fbpx
কলকাতাহেডলাইন

সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক, কী বলছে বিরোধীরা!

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের  বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে কোয়ারেন্টাইন করা যায় না, সরকারেরও লিমিট আছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম বক্তব্যটি নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনা শুরু করেছেন বিরোধীরা। এছাড়াও কোভিড মোকাবিলায় তিনি একটি ক্যাবিনেট কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। কারণ, তাঁর ‘আরও কাজ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ইত্যাদি দেখতে হবে’। বিরোধীরা বলছেন, রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা পশ্চিমবঙ্গকে এক সর্বনাশের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রাজ্যের ভবিষ্যত্ সঙ্কটজনক বুঝতে পেরে মুখ্যমন্ত্রী কমিটি তৈরি করে নিজে সরে যেতে চাইছেন বলেও মনে করছেন বিরোধীরা।

মুখ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্য শোনার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় টুইট করেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি হাসপাতালের বেড ভর্তি হয়ে গেছে বলেই মুখ্যমন্ত্রী বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন? সেই প্রশ্ন আরও কড়া ভাষায় তুলেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, ‘দিনের পর দিন মিথ্যে কথা বলে এখন দিদিমণি ক্লান্ত। নিজের কাছেই নিজে ধরা পড়ে গেছেন। বুঝতে পারছেন আর উপায় নেই। তাই তিনি কমিটি গড়ে দিয়ে পালালেন।’

দিলীপের আরও বক্তব্য, ‘করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আর মৃতের সংখ্যা চেপে গিয়ে রাজ্যের বড় সর্বনাশ করে দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। দেশের আর কোনও রাজ্যকে নিয়ে এমন প্রশ্ন ওঠেনি। রাতের অন্ধকারে কেরোসিন ঢেলে মৃতদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার নজির কোথাও নেই। দিনের পর দিন রাজনীতি করেছেন মমতা। রাজ্যবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এখন বড় বিপদে বুঝতে পারে পালাতে চাইছেন। কিন্তু তিনি পালাতে পারবেন না। রাজ্যের মানুষ জবাব দেবে। রেশন থেকে রোগী সব নিয়ে রাজনীতি মানুষ মেনে নেবে না।’

রাহুল সিনহা বলেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। যা হাসপাতালগুলির অবস্থা দেখলে বোঝা যায়। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরানোয় আর কোনও বাধা রইল না বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।সংক্রমণ চাপতে চাপতে আর করোনায় মৃত্যু গোপন করতে করতে, পরিস্থিতি এতটাই ভয়ানক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে হল, করোনা পজিটিভ রোগী বাড়িতে থাকুন। এদিন এমনটাই মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য চিন্তাজনক বলেও বর্ণনা করেছেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য উল্লেখ করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন লক্ষ লক্ষ লোককে তো কোয়ারেন্টাইন করা যাবে না। এর অর্থ হল হয় লক্ষ লক্ষ লোক আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে রাজ্য সরকার, নয় সামনেই লক্ষ লোক আক্রান্তের শিকার হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজের দায়িত্ব জনগণের ওপর ছেড়ে দিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন রাহুল। তথ্য গোপন করে সরকার এমন জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যে এত রোগীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার মতো সামর্থ নেই সরকারে। মন্তব্য করেছেন রাহুল।

আরও পড়ুন: একেই বলে দেশভক্তি, পুলওয়ামা হামলায় মৃত জওয়ানের স্ত্রী করোনা যুদ্ধে দান করলেন পিপিই কিট

প্রায় একই মত প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর। তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ হলে বাড়িতে থাকার জ্ঞান লোককে দেবেন না। তাহলে বিশেষজ্ঞদের সমস্ত পরামর্শ ভ্রান্ত হয়ে যাবে। টেস্টিং করো, আইসোলেট করো চিকিত্সা করো। এটা চিকিত্সকদের ব্যখ্যা। সেখানে তাঁরা যদি শোনেন কোভিড রোগীকে বাড়িতে রেখে দেওয়ার কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী তাহলে তাঁরা অজ্ঞান হয়ে যাবেন। আর মুখ্যমন্ত্রীর ডাক্তারি যদি মানুষ বাংলার মানুষ শোনেন তাহলে রাজ্যে মহামারী লাগতে দেরি হবে না।’

রাজ্যের কোন কোন এলাকা সংক্রমণের বিচারে কোন জোনে পড়ছে তার তালিকা সোমবার প্রকাশ করেছে নবান্ন। এই প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরীর বক্তব্য, ‘আজ পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে বলে এসব বলছেন। সারা দেশে হটস্পট চিহ্নিত করে কাজ চলছে। কাসারগর, ভিলওয়ারা মডেলের কথা সবাই জানেন। আর মুখ্যমন্ত্রীর তৈরি করা ক্যাবিনেট কমিটিতে তো সব বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। বিক্রমাদিত্যের সভা হবে।’

মুখ্যমন্ত্রীর ক্যাবিনেট কমিটি সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন বামেরাও। বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘এতদিন বাদে মনে পড়ল কেন? মুখ্যমন্ত্রী ভেবেছিলেন, একাই রাস্তায় ঘুরে সব সামলে নেবেন। এখন পারছেন না আর ঠেকানো যাবে না। তাই কমিটি গড়ে আইওয়াশ করছেন। নিজেই বুঝিয়ে দিচ্ছেন সরকার সঠিক পথে চলছে না। সরকার ব্যর্থ।’ একই সঙ্গে বাড়িতে থেকে চিকিত্সার কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা সর্বনাশের সিদ্ধান্ত।’

Related Articles

Back to top button
Close