fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চালককে মারধোর করে গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় কলকাতা থেকে গ্রেফতার এক দুষ্কৃতী

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: চালককে মারধর করে বেঁধে রেখেদিয়ে গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ । ধৃতের নাম সঞ্জয় সিং।তার বাড়ি কলকাতার মেটিয়াব্রুজ থানার দেওয়ানবাগান লেনে ।
পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার পুলিশ সোমবার রাতে মেটিয়াব্রুজে হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে । ধৃত ব্যক্তি নিজেও একজন গাড়ি চালক ।পুলিশের দাবি গাড়ি ছিনতাইয়েয় ঘটনায় জড়িত থাকার কথা ধৃত সঞ্জয় সিং কবুল করেছে ।

মঙ্গলবার ধৃতকে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে । ছিনতাই হওয়া গাড়ি, চালকের মোবাইল,টাকা পয়সা উদ্ধারের এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের বাকিদের হদিশ পেতে ধৃতকে ১৪ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী পুলিশ অফিসার । সিজেএম সুজিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ধৃতকে ১০ দিন পুলিশী হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত ১১টা নাগাদ কলকাতার রাণি রাসমণি রোডে দীঘা বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকে একটি সুইফট্‌ ডিজায়ার গাড়ি ভাড়া করে তিনজন। গাড়িটির মালিক কলকাতার মহেশতলা থানার বিধানগড়ের বাসিন্দা খুরশিদ আহমেদ। তিনিই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। ওই ৩ জন আউশগ্রাম থানার গোবিন্দনগরে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। গোবিন্দপুরে পৌঁছানোর পর তিনজন খাবারের জন্য গাড়িটিকে শক্তিগড়ে নিয়ে যেতে বলে। ভোর ৩টে ১৫ মিনিট নাগাদ ভাতার থানার আমবোনা বাসস্ট্যান্ডের কাছে তারা প্রস্রাব করার জন্য চালককে গাড়িটি দাঁড় করাতে বলে। খুরশিদ গাড়িটিকে রাস্তার পাশে দাঁড় করান। এরপরই গাড়িতে থাকা তিনজন স্বমূির্ত ধারণ করে। তারা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে খুরশিদকে মারধর করে। এরপর তারা খুরশিদের হাত-পা বেঁধে ফেলে । খুরশিদ যাতে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে না পারে সেজন্য তাঁর মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়।

 

এরপর তিন দুস্কৃতি মিলে চালক খুরশিদের কাছে থাকা ৭ হাজার টাকা ও ৩টি মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাঁকে মাঠের মধ্যে ফেলে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয় । সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা মাঠ থেকে হাত-পা বাঁধা খুরশিদকে উদ্ধার করেন। খুরশিদ নিজেই ঘটনার কথা জানিয়ে ভাতার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিস একটি লোহার রড, সেলোটেপ, সুতলি দড়ি, চটি, গেঞ্জি ও জিনসের প্যান্ট বাজেয়াপ্ত করে। দুষ্কৃতিদের ধরতে কলকাতা পুলিশের সাহায্য নেওয়া হয়। যেখান থেকে দুষ্কৃতীরা গাড়িতে উঠেছিল সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ কলকাতা পুলিশের ডিসি ট্রাফিকের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন ভাতার থানার তদন্তকারী অফিসার।

এছাড়াও যে পথ দিয়ে গাড়িটি এসেছিল সেখানকার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকেও পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে । খুরশিদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর সঙ্গে কারও শত্রুতা রয়েছে কিনা তা জানতে চায় পুলিশ। পুলিশকে খুরশিদ জানান, সঞ্জয়ের সঙ্গে তাঁর পেশাগত শত্রুতা আছে। সঞ্জয় বেশ কয়েকবার তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় । এরপর পুলিশ সঞ্জয়কে রাসমণি রোডের বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেখানকার অন্যান্য গাড়িচালকরা পুলিশকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করলেও সঞ্জয় এড়িয়ে চলে। তার কথাবার্তা পুলিশের সন্দেহজনক বলে মনে হয়।রাতে বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

খুরশিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, দুষ্কৃতিরা হিন্দিতে কথা বলছিল। তারা অনেক খোঁজাখুঁজির পর খুরশিদের সন্ধান পেয়েছে এবং তাঁকে খতম করা হবে বলে নিজেদের মধ্যে হিন্দিতে আলোচনা করে। এর থেকে খুরশিদকে জব্দ করতে কেউ দুষ্কৃতি ভাড়া করে বলে অনুমান হয় পুলিশের।

Related Articles

Back to top button
Close