fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ফেসবুক পোস্টের আবেদনে সাড়া রক্ত দিয়ে থ্যালাসেমিয়া রোগীর প্রাণ বাঁচালেন পঞ্চায়েত প্রধান 

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস, হাঁসখালি: ফেসবুক পোস্টের আবেদনে সাড়া দিয়ে পঞ্চায়েত প্রধান নিজেই এগিয়ে এলেন মূমূর্ষু থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীকে রক্ত দিতে। ৮ সেপ্টেম্বর রক্ত দিতে নিজেই হাজির হয়ে যান শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক বিভাগে। হাঁসখালি পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত ময়ুরহাট ১ নং গ্ৰাম পঞ্চায়েত প্রধান রামপদ ঘোষের এই এই মহতি সেবামূলক কর্মোদ্যমে, গর্বিত পঞ্চায়েতের সকল সদস্য-সদস্যা সহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। মূমূর্ষু রোগীকে রক্তদানের মধ্য দিয়ে সমাজকে যে বার্তা দিলেন রামপদ বাবু, তা আগামীতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে অভিমত, হাঁসখালি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্রীমতি মুনমুন বিশ্বাসের। দক্ষ প্রশাসন হিসাবে ইতিমধ্যেই এলাকার জনমানসে রামপদবাবু জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

রামপদবাবু নিজেই জানালেন, ফেসবুক পেজে কৃষ্ণনগর চাষাপাড়ার এক অসহায় রোগীর পরিবারের আবেদনে সাড়া না দিয়ে পারলাম না। রক্তের জন্য হন্যে হয়ে ওই পরিবারটি যখন কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন শেষ ভরসা হিসাবে করুণ আর্তি জানিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় ফেসবুক পেজে একটি আবেদন করেন। আর এই পোস্টটি চোখে পড়ে যায়, জনদরদী ময়ুরহাট ১ নং গ্ৰাম পঞ্চায়েত প্রধান রামপদ ঘোষের। রামপদবাবুর রক্তের গ্রুপ এ নেগেটিভ। আবেদনকারী, কৃষ্ণনগর চাষাপাড়ার ১৬ বছরের থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত তরুণের প্রয়োজন এ নেগেটিভ রক্ত। ফলে তৎক্ষণাৎ রামপদ বাবু  রক্ত দিতে সম্মতি জানিয়ে, ফেসবুকে দেওয়া রোগীর পরিবারের কন্টাক্ট নম্বরে যোগাযোগ করেন এবং গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর রামপদ বাবু সশরীরে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে রক্তদান করেন। মানুষের জন্য এইটুকু সাহায্য ইচ্ছা করলে সকলেই করতে পারেন বলে অভিমত রামপদ ঘোষের।‌

আরও পড়ুন:পুজোর মুখে পর্যটকদের জন্য সেজে উঠছে পাহাড়… খুশির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে না সংক্রমণ! বাড়ছে উদ্বেগ

এক সাক্ষাৎকারে রামপদবাবু আরও বলেন,সুস্থ সমাজ ও দেশ গঠনে প্রতিটি নাগরিককেই  এগিয়ে আসা উচিৎ। রক্তের অভাবে একটি প্রাণ অকালে ঝরে যাবে, এ কোন অবস্থাতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়,তাই পোস্টটি দেখা মাত্র সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, এবং  আমার রক্তের সঙ্গে  আবেদনকারীর রক্তের গ্ৰুপ এক  হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেল, কৃষ্ণনগর চাষাপাড়ার থ্যালাসেমিয়া রোগী বাবাই প্রামাণিক (১৬), প্রতি মাসে রক্ত দিতে হয় ওকে। এবার কোনও ভাবেই রক্ত মেলাতে পারেনি ওর পরিবারের লোকজন। বাবাইয়ের মা যূথিকা প্রামাণিকের প্রতিক্রিয়া, যখন কোনও ভাবেই রক্ত মেলাতে পারছিলাম না, তখন সব আশা ভরসা ছেড়ে দিয়ে ফেসবুক পেজে করুণ আর্তি জানিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। সর্ব শক্তিমান ঈশ্বরই হয়তো রামপদবাবুর মতো এত বড় উদার মনের মানুষটিকে মিলিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের সাহায্যার্থে। পঞ্চায়েত প্রধান, রামপদ বাবু পাশে দাঁড়ানোয় কৃতজ্ঞ কৃষ্ণনগর চাষাপাড়ার প্রামাণিক পরিবার।

 

Related Articles

Back to top button
Close