fbpx
কলকাতাহেডলাইন

মেট্রোতে আর থাকছে না টোকেন, লকডাউনের পর স্মার্টকার্ড নিয়েই মেট্রোয় যাতায়াত

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: লকডাউন কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনের দিকে এগোনোর পথে পশ্চিমবঙ্গ। নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সামাজিক দুরত্ব মেনে যত আসন, তত যাত্রী নিয়ে ১ জুলাই থেকে মেট্রো চলতেই পারে। তবে সূত্রের খবর, এখনও যা পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহে মেট্রো চলার সম্ভাবনা কম। মেট্রোর তরফে জানানো হয়েছে, রেলবোর্ডের ছাড়পত্র এলে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে যাত্রী পরিষেবা শুরুর আগে মেট্রোর প্রস্তুতি চূড়ান্ত। ট্রেন আটকে গেলে কিভাবে যাত্রী উদ্ধার করা হবে তার মক ড্রিল হয় শনিবার শ্যামবাজার থেকে বেলগাছিয়া স্টেশনের মাঝে।

জানা গিয়েছে, যাত্রী ওঠানামার জন্য প্রতি স্টেশনে সাধারণত কুড়ি সেকেন্ড করে দাঁড়ায় মেট্রো। কিন্তু দীর্ঘ বিরতির পর ফের মেট্রো চালু হলে এবার ৪০ সেকেন্ড স্টেশনে দাঁড়াবে পাতালরেল। অর্থাৎ দ্বিগুণ সময় পাওয়া যাবে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী ওঠানামার জন্য। আধিকারিকদের কথায়, কোনও কামরায় যাত্রীদের মধ্যে গা-ঘেঁষাঘেঁষি হচ্ছে মনে হলে প্রয়োজনে কিছু যাত্রীকে যাতে নামিয়ে দেওয়া যায়, তাই স্টেশনে পর্যাপ্ত সময় দাঁড় করানো হবে ট্রেন।

লকডাউনের আগে কলকাতা মেট্রো রেলে দৈনিক ৫ থেকে ৬ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করতেন। ছুটির দিনে সেটা ৪ লক্ষের আশেপাশে হত। আবার পুজোর সময় সেই ভিড় ছুঁয়ে ফেলতো ১০-১২ লক্ষ। এই ভিড়ের শতকরা ৭০ ভাগই ব্যবহার করত টোকেন। কিন্তু এখন এই টোকেনের থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভয়েই তা বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং আগামী জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বর যে মাসেই মেট্রো পরিষেবা চালু হোক না কেন সেখানে আর দেখা মিল্বে না টোকেনের। কেমলমাত্র স্মার্টকার্ডেই চলবে যাতায়াত। যাদের আগে থেকেই স্মার্টকার্ড আছে তাঁদের সেই কার্ড রিনিয়্যুল করে নিতে হবে আর যাদের স্মার্ট কার্ড নেই তাঁদের তা কিনে নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে যারা নিত্যদিন যাতায়াত করেন না তাঁরা কীভাবে মেট্রো রেলে চড়বেন? সম্ভবত তাঁদের জন্য বিকল্প কিছু টিকিটের ব্যবস্থা করা হতে পারে যা পুজোর সময়েও করা হয়। কার্ড বোর্ডের ইউস অ্যান্ড থ্রো টিকিট।

একইসঙ্গে যাতে স্টেশনে বা বাইরে ভিড় না হয়ে যায়, তাই দুটি ট্রেনের সময়ের ব্যবধান কমানো হতে পারে। মেট্রো চালু হলে এবার আর টোকেন ব্যবহার করতে পারবেন না যাত্রীরা। সংক্রমণের আশঙ্কায় টোকেন তুলে দেওয়া হবে। তার বদলে সমস্ত যাত্রীকেই এবার স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করতে হবে। তাই অতিরিক্ত স্মার্টকার্ডও অর্ডার দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে। এছাড়া রেকের রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াও মেট্রোর বাতানুকূল ব্যবস্থা, তৃতীয় লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ, চলমান সিঁড়ির সংস্কার-সহ একাধিক কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এমনকি স্টেশন, টিকিট কাউন্টার, প্ল্যাটফর্ম এবং কামরায় ওঠার আগে দূরত্ব-বিধি মেনে চলার স্বার্থে যাত্রীরা কোথায়, কী ভাবে দাঁড়াবেন, তাও রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চিনা আগ্রাসনের প্রতিবাদে জোম্যাটো ডেলিভারি বয়দের প্রতিবাদ

মেট্রো রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”মেট্রো চালু করার যাবতীয় খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেইমতো যাত্রী নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক কিছু নতুন নিয়ম চালু করা হতে পারে। তবে মেট্রো চালু হলেও আপাতত টোকেন ব্যবহার করা হবে না। যাত্রীদের স্মার্ট কার্ড যাতায়াত করতে হবে অনেক স্মার্ট কার্ডে অর্ডার দেওয়া হয়েছে।”

লকডাউনের আগেই মেট্রোর দৈনিক যাত্রী আগের থেকে প্রায় দু’লক্ষ কমে সাড়ে তিন থেকে চার লক্ষের কাছাকাছি হয়েছিল। শুধুমাত্র স্মার্টকার্ড দিয়ে পরিষেবা চালু হলে সেই সংখ্যা আরও কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া পরিষেবা শুরু হলে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়বে। যাত্রীরাও ওঠার আগে দু’বার ভাববেন। পাশাপাশি, দূরত্ববিধি মানার জন্য যাত্রীদের সচেতন করতে নিরন্তর প্রচার চালাবে বলে জানিয়েছে মেট্রো। যাত্রীদের ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হবে। প্ল্যাটফর্মে ঢোকার আগে যাত্রীদের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা থাকবে।

Related Articles

Back to top button
Close