fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

ইমরান খানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল পাকিস্তান

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। শুক্রবার পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালা স্টেডিয়ামের সমাবেশ করে বিরোধী দলগুলির একটি জোট ইমরান খানের সরকারকে উৎখাতের ডাক দিয়েছে। এমনকি তারা এই সমাবেশে সেনাবাহিনীর মদদে ইমরান ক্ষমতায় এসেছেন বলে অভিযোগ এনেছেন।

এমনিতেই ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পাকিস্তানে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে, যা নিয়ে পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই ক্ষোভ কাজে লাগিয়ে সমাবেশের ডাক দেয় পাকিস্থানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও জামায়েত উলেমা-ই-উলেমা-ই-ইসলাম। এর আগে পাকিস্তানের ৯টি বিরোধী দল নিয়ে একটি জোট গঠন করেন নওয়াজ শরিফ। জোটের নাম দেয়া হয়েছে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম)।

বিরোধী দলের নেতাদের অভিযোগ, অন্যায়ভাবে ইমরান খানকে ২০১৮ সালের নির্বাচনে জিতিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। তারপর থেকে সেনাবাহিনীর কথা শুনেই চলছেন ইমরান খান। এই অভিযোগ এনে এদিনি নওয়াজ শরিফ পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও সেনাবাহিনীর ‘চাকর’ বলে অভিহিত করেন। আর এদিনের সমাবেশে একই অভিযোগ এনে নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ বলেন, “দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি। চলমান অবিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে লড়াই করছি।’

তবে এই বিক্ষোভ নিয়ে মোটও চিন্তিত নন ইমরান খান। তিনি বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ খন্ডন করে জানিয়েছেন, “আমার জয় নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাকে দেশের জনগণ নির্বাচিত করেছে, সেনাবাহিনী নয়। বিরোধীদের আন্দোলন নিয়ে আমি ভীত নই। আসলে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির মামলা রয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহারের জন্যই আমার ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ফান্সভিত্তিক আইপিএসওএস সংস্থার এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, পাকিস্থানের ৮০ শতাংশ মানুষ উদ্বিগ্ন, কেননা তাদের ধরণা দেশ ভুল পথে যাচ্ছে। আইপিএসওএস -এর ‘কনজিউমার কনফিডেন্স সার্ভে ইন পাকিস্তান’ নামের ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পাঁচজন নাগরিকের মধ্যে চারজনই মনে করেন যে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। গত বছর থেকে চলতি বছর দেশের বেকারত্ব আরও ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই, তাদের ধারনা দেশ ভুল পথে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের নাগরিকদের ওপর সমীক্ষাটি করা হয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। এই সমীক্ষাটি চালানো হয় পাকিস্তানের শহর ও এর আশেপাশের প্রতি ১০০০ জনের ওপর। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ পুরুষ ও ৫০ শতাংশ নারীকে এজন্য বেছে নেওয়া হয়, যাদের বয়স ১৮ বছরের ওপরে। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি চারজন পাকিস্তানি নাগরিকের মধ্যে তিনজনই দেশের শাসন ব্যবস্থা ও সরকারের ওপর অসন্তুষ্ট। তারা মনে করেন সঠিক পথে যাচ্ছে না দেশ এবং এক্ষেত্রে পরিবর্তন দরকার। এছাড়া পাক নাগরিকদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজন মনে করেন, আগামী ছয় মাসে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

Related Articles

Back to top button
Close