fbpx
কলকাতাহেডলাইন

৭ দিন ধরে নিখোঁজ শিয়ালদহের গেস্টহাউসের মালিক! গঙ্গায় দেহ উদ্ধারে রহস্য, খুনের অভিযোগ

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বন্ধুর ফোনে টাকা নিয়ে বেরিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন শিষালদহেপ এক গেস্টহাউস মালিক। ৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর রবিবার রাতে নর্থ পোর্ট থানা এলাকার রামকৃষ্ণ ঘাট থেকে উদ্ধার হয় ভূপাল মুখোপাধ্যায় ওরফে ববি (৪৯) নামে ওই ব্যবসায়ীর দেহ। বাঁ দিকের পাঁজরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই ঘটনায় মৃতের বন্ধু সুরজ সোনকারের দিকে খুনের অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার।

পরিবার সূত্রে খবর, ২৯ জুন ভূপালকে ফোন করে ডাকে সুরজ। কিছু পরিমাণ টাকা নিয়ে ভূপাল বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। সেদিন রাতে বাড়ি ফেরেননি তিনি। মোবাইলও সুইচড অফ। ৩০ জুন সকালে মুচিপাড়া থানায় অভিযোগ জানাতে যায় পরিবার। সেইসময় সূরজকে ফোন করলেও সে ধরেনি। অন্য নম্বর থেকে ফোন করলে ভূপালের ফোন ধরে সূরজ। বলে, রাতেই ভূপাল তাঁর বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে। পরে ভূপালের বাড়িতে নিজে এসে ফোন ফেরত দিয়ে সে জানায়, ভুল করে ফোন ফেলে রেখে গেছে ভূপাল। ২ জুলাই নিমতলার ভূতনাথ মন্দিরের কাছে পাওয়া যায় ভূপালের মোটরবাইক।

পরিবারের দাবি, সূরজের কথাবার্তায় অসঙ্গতি রয়েছে। মাঝেমধ্যেই ভূপালের কাছে টাকাপয়সা ধার নিত সূরজ। পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে ওই ব্যবসায়ীকে। আর সেই অভিযোগের আঙুল উঠেছে বন্ধু সূরজ সোনকরের বিরুদ্ধে। সোমবার মুচিপাড়া থানায় বন্ধু সূরজের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। তাঁদের অভিযোগ, প্রথম থেকেই খুনের অভিযোগ নিতে গড়িমসি করছিল পুলিশ। পরে ফোন করে ডিসি সেন্ট্রালকে গোটা ঘটনার কথা তাঁরা জানান। ডিসি সেন্ট্রাল মুচিপাড়া থানার ওসিকে ফোন করে অভিযোগ নিতে নির্দেশ দিলে অভিযোগ গৃহীত হয়।

আরও পড়ুন: রাজ্যে ফের মৃত্যুর নয়া রেকর্ড গড়ল!

পুলিশ জানিয়েছে, বন্ধু সূরজ সোনকরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের মধ্যে কোনও ব্যবসায়িক শত্রুতা ছিল কিনা খতিয়ে দেখা হবে। এখানে প্রশ্ন উঠছে, ভূপালবাবু সত্যিই কী ফোনটা ফেলে এসেছিলেন? সেক্ষেত্রে বাইকটি ভূতনাথ মন্দিরের কাছে গেল কীভাবে? নাকি পরিকল্পনামাফিক বন্ধুকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করে ফেলে দেওয়া হয়েছিল গঙ্গায়? সুরজ সোনকারের থেকে পাওয়া তথ্যেই এই রহস্যের জট কাটবে বলে আশাবাদী পুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close