fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

বিভিন্ন বন্দরে আটকে পড়া পেঁয়াজ রফতানিতে অনুমতি দিল কেন্দ্র, বাংলাদেশ পাবে ২৫ হাজার টন

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বিভিন্ন বন্দরে আটকে পড়া পেঁয়াজ রফতানিতে অনুমতি দিল কেন্দ্র। বন্দরে আটকে থেকে পচছিল বস্তা বস্তা পেঁয়াজ। এমতাবস্থায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। রফাতনির পথে বিভিন্ন জায়গায় আটকে থাকা পেঁয়াজের ক্ষেত্রেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। দেশে পেঁয়াজের অগ্নিমূল্যে কেন্দ্র হঠাত্‍‌ করে রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায়, বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল শেখ হাসিনার দেশ। শুক্রবার কেন্দ্রের এই নির্দেশিকার পর, আপাতত স্বস্তি ফিরল বাংলাদেশে।

এই পেঁয়াজ বাংলাদেশ সহ অন্য দেশে রফতানি করা যাবে। সোমবার পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্র। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেডের তরফে অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়। পেঁয়াজ রফতানি নিষিদ্ধ করার পর পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কয়েক হাজার পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মালদার মহোদিপুরে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একের পর এক ট্রাক ও লরি। এই নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলে, বিভিন্ন স্থলবন্দরে কত ট্রাক পেঁয়াজ আটকে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে অবিলম্বে তা জানাতে বলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। তার পরেই এই সিদ্ধান্ত।

সূত্রের খবর, বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নয়াদিল্লির একটি সূত্রের দাবি, জোরালো বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে ভারত নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানির অনুমতি দিয়েছে।

গত সোমবার থেকে বাংলাদেশ-সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কেন্দ্র। এই অবস্থায় ২৫০ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের বিভিন্ন সড়কে আটকে পড়ে। লোডিং থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ৯-১০ দিন পেরোনোয় অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টিতে পেঁয়াজে পচতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় আটকে থাকা পেঁয়াজ রফতানি না করলে, আমদানিকারকরা ব্যাপক ভাবে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

আরও পড়ুন: ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর আত্মার শান্তি কামনায় বাংলাদেশের শ্বশুর বাড়িতে বিশেষ পুজো

অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে কর্নাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশে এ বছর পেঁয়াজের ফলন ব্যাপক ধাক্কা খেয়েছে। জল জমে চাষের জমিতেই নষ্ট হয়েছে বিঘের পর বিঘের জমির পেঁয়াজ। যার প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারগুলিতে। নিষেধাজ্ঞা জারির দিন দিল্লির হোল সেল মার্কেটে প্রতি কুইন্টাল ৩০০০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। যেখানে ২৮ অগস্ট প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম ছিল ১২০০ টাকা।

পেঁয়াজের দাম প্রায় তিন গুণ বেড়ে যাওয়ার পরই সরকার সব ধরনের পেঁয়াজ রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে বাধ্য হয়। প্রতি কিলোগ্রাম পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। নির্দেশিকায়, বাংলাদেশ-সহ সব দেশে ভারত থেকে পেঁয়াজ রফতানি অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ রফতানিকারক দেশ হল ভারত। প্রতি বছর ভারত থেকে ২০ লক্ষ টন পেঁয়াজ রফতানি হয়। বাংলাদেশ, নেপাল, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা ব্যাপক ভাবে ভারতের পেঁয়াজের উপর নির্ভর করে। গত বছর সেপ্টেম্বরেও একবার ভারত পেঁয়াজ রফতানি আচমকা বন্ধ করে দিয়েছিল। যার জেরে বাংলাদেশের বাজারে রাতারাতি পেঁয়াজ হয়ে উঠেছিল অগ্নিমূল্য।

Related Articles

Back to top button
Close