাপক রেবতি মোহন রায়। তিনিই বর্তমানে ওই বৃদ্ধার দেখাশুনা করছেন। বৃদ্ধার খাওয়া-দাওয়া ও ওষুধ পত্র কিনে দিচ্ছেন তিনি।

আরও পড়ুন:তপসিলিদের খুনের রাজনীতি করে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই বিধায়ক হত্যা! বিস্ফোরক দুলাল

রেবতীবাবু জানালেন, ওই বৃদ্ধার বর্তমান অবস্থা খুবই শোচনীয়। মানবিকতার কারণে তার পাশে দাঁড়িয়ে সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। লকডাউনের কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় এখন সময় দিতে পারছি, কিন্তু কলেজ খুললে হয়তো আর সময় দিতে পারবো কিনা সন্দেহ। বৃদ্ধার বার্ধক্য ভাতার টাকা গত তিনবছর থেকে বন্ধ হয়ে আছে কোনও অজ্ঞাত কারণে। বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন আধিকারিকের কাছে গিয়েও শুধুই মিলেছে হয়রানি। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ বৃদ্ধার বার্ধক্য ভাতা পুনরায় চালু করা হোক। তাহলে হয়তো কিছুটা আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন দীনবালাদেবী।

দীনবালা রায়ের এই দূর্দিনেও নীরব এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য ও গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তার মতো দুঃস্থ মানুষের কেন সরকারি সুযোগ সুবিধা মিলছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এলাকার জন প্রতিনিধিরা কি শুধু ভোট আদায় করেই ক্ষান্ত ?
এলাকার এরকম একজন অসহায় মানুষের পাশে তারা নেই কেন, প্রশ্ন তুলেছেন মেখলিগঞ্জ বিজেপির উত্তর মন্ডলের সভাপতি বিশ্বনাথ শীল। চ্যাংড়াবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা মেখলিগঞ্জের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা পরেশ চন্দ্র অধিকারী জানান, খোঁজ নিয়ে দেখে সমস্যার সমাধান করে দেওয়া হবে।

এবিষয়ে এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য কৃষ্ণ কান্ত বর্মন জানিয়েছেন, বৃদ্ধা যাতে বার্ধক্য ভাতার টাকা পেতে পারেন তার জন্য চেষ্টা করা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close