fbpx
দেশহেডলাইন

আজানা রোগের আতঙ্ক অন্ধ্রে! ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২৯০

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: অন্ধ্রপ্রদেশ জুড়ে এখন অজানা আতঙ্ক! রোগটা ধরা যায়নি, যে রোগে মাত্র একরাতের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৯০ জন। তাদের মধ্যে রয়েছে একাধিক শিশু। রবিবার থেকে আচমকা এক অজানা অসুখের আতঙ্ক ছড়িয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের ইলুরু শহরে। কোনও কারণ ছাড়াই অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন লোকজন। হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। যদিও প্রাথমিক চিকিত্‍সার পরেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন অনেকে, তবুও ভয়টা থেকেই যাচ্ছে। কেন এবং কী কারণে এমন রোগ দেখা দিচ্ছে তা এখনও বুঝে উঠতে পারেননি ডাক্তাররা।

গতকাল থেকে কম করেও ২৯২ জনকে এমন অজানা রোগের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। সংখ্যাটা আজ সকাল অবধি বেড়েছে। যদিও বিপদের বাইরে রয়েছেন ১৪০ জন। তবে অবস্থা গুরুতর বেশ কয়েকজনের। অথচ একজনের মধ্যেও কোভিড সংক্রমণের কোনও উপসর্গ দেখা যায়নি। করোনা পরীক্ষার রিপোর্টও নেগেটিভ। ইলুরু শহরের গভর্মেন্ট জেনারেল হাসপাতালে গতকাল রাতে ৪৫ বছরের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে এই অজানা রোগে। ডাক্তাররা বলছেন, অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন রোগী। মাথা যন্ত্রণা, বমিভাব ছিল। মৃগীরোগের মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু অসুখটা ঠিক কী সেটা বোঝার আগেই মৃত্যু হয় রোগীর। তাঁর সেরিব্রাল স্পাইনাল ফ্লুইড টেস্ট করানো হয়। তাও স্বাভাবিক আসে। করোনা সংক্রমণও ছিল না। কোভিড সংক্রমণ নিয়ে জেরবার অন্ধ্রপ্রদেশ। সংক্রমণের হার গত কয়েকদিন ধরেই বেশি। তার মধ্যেই এমন রোগ ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক বেড়েছে। পূর্ব গোদাবরীর ইলুরু শহরে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খুলে ফেলা হয়েছে।

কীভাবে ঘটল এমন ঘটনা? প্রাথমিকভাবে চিকিত্‍সক এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য ও পুরকর্মী, আধিকারিকদের অনুমান জল থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে। জলে বিষক্রিয়া হয়ে যাওয়ায়, তা থেকে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নর্থ স্ট্রিট এলাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, অসুস্থ হয়ে যাওয়া বাসিন্দাদের প্রত্যেকের বাড়ির জল পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পরে এলাকার পৌঁছন অন্ধ্রপ্রদেশের ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আল্লা কালীকৃষ্ণ শ্রীবাস। তিনি হাসপাতালে গিয়েও অসুস্থ বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে বলেই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ দিনের ঘটনার পরে সঠিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অয়াইএস জগনমোহন রেড্ডি।

আরও পড়ুন: এবার কৃষক আন্দোলন নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপির সাংসদ অভিনেতা সানি দেওল

রাজ্যের মুখ্যসচিব নীলম সহনে বলেছেন সবরকম জরুরি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বিজয়ওয়াড়ার হাসপাতালগুলিতে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথা থেকে রোগ ছড়াল জানতে দুধ ও অন্যান্য খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ডাক্তাররা বলছেন, রোগী হঠাত্‍ করেই জ্ঞান হারাচ্ছে। জ্বর, মাথা ব্যথা, বমিভাব দেখা যাচ্ছে। খিঁচুনি হচ্ছে সারা শরীরে। মৃগীরোগের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে অনেকের। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সচিব কাটামানেনি ভাস্কর বলছেন, বিষাক্ত অর্গানোক্লোরিনের মতো টক্সিক পদার্থ শরীরে ঢুকলে এমন খিঁচুনি বা স্নায়ু রোগ দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দিল্লির অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল কলেজ থেকে বিশেষজ্ঞের দল আসছে অন্ধ্রে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব কেমিক্যাল টেকনোলজি থেকে গবেষকদের একটি দলও আসছেন ইলুরু শহরে। রোগীদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close