fbpx
কলকাতাহেডলাইন

মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুতের বিল নিয়ে ক্ষোভ শহর জুড়ে, CESC-কে কড়া বার্তা রাজ্যের

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  করোনার জেরে লকডাউনে ঘরবন্দি মানুষ। লকডাউনের জেরে কাজ হারিয়েছে অনেক মানুষ, আবার অনেকের আয় কমে গিয়েছে। অনেক বেসরকারি সংস্থা কর্মী ছাঁটাই করেছে। আনলকের পর্ব-২ চলেও এখনও অনেকেই কাজে যোগ দিতে পারেনি। ট্রেন চালু না হওয়ায় ছোট ব্যবসায়ীদের রোজগার বন্ধ। একথায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীণ নিন্মবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তরা। আমফানের সময় শহরাঞ্চলের বিদ্যুত্‍ পরিষেবা স্বাভাবিক করতে গিয়ে প্রায় ‘ব্যর্থ’ হয়েছিল CESC। ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিল আমজনতা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও মাত্রাতিরিক্ত বিলের ঘটনা। এই পরিস্থিতিতে CESC’র মাত্রাতিরিক্ত বিলের বোঝায় নাজেহাল মধ্যবিত্ত থেকে সেলিব্রিটি সকলেই।

চলতি মাসের বিদ্যুতের বিল নিয়ে ক্ষুব্ধ কলকাতার একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, গত কয়েক মাসের তুলনায় চলতি মাসে অস্বাভাবিক বেশি বিদ্যুতের বিল এসেছে। এবং এই তালিকায় রয়েছেন শহরের সাধারণ বাসিন্দা থেকে শুরু করে অভিনেতা অঙ্কুশ বা যশ দাসগুপ্তের মতো নামও। কলকাতার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিদ্যুত্‍বন্টন সংস্থা সিইএসসি এর আগে যে টাকার বিদ্যুতের বিল পাঠাত, এ বার তার থেকে কয়েক গুণ বেশি পাঠিয়েছে। গ্রাহকদের দাবি, প্রায় একই পরিমাণ বিদ্যুত্‍ ব্যবহার করে অন্য সময়ের চেয়ে প্রায় চার-পাঁচ গুণ বেশি টাকার বিল এসেছে। তবে সিইএসসি-র পাল্টা দাবি, লকডাউনের কারণে তাদের কর্মীরা মিটার রিডিং নিতে বাড়ি বাড়ি যেতে পারেননি বলে বিল কম যেত। এ বার সঠিক রিডিংয়ের বিল পাঠানো হয়েছে বলে গ্রাহকদের তা বেশি মনে হচ্ছে। গোটা ঘটনায় এ বার সিইএসসি-র কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছেন রাজ্যের বিদ্যুত্‍মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

এই বিষয় নিয়ে শুক্রবারই বিদ্যুত্‍মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন বেসরকারি বিদ্যুত্‍ সংস্থার দুই কর্তা। কেন বেশি বিদ্যুতের বিল এসেছে, তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তাঁরা। শনিবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়েও একই কথা জানিয়েছে ওই সংস্থা। তবে তাতে সন্তুষ্ট নয় রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, ওই বিদ্যুত্‍ সংস্থাকে অ্যাডভাইজরি পাঠাতে চলেছে নবান্ন। সূত্রের খবর, CESC’কে যে অ্যাডভাইজরি পাঠাতে চলেছে রাজ্য, তাতে যথেষ্ট কড়া হুঁশিয়ারি থাকবে। তাতে বলা হবে, আগামী এক মাসের মধ্যে বিলের ভুল ত্রুটি ঠিক করতে হবে। ওই সময়ের মধ্যে কোনও গ্রাহকের ক্ষেত্রে বিল বাবদ টাকা নেওয়া যাবে না। যদি কোনও গ্রাহক মাত্রাতিরিক্ত বিল মেটাতে না পারেন, তবে তাঁর বিদ্যুতের লাইন কাটা যাবে না।

আরও পড়ুন: সুশান্ত মামলায় এবার ময়দানে নামলেন নির্ভয়ার আইনজীবী, মোদি-শাহের কাছে CBI তদন্তের আবেদন সীমার

গোটা ঘটনায় এ বার সিইএসসি-র কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছেন রাজ্যের বিদ্যুত্‍মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার সিইএসসি আধিকারিকদের নিজের দফতরে ডেকে পাঠান তিনি। তা নিয়ে ব্যাখ্যাও তলব করেন শোভন। তবে শুধু জবাবদিহি করেই থেমে থাকেননি তিনি। সিইএসসি-কে তাঁর নির্দেশ, শহরের সমস্ত বড় সংবাদপত্রে রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে অস্বাভাবিক বিল পাঠানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। এবং সেই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, জনসাধারণ সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হলে ফের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ডেকে পাঠানো হবে তাঁর দফতরে।

শুক্রবার বিদ্যুত্‍মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন CESC’র দুই কর্তা। কেন এমন অস্বাভাবিক বিল আসছে, তার কারণও ব্যাখ্যা করেন তাঁরা। CESC’র দাবি, করোনা সংক্রমণের জেরে মার্চ থেকে লকডাউন জারি করা হয়। তার ফলে বেশ কয়েকমাস বন্ধ ছিল মিটার রিডিং নেওয়া। স্বাভাবিকভাবেই এপ্রিল ও মে মাসে অনুমানের ভিত্তিতে বাত্‍সরিক গড়ে বিদ্যুত্‍ ব্যবহারের নিরিখে বিল পাঠানো হয়েছে। তবে তা বিদ্যুত্‍ ব্যবহারের তুলনায় অনেক কম। জুন থেকে ফের মিটার রিডিং শুরু হয়েছে। বাড়তি ইউনিট বিলে যুক্ত হয়েছে। তার উপর আবার গ্রীষ্মকালে বিদ্যুত্‍ খরচ হয় তুলনামূলক বেশি। তাই অতিরিক্ত বিল দেখে বিরক্ত হচ্ছেন গ্রাহকরা।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close