fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণবাংলাদেশহেডলাইন

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে চলছে পর্দার আড়ালের কূটনীতি!

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, ঢাকা:পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে কূটনীতির বিরল ঘটনা হিসেবে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে দুই দেশ। এর আগে ১৯৭১ সাল নিয়ে দুই দেশ একে অপরের ব্যাপারে বিরূপ অবস্থানে ছিল। সাম্প্রতিক মতবিনিময়ে সমন্বয় সাধনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা আস্থা নির্মাণ ও সম্পর্কের জটিলতাগুলো নিরসনে গতিশীলতা সৃষ্টির ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ডিপ্লোম্যাটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিহাসে এ ধরনের নজির আছে। ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে তিক্ততার ইতিহাস থাকলেও দুই বৈরী দেশ অভিন্ন শত্রু সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে একই অবস্থান গ্রহণ করেছিল। একইভাবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অভিন্ন শত্রু জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার ব্যাপারে একজোট হতে পারে। কারণ দুই দেশই গ্লোবাল ক্লাইমেট রিক্স ইনডেক্স ২০২০-এ শীর্ষ ১০-এ আছে।
চিন-জাপান পরিবেশগত সহযোগিতার কথাও বলা যেতে পারে। এই দুই দেশ ঐতিহাসিক বৈরিতা এড়িয়ে এই খাতে সহযোগিতা করছে।

উভয় দেশের নেতারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এমনকি ২০১৮ সালেল নির্বাচনী ইস্তেহারেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক পরিবেশগত ও কৌশলগত- দুই দিক থেকে উপকৃত হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতার আলোকে বলা যায়, সম্মিলিত কাঠামো কেবল পরিবেশগত হুমকি প্রশমনেই সহায়তা করবে না, সেইসাথে আঞ্চলিক ইস্যুগুলোও খতিয়ে দেখতে সাহায্য করবে।

জলবায়ুবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় এটি অ-প্রচলিত জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করেছে। এটি উভয় দেশের জন্য আর্থসামাজিক নাজুক পরিস্থিতিও সৃষ্টি করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যেসব সমস্যা সৃষ্টি হবে, তার অন্যতম হচ্ছে বন্যা ও এর পরবর্তী বাস্তচ্যুতি। চলতি বছর পাকিস্তানের বেশির ভাগ এলাকায় বন্যা হয়েছে, করাচিতে মওসুমি বন্যায় রেকর্ড ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, দুটি রাস্তা পরিণত হয়েছিল নদীতে, লাখ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আবার মে মাসে সাইক্লোন আমফান বাংলাদেশে তা-ব সৃষ্টি করে। ওই সময় বাংলাদেশ সরকারকে ২.৪ মিলিয়ন লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।

কোনো কোনো হুমকি আবার নানা ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। বন্যার ফলে অভিবাসন ঘটে, এর ফলে সৃষ্টি হয় বেকারত্ব, সেটি আবার ডেকে আনে দারিদ্র, তা থেকে চরমপন্থার উদ্ভব হয়, বাড়ে সামাজিক অস্থিরতা। সমীক্ষায় দেখা গেছে, অর্থনৈতিক কারণে বাস্তুচ্যুত লোকজনের মধ্য থেকে চরমপন্থী সংগঠনগুলোতে রিক্রুট বেশি হয়ে থাকে।

তাছাড়া জল নিরাপত্তাহীনতা, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাও সৃষ্টি হয়। পুরো দক্ষিণ এশিয়াতেই জলের দুষ্প্রাপ্যতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে। আর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জিডিপিতে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় বন্যার ফলে চলতি বছরই নয়, আগামীতেও কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাবে।

বিশ্ব জল উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২০-এ ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে বন্যার কারণে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিবছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ২১৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করবে। এই ক্ষতি হ্রাস করার জন্য বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একযোগে কাজ করতে পারে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় ফ্রেমওয়ার্ক জলবায়ুবিষয়ক আঞ্চলিক ইস্যুগুলো সমাধানে ও আঞ্চলিক দেশগুলোর মনোযোগও আকর্ষণ করতে পারে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয়েই ভারতের ভাটিতে অবস্থিত। উজানে ভারতের জল ব্যবস্থাপনা উভয় দেশের জন্যই উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। তিস্তা নদীর জল ভারতের সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আপত্তি তুলেছে বাংলাদেশ। আবার উরি ও পুলওয়ামা হামলার পর ভারতের জল যুদ্ধের হুমকি প্রতিহত করেছে পাকিস্তান।

সুষম জল বণ্টনের প্রয়াসে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ উভয়ই জলবায়ু পরিবর্তন প্রশ্নে সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জলের জন্য একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। তারা চিনের বিপরীতে ভাটির দেশ। ভারতও বেইজিংয়ের ব্রহ্মপুত্র ড্যাম নিয়ে চিন্তিত। ফলে কোনো দেশই জলের সমস্যা এককভাবে সমাধান করতে পারবে না।

সবশেষে বলা যায়, সম্মিলিত প্রয়াসের তাগিদ বাড়িয়ে দিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বিকশিত করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। আর এর মাধ্যমে অতীতের মতপার্থক্য মিটিয়ে শান্তিপূর্ণ, জলবায়ু-স্থিতিস্থাপক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পথ সৃষ্টি হতে পারে।

Related Articles

Back to top button
Close