fbpx
অন্যান্যঅফবিটহেডলাইন

পদ্মের গল্প, গল্পের পদ্ম…..

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: এই করোনা আবহে পুজোর গন্ধর আভাস একেবারে দোরগোড়ায়। মা কৈলাস থেকে পৌঁছে গেছেন মর্তে। পুজোর বাজার, ঠাকুর দেখা, হাইকোর্টের বিধি-নিষেধ সব নিয়েই ২০২০-র পুজোও জমজমাট। এরকম এক সময়ে মায়ের পুজোর এক অন্যতম উপাচার নিয়ে কিছু কথা বলি। বিষয়টা পদ্মফুল।

ভারতের জাতীয় ফুল পদ্ম। বিখ্যাত রাজনৈতিক দলের চিহ্নও এই পদ্ম। মা দুর্গার পুজোয় পদ্ম মাস্ট। রামচন্দ্র ১০৮ পদ্মফুল দিয়ে মায়ের পুজো করেছিলেন, তাই সেই প্রথা আজও চলছে। পুরাণের পাতায় চোখ রাখতে পেলাম দু’রকমের তথ্য। বাল্মিকী রামায়ণে রাম-রাবণ বধ হেতু মহামায়ার যে পুজো করেছিলেন তাতে পদ্মফুলের কোনও উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে না। কৃত্তিবাসী রামায়ণে পদ্মের উল্লেখ পাওয়া যায়। বোধন, আমন্ত্রণ, অধিবাস করে রামচন্দ্র পুজো শুরু করেছিলেন ষষ্ঠীতে। তারপর সপ্তমী, অষ্টমী পুজো করে, নবমীতেও পুজো প্রায় সাঙ্গ, কিন্তু রামচন্দ্রের মনে কোনও আনন্দ নেই। এমন সময় বিভীষণ রামচন্দ্রকে বললেন,‘তুষ্টিতে চণ্ডীরে এই করহ বিধান। / অষ্টোত্তর-শত নীলোৎপল কর দান॥ / দেবের দুর্লভ পুষ্প যথা তথা নাই। তুষ্ট হবেন ভগবতী শুনহ গোঁসাই॥’

বিভীষণের এই পরামর্শে রামচন্দ্র ভাবলেন কোথায় পাবেন ১০৮টি নীলপদ্ম! মুশকিল আসান হনুমানকে বিভীষণ বলেন, ‘অবনীতে দেবীদহে নীলপদ্ম আছে’। হনুমান চলে গেলেন নীলপদ্মের খোঁজে দেবীদহে এবং ১০৮টি নীলপদ্ম নিয়েও এলেন। কৃত্তিবাসী রামায়ণে এই গল্পের সঙ্গে আরও পাওয়া যায় যে দেবীদুর্গা ওই ১০৮টি পদ্মের মধ্যে থেকে একটি পদ্মকে সরিয়ে রেখেছিলেন। সেই সময় রামচন্দ্র তাঁর একটি চক্ষুকে (নীল-কমলাক্ষ বলে পরিচিত) মায়ের পায়ে নিবেদন করতে উদ্যত হলে, দেবী রামচন্দ্রের সামনে আবির্ভূতা হয়ে তাঁকে আশীর্বাদ করেন।
পুরাণের এই কাহিনি অনুসারে দুর্গার আরাধনায় পদ্ম জরুরি হয়ে উঠল। বর্তমানে ‘দেবীদহ’ কোথায় তা জানা নেই। তবে পশ্চিমবঙ্গের মূলত মেদিনীপুর জেলা আজকের দেবীদহে পরিণত হয়েছে। এই জেলার কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, কেশবপুর, হাকোলা প্রভৃতি থেকে পাওয়া পদ্মফুলে অষ্টমীর সন্ধিপুজোতে মা অভিষিক্তা হন। সমীক্ষায় দেখা গেছে সারা রাজ্যে এই পুজোর জন্য প্রায় ১৬-১৭ লক্ষ পদ্ম লাগে যার দু’ই তৃতীয়াংশ জোগান দেয় পূর্ব মেদিনীপুরের পদ্মচাষিরা। শ্রাবণ মাস শেষে চাষিরা সবাই খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েন, পুকুর, ঝিল থেকে পদ্মের কুড়ি সংগ্রহ করতে। সংগ্রহ শেষে হিমঘরে তা রাখা থাকে। সময় মতো হিমঘর থেকে বার করে কোলাঘাট হয়ে এই পদ্ম ছড়িয়ে যায় সারা রাজ্যে।

আরও পড়ুন: পুজোর উপহার নিয়ে দুঃস্থ মহিলাদের পাশে ‘আস্থা’

চৈত্রমাসেই এই ফুলের বীজ রোপণ করা হয়, আষাঢ়-শ্রাবণে ফুল ফুটতে শুরু করে। এক বিঘের একটি ঝিলে একদিন অন্তর প্রায় ২০০-৩০০টি করে পদ্মফুল পাওয়া যায়। এমনি সময় পদ্মের দাম প্রতি শ’এ ৪০০-৫০০টাকা হলেও পুজোর সময় সেই দাম হয় ১৫০০-২০০০টাকা। এবার বাজারের কী অবস্থা হবে তা জানা নেই। পদ্মচাষিদের চিন্তা একটাই, যে হারে দুর্গাপুজো বাড়ছে, সেই হারে ফলন হচ্ছে না। ফলত কতদিন এইভাবে এই ফুলের যোগান তাঁরা দিতে পারবেন, সে নিয়ে বেশ সন্দেহ আছে।

দেব-দেবীর প্রিয় যে ফুল এবং যে ফুল স্বর্গরাজ্যেও দুর্লভ, তার চাষ সঠিক করে করতে না পারলে, এই মর্ত্যরাজ্যেও দুর্লভ হতে পারে পদ্ম। অন্যদিকে, ফলন কমলে আর্থিক মাপকাঠিতেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে যেতে পারে দুর্গাপুজোর অন্যতম এই উপকরণ। আপাতত আমার পদ্মের গল্পটি ফুরলো। আজ মায়ের বোধন…মাগো নিজের পুজো করিয়ে নিও মা..!

Related Articles

Back to top button
Close