fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে পুলিশি পাহারায় সিন্দুক থেকে বেরিয়ে পুজো নেন জামুড়িয়ার বন্দোপাধ্যায় বাড়ির স্বর্ণলক্ষ্মী

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: আপাদমস্তক সোনায় মোড়া অষ্টধাতুর তৈরি লক্ষ্মী প্রতিমা। বলতে গেলে সারা বছর থাকেন সিন্দুকে। অপরূপ তার সাজ। টানাটানা চোখ থেকে টিকালো নাক। গায়ে দামি শাড়ি আর স্বর্ণালঙ্কার। নামেই অষ্টধাতু। বেশিরভাগটই সোনায় মোড়া। এক সময়ের কয়লাখনি বা কোলিয়ারিরর মালিকা জামুড়িয়ার বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার রত্নখচিত মা লক্ষ্মীকে এই রূপেই তৈরি করিয়েছিলেন। আগের সেই জমিদারি নেই। অনেকেই দেশের বাইরে থাকেন কর্মসূত্রে। কিন্তু প্রাচীন জমিদার বাড়ি ও যক্ষের ধন আগলে রেখেছেন অষ্টধাতুর মা লক্ষ্মী। যিনি সারা বছর থাকেন সিন্দুকে। কিন্তু একটি রাতে বেরিয়ে আসেন বাইরে।

কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে পুলিশ প্রহরায় বাড়ির সিন্দুক থেকে মা লক্ষ্মীকে বার করে আনা হয় মন্দিরে। এবারেও যে পরম্পরা একই রকম থাকবে। অষ্টধাতু হলেও প্রায় ৮০ শতাংশ সোনা দিয়ে তৈরি দু’ফুট লম্বা লক্ষ্মী প্রতিমা দেখতে ঢল নামে জামুড়িয়ার নণ্ডি গ্রামে। একসময়ের কয়লা খনির মালিক ছিলেন নণ্ডির বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার। তাদের পারিবারিক পুজোটি দেখতে বাইরের মানুষও ভিড় জমান আসানসোলের জামুড়িয়ায়। কথিত আছে, ৭০ বছর আগে পরিবারের গৃহকর্তী মা লক্ষ্মীর রূপটি স্বপ্নে দেখেছিলেন। তখন থেকে সেই প্রতিমা গড়ে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর শুরু। সেই পরিবারের বর্তমান সদস্যা গৃহবধূ অনিতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যখন পুজো চালু হয় তখন ১৪টি কয়লা খনির মালিক ছিলেন এই বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার। প্রায় এক হাজার খনি কর্মী এই পুজোয় সামিল হতেন। সাতদিন ধরে চলতো উৎসব।

গ্রামবাসী গোরাচাঁদ গড়াই বলেন, লক্ষ্মী প্রতিমাটি খুবই ভারি। ওজনও অনেক। তুলতে হয় দুজনের সাহায্য নিয়ে। পুলিশের নিরাপত্তার চাদরে সিন্দুক থেকে বার করে আনা হয় সেই প্রতিমাকে একরাতের জন্য। মা লক্ষ্মীকে নতুন শাড়ি ও সোনার অলঙ্কারে সাজিয়ে পুজো করা হয়। কালের নিয়মে পুরানো পুজোর সেই জৌলুস হয়তো আর নেই। কিন্তু পুজোর পুরনো রীতি একই আছে। দেশের অন্য জায়গায় ও দেশের বাইরে থাকা পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্মীপুজোর জন্য জামুড়িয়ায় আসেন। তবে এবার করোনা পরিস্থিতি। তাই পুরনো নিয়ম মেনে, বৈভব ও জৌলুসহীনভাবেই হবে মা স্বর্ণলক্ষ্মীর পুজো।

Related Articles

Back to top button
Close