fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

লাদাখ ইস্যুতে সরকারের পাশে বিরোধীরা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একজোট দেশ, প্রধানমন্ত্রীর সর্বদলীয় বৈঠকে বার্তা বিরোধীদের। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সর্বদলীয় বৈঠকে সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দিল সব দলই। যদিও প্রত্যাশিত ভাবেই সরকারের কাছে বেশ কিছু প্রশ্ন রেখেছেন সনিয়া গান্ধি। এ দিন কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, শিবসেনার মতো কুড়িটি বিরোধী দলের প্রধান নেতানেত্রীদের সঙ্গে লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লাদাখ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এ দিন বিকেলেই সর্বদল বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়াও উদ্ধব ঠাকরে, এম কে স্ট্যালিন, সীতারাম ইয়েচুরি, নীতীশ কুমার, জগন মোহন রেড্ডি, এন চন্দ্রবাবু নাইডু, শরদ পাওয়ার, অখিলেশ যাদবের মতো নেতাদের এই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের এই অবস্থান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকে সবার প্রথমে বলতে গিয়ে সোনিয়া গান্ধি কেন্দ্রকে তোপ দেগে বলেন, ‘এই বৈঠক অনেক দেরীতে ডাকা হয়েছে। আরও আগে এটা ডাকা যেত। ঠিক কবে চিনা সেনা ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকেছে সেটাও স্পষ্ট নয়। সেনা গোয়েন্দাদের কাছে কি কোনও খবর ছিল না।’

জানা যাচ্ছে, সর্বদল বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় অস্বাভাবিক কার্যকলাপ হচ্ছে, এ ব্যাপারে কোনও গোয়েন্দা তথ্য ছিল না আমাদের কাছে? সামরিক গোয়েন্দা সূত্রে থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় অনুপ্রবেশ নিয়ে সরকারকে কিছু জানানো হয়নি? সরকার কি গোয়েন্দা ব্য়র্থতা হিসেবে মনে করছে?’পাশাপাশি, সোনিয়া প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন এই ঘটনা ঘটার পরেও কেন্দ্র চুপ করে রয়েছে। লাদাখের প্রকৃত অবস্থান কী, তা জানানো হোক সব দলকেই।’ তিনি দাবি করেন, সেই সময় যদি সকলকেই জানানো হত, তাহলে সবাই কেন্দ্রের পাশে দাঁড়াত। আমরা আমাদের সেনাবাহিনীর পাশে আছি। কিন্তু এই নিয়ে কী পদক্ষেপ কেন্দ্র নিচ্ছে তা জানা প্রয়োজন সকলেরই।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘চিনে একনায়কতন্ত্র চলে, কিন্তু আমাদের দেশে গণতন্ত্র চলে। ওঁরা যা ইচ্ছেই করতে পারে। কিন্তু আমরা তা পারি না। আমরা সকলেই এই সময়ে একসঙ্গে রয়েছি। আমরা একসঙ্গে এই বিষয়ে এগোব। কেন্দ্র যা সিদ্ধান্ত নেবে তাতেই আমাদের সমর্থন রয়েছে।’

আরও পড়ুন: ভারত জিতবে, সরকারের সঙ্গে আছি’, চিনা বিনিয়োগ বন্ধ করুন, প্রধানমন্ত্রীকে আর্জি মমতার

শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে: ভারত শান্তি চায় তবে এর অর্থ এই নয় যে আমরা দুর্বল। চিনের প্রকৃতি বিশ্বাসঘাতকতা। ভারত ‘মজবুত’ ‘মজবুর’ নয়। আমাদের সরকারের দক্ষতা রয়েছে – ‘আঁখ নিকালকর হাত মে দে দেনা। আমরা সবাই এক। আমরা আপনার সাথে রয়েছি প্রধানমন্ত্রী। আমরা আমাদের বাহিনী এবং তাদের পরিবারের সাথে আছি।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ প্রধান নীতিশ কুমার বলেছেন, ‘চিনের বিরুদ্ধে ফুঁসছে গোটা দেশ। আমরা সকলে একসঙ্গে রয়েছি। ভারতীয় বাজারে বহু চিনা পণ্য় রয়েছে। এটা সমস্য়া। চিনা পণ্য় অধিকাংশটাই প্লাস্টিক, যা পরিবেশবান্ধব নয়। এ সময় কেন্দ্রের পাশে থাকা আমাদের কর্তব্য’। মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী তথা এনপিপি প্রধান কনরাড সাংমা বলেছেন, ‘সীমান্ত লাগোয়া নির্মাণ কাজ বন্ধ করা যাবে না। মায়ানমার ও বাংলাদেশে চিনা মদতে কার্যকলাপ চিন্তার’। ডিএমকের স্ট্যালিন বলেছেন, ‘দেশের জন্য আমরা সকলে একসঙ্গে রয়েছি’। বিজেডি-র পিনাকি মিশ্র বলেছেন, ‘চিনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হোক। যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সরকারকে সমর্থন করবে বিজেডি’।

 

Related Articles

Back to top button
Close