fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

দ্বিতীয় মোদি সরকারের একবছর পূর্তিতে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে দেশবাসীকে খোলা চিঠি, মোদির

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: লকডাউন, অর্থনৈতিক মন্দা, পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার কতটা নারকীয় যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে তা সংবাদমাধ্যমের দৌলতে গোটা দেশবাসীর নজরে পড়েছে। অবশেষে মুখ খুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় দফার প্রথম বর্ষপূর্তিতে দেশবাসীকে পাঠানো চিঠিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার কথা স্বীকার করে নিলেন নরেন্দ্র মোদি।

ভারতবাসীকে একটি খোলা চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘গত বছর এই দিনে ভারতের গণতন্ত্রে এক স্বর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়। বহু দশক পর পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সমেত কোনও সরকার পুনরায় নির্বাচিত হয়ে আসে’। তিনি আরও লিখেছেন, সাধারণ সময় হলে তিনি জনগণের মাঝেই থাকতেন, তবে যেহেতু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব নয়, তাই তিনি চিঠি লিখেই সর্বসাধারণের আশীর্বাদ প্রার্থনা করছেন। তাঁর বক্তব্য, ২০১৪ থেকে ২০১৯-এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের মান বহুলাংশে বেড়েছে। দেশে দরিদ্রের সম্মান বেড়েছে, আর্থিক দূরত্ব কমেছে, বিনামূল্যে গ্যাস এবং বিদ্যুত্‍ পরিষেবা পেয়েছে দেশ, শৌচালয় এবং গৃহ নির্মাণের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি ঘটেছে। ‘দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার বেড়াজাল’ কাটিয়ে বেরিয়ে এসেছে দেশ।

সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আমফান সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার কিছু অংশের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে এক বিধ্বংসী সুপার সাইক্লোন। এই দুই রাজ্যের মানুষের মনোবল প্রশংসনীয়। তাঁদের সাহস দেশের সকল নাগরিককে অনুপ্রাণিত করে।’ বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার উল্লেখ করে মোদী লিখেছেন, ‘ভারত সহ নানা দেশের অর্থনীতি কীভাবে পুনরুজ্জীবিত হবে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে ভারত যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে করোনাভাইরাসের মোকাবিলা করে সকলকে অবাক করে দিয়েছে, সেভাবেই অর্থনীতি পুনরুদ্ধারেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারব আমরা।’

আরও পড়ুন: জীনবস্মৃতিতে ফিরে আসেন বারবার, ভাল থেকো ‘একলা তাসের ঘর’

চিঠিতে ‘সারজিকাল স্ট্রাইক’ এবং ‘এয়ার স্ট্রাইকের’ উল্লেখ করে মোদী লিখেছেন, ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পে’, ‘ওয়ান নেশন ওয়ান ট্যাক্স’ এবং কৃষকদের জন্য আরও বেশি দামে ফসল বিক্রির সুযোগ ইত্যাদির মতো কয়েক দশকের দাবিও মেটানো হয়েছে। তাঁর মতে, ভারতকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শীর্ষে দেখার যে স্বপ্ন নিয়ে ২০১৯-এ ভোট দিয়েছিলেন দেশের মানুষ, সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। সর্বক্ষেত্রেই এগিয়ে চলেছে ভারত, এবং ১৩০ কোটি ভারতবাসী দেশের উন্নয়নের রেখাচিত্রে নিজেদের স্থান করে নিয়েছেন। চিঠিতে লিখেছেন, ‘আমাদের পরিযায়ী শ্রমিকরা, ক্ষুদ্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মী, হকার সহ দেশের একাংশ মানুষ খুব কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। তবে এই কষ্ট যাতে বিপর্যয়ে পরিণত না হয়, তার জন্য সবরকম ভাবে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।’ সেই সঙ্গে লকডাউন মেনে চলার জন্যও দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদি। তিনি লিখেছেন, ‘আপনারা এখনও পর্যন্ত ধৈর্য রেখেছেন। ভবিষ্যতেও রাখবেন বলে বিশ্বাস করি। ঠিক এই কারণেই ভারত আজ অন্য অনেক দেশের চেয়ে ভাল জায়গায় রয়েছে।’

মোদির বক্তব্য, গত এক বছরের তাত্‍পর্যপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত হল – ৩৭০ ধারা, যা রাষ্ট্রীয় একতাকে মজবুত করেছে, সুপ্রিম কোর্টের রাম মন্দির রায়, যা শতাব্দী-প্রাচীন বিবাদভঞ্জন করেছে, এবং তিন তালাকের মতো ‘বর্বরোচিত প্রথা’, যা ইতিহাসে পরিণত হয়েছে। এছাড়াও তিনি বলেছেন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের কথা, যা ভারতের ‘মমতা এবং সকলকে কাছে টেনে নেওয়ার’ প্রতীক।পরিশেষে ১৩০ কোটি ভারতবাসীকে তাঁদের ‘ভালোবাসা এবং আশীর্বাদের’ জন্য ধন্যবাদ দিয়ে প্রধান্মন্তী লিখেছেন, ‘আপনাদের আশীর্বাদে গত একবছরে কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত এগিয়েছে দেশ। তবে আমি জানি যে এখনও অনেক কাজ বাকি। এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ এবং সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে দেশকে। আমি রাতদিন কাজ করছি। আমার মধ্যে খামতি থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশে কোনোকিছুরই অভাব নেই। আমি নিজের চেয়ে বেশি ভরসা রাখি আপনাদের ওপর, আপনাদের শক্তি এবং ক্ষমতার ওপর।

Related Articles

Back to top button
Close