fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

করোনার মাঝে ইজরাইলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের অবস্থা সংকটজনক !

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জেলখানায় আটক কারাবন্দিরা। এ কারণে বহু দেশের জেলখানা থেকে বন্দিদেরকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে করুণ অবস্থায় রয়েছেন ইজরাইলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিরা। সম্প্রতি, ফিলিস্তিনি বন্দীদেরকে রক্ষার জন্য ইজরাইলের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। কিন্তু, তারপরেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন আসেনি বলে আন্তর্জাতিক মহলের দাবি।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদেরকে গ্রেফতার ও বন্দির সংখ্যা বহুগুণে বেড়েছে। ৪৮ সাল থেকে এইসময় পর্যন্ত প্রায় ১৮টি জেলখানা নির্মাণ করেছে ইজরাইল। ফিলিস্তিনি বন্দি ও শরণার্থী বিষয়ক কমিটির কর্মকর্তা আব্দুন নাসের ফারওয়ানে জানিয়েছেন, বর্তমানে পাঁচ হাজার ৮০০ নারী ও পুরুষ বন্দি ইজরাইলের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। এসব বন্দির মধ্যে ৫৪০জনকে একবার কিংবা একাধিকবার আজীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ৫৮০০ বন্দির মধ্যে ৬২ জন নারী এবং ৩০০ জন রয়েছে নির্ধারিত বয়সসীমার নীচে অর্থাৎ শিশু। ফিলিস্তিনি বন্দি ও শরণার্থী বিষয়ক কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২২৩ জন ফিলিস্তিনি ইসরাইলের বিভিন্ন জেলখানায় মৃত্যু বরণ করেছেন। এতে আরও বলা হয়েছে, ৬৪জন বিনা চিকিৎসায়, ৭৩ জন নির্যাতনের কারণে, ৭৫জন আত্মহত্যা এবং সাত জন বন্দি গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। সামি আবু দিয়াক নামে ৩৬ বছর বয়সী একজন ফিলিস্তিনিকে ভিন্ন ভিন্ন মামলায় তিন বার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: খারুই প্রাথমিক স্কুলের চাল ডাল বিতরণ নিয়ে উত্তেজনা

ফিলিস্তিনি বন্দি ও শরণার্থী বিষয়ক দফতরের প্রধান রাফআত হামদুনে বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনি বন্দিদের অবস্থা খুবই নাজুক এবং তাদের ওপর অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ইজরাইল বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালানোকে বৈধ বলে মনে করে এবং এমন সব পন্থায় তারা নির্যাতন চালায় যা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ। আটকাবস্থার শুরু থেকেই তারা বিভিন্ন পন্থায় নির্যাতন চালানো শুরু করে। বন্দিদের মাথায় ময়লাযুক্ত ও দুষিত প্যাকেট পরিয়ে দেয়া, দিনের পর দিন ঘুমাতে না দেয়া, চিকিৎসা না দেয়া, বন্দিদেরকে হিমাগারে আটকে রাখা, দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা, ইসরাইলের গুপ্তচর হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করা, তাদের মাথায় গরম ও ঠাণ্ডা পানি দেয়া, কানের পর্দা ফাটানো বিকট শব্দ শুনতে বাধ্য করা, টয়লেটে যেতে না দেয়া প্রভৃতির মাধ্যমে বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ইসরাইলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের সাথে অমানবিক আচরণের আরেকটি ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের বিপজ্জনক জৈব পরীক্ষা চালানো হয়।

ইজরাইলি পার্লামেন্টের বিজ্ঞান গবেষণা বিষয়ক কমিটির প্রধান দাইলা ইজিক ১৯৯৭ সালে এ কথা ফাঁস করে দেন যে প্রতি বছর তারা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর প্রায় এক হাজার ধরণের মেডিকেল পরীক্ষা চালায়। জর্ডানের লেখক আব্দুল্লাহ ক’ক এক নিবন্ধে লিখেছেন, ‘প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় ইজরাইলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদেরকে বেআইনিভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পরীক্ষার কাজে ব্যবহার করা হয়। ইজরাইলিরা যখনই নতুন কোনো ওষুধ তৈরি করে প্রথমেই তা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর পরীক্ষা চালায়।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত অকথ্য নির্যাতনে ৭৩জন বন্দি প্রাণ হারিয়েছেন এবং এ অবস্থা অব্যাহত রয়েছে। বন্দিদেরকে স্বাস্থ্যসেবা না দেয়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রেখে এমনভাবে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়, যাতে তারা ধীরে ধীর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এরই মধ্যে ইজরাইলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত ফিলিস্তিনি বন্দিদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

Related Articles

Back to top button
Close