fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ফের বীরভূমে তৃণমূল কর্মী খুন

সৌরভ বড়াল, বীরভূম: খয়রাশোলে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের বীরভূমের লাভপুরে এক তৃণমূল কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার হল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান নিহত ওই তৃণমূল কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। এই দুই তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় তৃণমূলের তরফে বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুললেও বিজেপির অভিযোগ দুর্ঘটনায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ঘটেছে।

 

 

 

শনিবার সন্ধ্যায় বীরভূমের লাভপুর থানার ঠিবা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভাটরা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এদিন সন্ধ্যেবেলায় গ্রামের একটি চাষ জমি থেকে নিহত তৃণমূল কর্মীর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে নিহত তৃণমূল কর্মীর নাম সহদেব বাগদি (৪৫)। বাড়ি ভাটরা গ্রামে। এদিন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত তৃণমূল কর্মী সহদেব বাগদি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। পরিবারের দাবি শনিবার সকালে তিনি গ্রামে নিজের জমিতে চাষাবাদ দেখাশোনা করতে গিয়েছিলেন। তারপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের তরফে সহদেব বাবুর খোঁজ চালানোর পর শনিবার সন্ধ্যায় গ্রামের একটি চাষ জমিতে সহদেব বাগদির কাদা মাখানো রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিউড়ি সদর হাসপাতালে।

 

 

 

পুলিশের তরফে জানা গেছে, মৃতদেহের গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এদিন স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, লাভপুরের বিধানসভা এলাকায় প্রাক্তন তৃণমূল নেতা এবং বিধায়ক মনিরুল ইসলাম গোষ্ঠীর সঙ্গে এলাকার আরো এক তৃণমূল নেতা মান্নান শেখ এর গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। নিহত তৃণমূল কর্মী সহদেব বাগদি মান্নান শেখ গোষ্ঠীর কর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে নিহত সহদেব বাগদির খুনের ঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ জমা পড়েনি লাভপুর থানায়। পুলিশ একটি স্বতঃস্ফূর্ত মামলার মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।

 

 

অন্যদিকে শুক্রবার বীরভূমের খয়রাশোলে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে খুনের অভিযোগ উঠেছিল আরও এক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। নিহত ওই তৃণমূল কর্মীর নাম শিশির বাউরী। পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছিল এলাকার আরো এক তৃণমূল নেতা কিশোর মন্ডল সহ 6 জন তৃণমূল কর্মী শিশির বাউড়ি কে খুন করেছে। নিহতের স্ত্রী বুলু বাউরী এর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই ঘটনায় শনিবার চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। দুটি খুনের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই দু’টি ঘটনায় তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব বিজেপির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুললেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি জেলা নেতৃত্ব। বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মন্ডল জানিয়েছেন, “বীরভূম জেলার আনাচে-কানাচে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব একটা ভয়ঙ্কর আকার। ভোট যত এগিয়ে আসছে ততো তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিচ্ছে। এইসব খুন এবং বিস্ফোরণের ঘটনা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে হচ্ছে। বিজেপির সঙ্গে এই সমস্ত ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।”

Related Articles

Back to top button
Close