fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

দিনহাটায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে ঘিরে বিক্ষোভের মুখে প্রধান

নিজস্ব সংবাদদাতা দিনহাটা: প্রায় এক বছর পর সোমবার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান  কার্যালয় ঢুকতে গেলে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে ঘিরে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় প্রধানকে। ফিরে যেতে হয় তাকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দিনহাটার নাজিরহাট এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় ছুটে আসে পুলিশ। এই ঘটনাকে নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে।

প্রধান গ্রাম পঞ্চায়েতে না আসায় কিছুদিন আগেও গ্রাম পঞ্চায়েতে উপপ্রধান নবীরউদ্দীন মিয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য সদস্যরা ছাড়াও স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা এলাকায় মিছিল করে। ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে সব রকম উন্নয়নমূলক কাজ এলাকায় থমকে থাকে বলে অভিযোগ তোলে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়রা

ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উপপ্রধানকে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী কাজকর্ম শুরু হতেই এদিন প্রধান পাপিয়া বর্মন রায় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায়  গ্রাম পঞ্চায়েতে এলে এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ এক বছর ধরে প্রধান না আসায় তাদের নানাভাবে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তাদের আন্দোলনের ফলে ব্লগ প্রশাসন উপপ্রধানকে দায়িত্ব দেওয়ায় কিছুটা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তার পাশে না থাকায় প্রধান পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এদিন গ্রাম পঞ্চায়েতে আসে বলে অভিযোগ।

যুব তৃনমূলের নাজিরহাট দুই অঞ্চল সভাপতি তপন বর্মনের নেতৃত্বে এদিন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা প্রধানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। পরে অবশ্য পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পুলিশ প্রধান পাপিয়া বর্মন রায় ও তার স্বামী পরিমল চন্দ্র রায়কে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পাপিয়া বর্মন রায় বলেন, বিভিন্ন সময় তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতে আসার চেষ্টা করলে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এদিন তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতে এলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হবে তাকে বাধা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। বাধ্য হয়ে তিনি ফিরে আসেন। এদিন তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতে আসার আগে ব্লক প্রশাসনকে বিস্তারিত জানান। প্রশাসনের নির্দেশেই তিনি গ্রাম পঞ্চায়েতে এলে তাকে বিক্ষোভ দেখায় দলেরই একটি অংশ।

স্থানীয় যুব তৃণমূল নেতা অঞ্চল সভাপতি তপন বর্মন বলেন, প্রায় একবছর প্রধান গ্রাম পঞ্চায়েতে না আসায় সব রকম উন্নয়নমূলক কাজ এলাকায় বন্ধ ছিল। যেকোনো প্রয়োজনে মানুষ গ্রাম পঞ্চায়েতে এসে ফিরে যেতে হয়েছে। এখন নতুন করে মুখ দেখাতে এসেছে। সাধারণ মানুষ এদিন তাকে বাধা দেয়।

বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেন, এদিন প্রধান তার নিজের অফিসে ঢুকতে গেলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে বাধা দেওয়া হয়। দলের প্রধানকে যারা নিজের অফিসে ঢুকতে বাধা দিয়েছে তারা তৃণমূলের নয় বলেও এদিন পক্ষান্তরে বুঝিয়ে দেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে দিনহাটা দুই ব্লকের বিডিও জয়ন্ত দত্ত বলেন, এদিন বিক্ষোভের ফলে প্রধান ফিরে এসেছে। এ নিয়ে তার সাথে কথা বলা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close