fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দুর্গাপুরে ৯ ঘন্টা বাড়িতে পড়ে রইল ব্যক্তির মৃতদেহ, ক্ষোভ আতঙ্কিত এলাকাবাসীর

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর: কেভিড আক্রান্ত বড় ছেলে ও বউমা হাসপাতালি চিকিৎসাধীন। রিপোর্ট আসতে দেরি হওয়ায় ৯ ঘন্টা বাড়িতে পড়ে রইল কোভিড আক্রান্ত বাবার মৃতদেহ। প্রশাসনিক কর্তারা পৌঁছাতেই ক্ষোভ ফেটে পড়ল এলাকাবাসী। শুক্রবার ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুরের ফরিদপুর গ্রামে। শেষ পর্যম্ত বিকালে রিপোর্ট আসতেই মৃতদেহ তুলল প্রশাসন।

ঘটনায় জানা গেছে, শুক্রবার সকালে দুর্গাপুর ফরিদপুর এলাকায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।
ওই বাড়িতে বৃদ্ধের স্ত্রী ছাড়াও দুই পুত্র সন্তান , দুই পুত্রবধূসহ নাতি-নাতনিরা থাকেন। মৃতের বড় ছেলে দুর্গাপুরের গান্ধিমোড় সংলগ্ন এক বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী। এবং পুত্রবধু সিভিক ভলান্টিয়ার। কয়েকদিন আগেই তাঁর বড় ছেলে জ্বরে আক্রান্ত হয়। লালারসের নমুনা পরীক্ষায় কোভিড-১৯ পজেটিভ রিপোর্ট আসে। খবর চাউর হতেই তাকে কাঁকসায় কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সঙ্গে বাড়ীর বাকি সকলের লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। তাতে বাড়ীর বড় বউমার কোভিড-১৯ পজেটিভ রিপোর্ট আসে। তাকেও কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে শুক্রবার ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর চাউর হতেই গোটা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিন সকাল থেকে বাড়িতে মৃতদেহ পড়ে থাকে। প্রতিবেশীরা খবর দেয় পুলিশ ও প্রশাসনে। কিন্তু বৃদ্ধের কোভিড রিপোর্ট না আসায় দিনভর বাড়ীতে পড়ে থাকে মৃতদেহ। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। এদিকে দীর্ঘক্ষন মৃতদেহ না তোলায় ভ্যাপসা গরমে পচন ধরতে শুরু করে। ছড়াতে থাকে দুর্গন্ধ। আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা মৃতদেহ দ্রুত সেখান থেকে মৃতদেহ সরানোর দাবী জানায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ ,” প্রশাসনের গাফিলাতিতে রিপোর্ট আসতে দেরি। ওই পরিবারে কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পরও এলাকটি কন্টেনমেন্ট জোন করা হয়নি।”

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুর্গাপুর মহকুমার এক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও দুর্গাপুর পুরসভার মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) রাখী তেওয়ারী, পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। গ্রামবাসরীরা প্রশাসনিক আধিকরিকদের কাছে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন। বাসিন্দাদের দাবী,” গোটা এলাকাটি ঠিকমতো স্যানিটাইজ করা হোক। এবং কন্টেমেন্ট জোন করা হোক।” যদিও ঘটনার পর ওই পাড়া দিয়ে সাধারনের যাতায়াত নিষেধ করে দেয় পুলিশ ও প্রশাসন। বিকাল নাগাদ মৃতের রিপোর্ট পজেটিভ আসে। রিপোর্ট পজেটিভ আসতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃতদেহ তোলা হয়।

মেয়র পারিষদ(স্বাস্থ্য) রাখী তেওয়ারী জানান,” পরিবারের দু’জন কোভিড আক্রান্ত। সেকারনে মৃতের রিপোর্ট না আসায় মৃতদেহ তুলতে দেরি। বিকালে ওই বৃদ্ধের কোভিড-১৯ পজেটিভ রিপোর্ট আসে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে প্রয়োজনীয় দাহ কাজ ও এলাকাটি স্যানিটাইজ করা হবে।” পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক পুর্নেন্দু মাজি বলেন,” যে পরিবারে কোভিড আক্রন্ত হয়েছে, সাধারন মানুষ যাতে না যায় তার জন্য ওখানের কয়েকটি বাড়ী বাঁশ দিয়ে ঘিরে দেওয়া হবে।’

Related Articles

Back to top button
Close