fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

এক সপ্তাহ চিকিৎসক দম্পতির মৃতদেহ আগলে মেয়ে, পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার জোড়া মৃতদেহ

অলোক কুমার ঘোষ, ব্যারাকপুর: কলকাতার রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া এবার উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরে । বৃদ্ধ চিকিৎসক দম্পতির মৃত্যুর পর ৬ দিন তাদের মৃতদেহ আবাসনের ঘরেই আগলে রেখেছিল ওই দম্পতির একমাত্র মেয়ে ও নাতনি। মৃত ওই বৃদ্ধ চিকিৎসক দম্পতির নাম ডা: এ কে চৌধুরী (৮৫) এবং ডা: এস চৌধুরী (৮০) । চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বরানগর থানার অন্তর্গত বরানগর পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের টি এন চ্যাটার্জি স্ট্রিট লালবাড়ি বহুতল আবাসনে । এই ঘটনায় হতবাক বরানগরের টি এন চ্যাটার্জি রোডের বাসিন্দারা ।

 

উত্তর ২৪ পরগনার বরানগরের টি এন চ্যাটার্জি স্ট্রিট, লালবাড়ি বহুতল আবাসনের দোতালায় বৃদ্ধ ডাক্তার দম্পতি ডা: এ কে চৌধুরী এবং তার স্ত্রী ডাক্তার এস চৌধুরী তাদের একমাত্র ডিভোর্সী মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে থাকতেন । বৃদ্ধ ওই দম্পতি দুজনেই পেশায় ডাক্তার ছিলেন । ২০ বছর আগে ওই আবাসনে পাকাপাকি ভাবে থাকতে এসেছিলেন বৃদ্ধ ডাক্তার দম্পতি । উনাদের এক মেয়ে দেবী ভৌমিক ও নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে মোট চারজন ওই আবাসনে থাকতেন । এই ডাক্তার দম্পতি চলতি মাসের ২৩ তারিখে মারা যান বলে জানা গিয়েছে । তারা দুজনেই বয়স জনিত কারণে অসুস্থতায় ভুগছিলেন । তবে ওই ডাক্তার দম্পতির মৃত্যুর পর সেই মৃত্যুর খবর আবাসনের প্রতিবেশীদের কাউকেই জানান নি মৃত দম্পতির একমাত্র মেয়ে দেবী ভৌমিক । পরে রবিবার রাতে ওই আবাসনের দোতলায় চিকিৎসক দম্পতির ঘরের সামনে থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরোলে প্রতিবেশীরা বরানগর থানায় খবর দেয় । দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ । পুলিশ গিয়ে বরানগরের লালবাড়ি আবাসনের দোতলার ঘর থেকে বৃদ্ধ দম্পতির পচা গলা মৃতদেহ উদ্ধার করে ।

 

ওই বৃদ্ধ দম্পতির মেয়ে পুলিশকে জানায় তার বাবা মা অন্তত ৭ দিন আগে মারা গেছে । ওই দম্পতির দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ । এদিকে এই ঘটনার পর মৃত দম্পতির মেয়ে দেবী ভৌমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ । বরানগর থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে । লালবাড়ি আবাসনের প্রতিবেশীরা জানান, গত এক সপ্তাহ আগে দম্পতির মৃত্যু হলেও প্রতিবেশীদের কাউকেই বাবা মায়ের মৃত্যুর কথা জানায়নি দেবী ভৌমিক । অবশেষে, রবিবার রাতে বিষয়টি জানা যায় । ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বরানগর থানার পুলিশ । মৃত দম্পতির মেয়ে দেবী ভৌমিক সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজী হয়নি।

Related Articles

Back to top button
Close