fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পটচিত্র আঁকা মাস্ক বেচেই বাঁচতে চাইছে চণ্ডীপুরের দেড়শো পটুয়া

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : লকডাউনের গেরোয় চারিদিকে একটা থমকে যাওয়া পরিবেশ। বহু মানুষের রুজিরুটিতে টান পড়েছে। কাজ হারানোর যন্ত্রনায় কুরে কুরে খাচ্ছে বহু মানুষের দিনযাপন। পূর্ব মেদিনীপুরের তথাকথিত ‘পটের গ্রাম’ হবিচক, নানকারচক এবং চণ্ডীপুরের পটীদারদের জীবন ঘিরেও একরাশ অভাব, বেদনা আর হাহাকারের রেখাচিত্র।

আসলে কাজই জুটছেনা এখন। রাজ্যজুড়ে পটের মেলা সহ যাবতীয় মেলা উৎসব বন্ধ। বাইরে যাওয়াও যাচ্ছেনা। কেউ পটচিত্র কিনছেন না। এমতবস্থায় কিভাবে চলবে সংসার? বাড়ির ছেলে মেয়েদের পেটের ভাত জোগাড়ে এইসব পটীদারদের কেউ আজ জবকার্ড নিয়ে একশো দিনের কাজ করছেন। আমফান ঝড়েও ফুটিফাটা অবস্থা ঘরদোরের। বাপ ঠাকুর্দার সময়কাল থেকে শিখে আসা বিদ্যেটুকুই তো তাঁদের পেটের আগুন মেটায়। সামান্য কিছু রোজকার করতে তাঁরা এখন পটচিত্র আঁকা ‘মাস্ক’ তৈরি করে বেচছেন।

আরও পড়ুন: এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন চা শ্রমিকরা

স্থানীয় প্রধান শিক্ষক অরুনাংশু প্রধান তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানান, এই সংকটময় মুহূর্তে এঁদের এই কাজ বিপননে সহায়তা নিয়েছি ফেসবুকের। এর মাধ্যমে প্রচার চলছে পটচিত্র সম্বলিত অভিনব মাস্কের। ভালোই সাড়া মিলছে বিভিন্ন জায়গা থেকে। সেইমতো পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে চিত্রবিচিত্র মাস্ক। পূর্ব মেদিনীপুরের একান্ত নিজস্ব একটা লৌকিক ঘরানার ঘরনীদের হাতের কাজ এখন ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে।

এ যাবৎ অর্ডার দিয়েছেন হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের ইন্দ্রাণী চ্যাটার্জি। তাঁকে কুরিয়ার করে পাঠানো হয়েছে। হায়দরাবাদের ঈশিকা ব্যানার্জিকেও পাঠানো হয়েছে মাস্ক। এছাড়া রোটারি ক্লাব অফ ক্যালকাটা মেগা সিটির অসিতবরণ ভট্টাচার্য, পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের জনসংযোগ আধিকারিক অরূপ গুছাইত, কলকাতার আকাশ পাল সহ হলদিয়া, মহিষাদল, তমলুক, মেদিনীপুর এলাকার অনেকেই। ইতিমধ্যে বহু এরকম মাস্ক বিক্রি হয়েছে। নিয়মিত অর্ডার আসছে বলে জানান আবেদ চিত্রকর।

আসলে সংকটময় পরিস্থিতিতে সংকটকে কেন্দ্র করেই সমস্যার সমাধান করা বুদ্ধিমানের কাজ। এই চরম সত্যতা বুঝতে পেরেছেন চণ্ডীপুরের গরিবগুর্বো পটুয়ারা। তাই অভিনবত্বের ছোঁয়া রেখেছেন কোরোনা মোকাবিলায় মাস্কে। এই মাস্ক উপহার হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। ঘরে সাজিয়ে রাখা যেতে পারে। আর ব্যবহার তো করাই যাবে সবসময়। সম্পূর্ণ কাপড়ের তৈরি। প্রতিটির মূল্য মাত্র ৫০ টাকা। এই অতিমারির বাজারে এভাবেই একটু উপার্জনের দিশা পেয়েছেন পটুয়াপাড়ার পটশিল্পীরা।

Related Articles

Back to top button
Close