fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা ভাইরাসকে পরাজিত করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ৬৮ বছরের বৃদ্ধা

জেলা প্রতিনিধি, দিনহাটা: বয়সকে পেছনে ফেলে করোনা ভাইরাসকে হার মানিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন দিনহাটা শহরের শিবানী শাহা। দিনহাটা পুরসভা এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোসানি রোড এলাকার শিবানী সাহা রবিবার রাতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। এদিন তিনি বাড়ি ফিরতেই স্থানীয় বাসিন্দারা নানাভাবে তাঁকে স্বাগত জানান।

জানা গেছে শিবানী দেবী ও তার ছেলে অঞ্জন সাহা দিন কয়েক আগে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। অঞ্জন গত বৃহস্পতিবার সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু তার মায়ের বয়স বেশি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ হতে সময় নেয় অনেকটা।

এদিন রাতে ৬৮ বছরের শিবানী সাহা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতেই প্রতিবেশীদের পাশাপাশি আদর্শ ক্লাবের সদস্যরা বাবলু সাহা, মদন কর্মকার , বরুণ মজুমদার, হীরালাল দাস থেকে শুরু করে সকলেই করোনা যোদ্ধাকে ফুল ছিটানোর পাশাপাশি পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানান। বয়সকে হার মানিয়ে মনের জোরকে ভর করে শিবানী দেবী ফিরতেই দীর্ঘক্ষণ হাততালি দিয়ে উপস্থিত সকলে তাকে আবেগে ভাসিয়ে দিলেন।

চিকিৎসকরা জানান, করোনা ভাইরাস বয়স্কদের নানা ভাবে আক্রমণ করে থাকে। আর সে ক্ষেত্রে ভয়ের কারণ অনেকটাই বেশি থাকে। এই বয়সে মারণ এই রোগে তিনি সংক্রমিত হলেও মনের জোরকে সঙ্গী করে বয়সকে হার মানিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসায় খুশি বাড়ির লোকেদের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও।

আরও পড়ুন:বিরোধীদের অভিযোগকে নস্যাৎ করে বিজেপির পক্ষে সায় ফেসবুকের

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে গত ১০ আগস্ট দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে শিবানী সাহার রেপিড টেস্ট হয়। ওইদিনই তার রিপোর্ট পজিটিভ আসতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কোচবিহার কোভিড হাসপাতালে। তার হাই সুগার খুব প্রেসার রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সেখানে একটানা সাত দিন চিকিৎসার পর এদিন ফিরতেই স্বস্তি ফিরে তার পরিবারেও। চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তার কয়েক বার সোয়াব টেস্ট হয়। প্রতিবারই রিপোর্ট পজিটিভ আসে বলে তার নিকট আত্মীয় লিটন মণ্ডল জানান। এদিন টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আশায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়।

এদিকে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দাদের বাবলু সাহা, বরুণ মজুমদার প্রমূখ জানান করোনা ভাইরাস নিয়ে বয়সটা যখন একটি ভয়ের কারণ তখন এলাকার দুই জন বয়স্ক মহিলা পরপর এক মাসের মধ্যে আক্রান্ত হন। মনের জোর এবং সাহসে তারা সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন।

একটানা সাতদিন চিকিৎসার পর এদিন বাড়ি ফিরে শিবানী সাহা বলেন, তার ছেলে করোনা আক্রান্ত হয়েছিল। তারপর তিনিও এই রোগে আক্রান্ত হন। সুগার ও প্রেসার থাকায় এই বয়সে অসুস্থ শরীরে আক্রান্ত হওয়ার পর মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছিলাম। সকলেই পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছে। কোচবিহার কোভিড হাসপাতালে ডাক্তার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীরা সকলেই নানাভাবে পাশে থেকে ভরসা ও সাহস দিয়েছেন। এই রোগকে প্রতিহত করতে মনের জোর আর শক্তি হল মূল অস্ত্র বলেও শিবানী উল্লেখ করেন।

Related Articles

Back to top button
Close