fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাজ্যে পূর্ণ সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়োগের দাবি মান্নান-সুজনের

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: রাজ্যের বেহাল দশার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পূর্ণ সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়োগের দাবি জানাল বিধান সভার দুই বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ও সুজন চক্রবর্তী। মঙ্গলবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে তারা কোরোনা পরবর্তী বাংলার বেহাল দশার কথা উল্লেখ করে এ কথা বলেন। এদিন সুজন, মান্নান বলেন, ‘রাজ্যের সার্বিক চেহারার দিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি । বিশেষত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন । কোভিড অথবা নন – কোভিড , যে কোন চিকিৎসার প্রয়ােজনেই মানুষ দিশাহারা । জ্বর সহ সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেই মানুষ উৎকণ্ঠিত । পরীক্ষা , চিকিৎসা , ভর্তি – চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা এবং অব্যবস্থার শিকার । সাধারণ রােগাক্রান্ত মানুষের বিপদের একশেষ । করােনার চাইতে মানুষের বেশি ভয় , ভর্তি এবং চিকিৎসার কি হবে তা নিয়েই । টেষ্টের সুযােগ অপ্রতুল । হেল্পলাইনে যােগাযোগ পাওয়া যায় না । সরকারি ব্যবস্থায় ভর্তির সুযােগ সাধারণভাবে মানুষ পাচ্ছেন না । বাধ্য হয়েই দৌড়চ্ছেন বেসরকারি ক্ষেত্রে ।

সেখানে লুঠের শিকার হচ্ছেন । অ্যাম্বুলেন্স , টেস্ট , ওষুধ – সীমাহীন খরচ । বারবার বলা সত্ত্বেও সরকার উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করল না । বিপর্যস্ত মানুষ । অসহায়তার শিকার । সরকার নির্বিকার এবং উদাসীন । কোভিড আক্রান্ত পরিবার সবার দারস্থ হচ্ছেন । পুলিশ , স্বাস্থ্যদপ্তর , হাসপাতাল , স্থানীয় প্রশাসন – সবাই দায় এড়াচ্ছে । রােগী নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বাড়িতে । এমনকি কেউ মারা গেলে সত্ত্বারের অপেক্ষায় মৃতদেহ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বাড়িতে । এ এক অসহনীয় চেহারা । সম্প্রতি ভিডিও বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী , রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সাফল্য বর্ননা করে , প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন । রাজ্যবাসী তাতে সন্দিগ্ধ হয়েছেন । মানুষের চোখে তখন বিনা চিকিৎসায় মৃত ১৮ বছরের ভ্রজিত চ্যাটার্জি কিংবা ২৬ বছরের অশােক রুইদাসদের ছবি । কানে তখন , যাদবপুরের ৩৫ বছরের গৃহবধূ পিয়ালী সরকার কিংবা ২৮ বছরের যুবক দীপাঞ্জন মিত্রদের , সরকারি বেসরকারি মিলে ৮-১০ টা করে হাসপাতাল ঘুরেও , চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর কান্না । এটাই রাজ্যের প্রাত্যহিক চিত্র । মাননীয়া , আপনি যখন প্রধানমন্ত্রীকে গল্প বলছেন – এ রাজ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসার , মানুষ তখন কাহিনীগুলােকে দেখতে পাচ্ছেন – এ রাজ্যে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর । আপনি নিশ্চয়ই অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন । মাননীয়া , রাজ্যের সার্বিক ব্যর্থতা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে । স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে । চূড়ান্ত অস্থিরতা আর অসহায়তার প্রকাশ ঘটছে প্রতিদিন । রাজ্যটাকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দেবার দায় অবশ্যই আপনার । মাননীয়া , ভেবে দেখুন । রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব এই সময়ে একাধিকবার বদল হলাে ।

হাসপাতালের সুপার , কর্মরত ডাক্তার – প্রায় প্রতিদিনই বদল হচ্ছেন । অথচ স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা বহাল তবিয়তে । সংকট তাে ব্যবস্থাপনার । সরকারি পরিকল্পনা এবং উদ্যোগের । স্বাস্থ্যের রাষ্ট্রমন্ত্রী কোথায় ? কি তাঁর দায়িত্ব ? আংশিক সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে কোন মাথাব্যথা নেই । তিনি ব্যস্ত অন্যত্র । মানুষের জীবনের চাইতে ভােট এবং ক্ষমতার স্বাদ তার কাছে শ্রেয় । কোভিড সংক্রমনের এহেন পরিস্থিতিতেও রাজ্যে পূর্নর্সময়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেই কেন ? মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কি আছে ? অনেক দেরি হয়ে গেছে । চিকিৎসা , স্বাস্থ্যব্যবস্থার অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই । মানুষ প্রতিনিয়ত বিপদের মুখােমুখি । সবজান্তা মনােভাব ত্যাগ করুন । বিশেষজ্ঞদের ডাকুন , পরামর্শ করুন । স্পষ্ট গাইডলাইন , সক্রিয় ও কার্যকরী হেল্পলাইন ব্যবস্থা করুন । সবাইকে যুক্ত করে স্বচ্ছতার সাথে এলাকা ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলুন । সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেহাল দশাকে মেরামত করার উদ্যোগ নিন । ভেবে দেখুন মাননীয়া , ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করুন । আপাতত , আপনার পছন্দমত পূর্নসময়ের বরিষ্ঠ অন্য কোন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়ােগ করুন ।

Related Articles

Back to top button
Close