fbpx
কলকাতাহেডলাইন

স্বস্তিতে অভিভাবকরা, স্কুল ফি নিয়ে নির্দেশিকা জারি স্কুল শিক্ষা দফতরের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অভিভাবকদের  দীর্ঘ দিনের লড়াই শেষ। অবশেষে বেসরকারি স্কুলগুলির ফি সমস্যা সমাধানে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বুধবার এক নির্দেশিকা জারি করে স্কুল শিক্ষা দফতর জানায়, টিউশন ফি ছাড়া আর কোন কোন ফি স্কুল কর্তৃপক্ষ নিতে পারবে না।
নির্দেশিকা না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্কুল শিক্ষা দফতর। এতদিন ধরে অভিভবক রা যে আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিলেন তর সুরাহা হল। আসলে লকডাউনের ফলে বিপর্যস্ত হয়েছে গোটা অর্থ্নিতি ব্যবস্থা। কারুর মাইনে কমেছে, কারুর রোজগার বন্ধ হয়েছে। আর তাতেই বেসামাল অভিভাবক কূল। এমন পরিস্থিতে মোটা টাকার স্কুল ফি দেওয়া অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চেয়ে ছিল। কিন্তু স্কুল গুলি তাতে রাজি ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়ে ছিল। রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আন্দলনকারি অভিভবকরা।
রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়, পরিবহণ, কম্পিউটার ল্যাব, লাইব্রেরি ফি নেওয়া যাবে না। কোনও ফি বৃদ্ধি করা যাবে না। অনলাইন ক্লাস থেকে বাদও দেওয়া যাবে না পড়ুয়াদের। কোনও পড়ুয়ার ফি দিতে দেরি হলে তা মানবিকতার সঙ্গে বিচার করতে হবে। জরিমানা চাপিয়ে দেওয়া চলবে না।
প্রসঙ্গত,  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে তাঁরা চিঠিও দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী দুজনেই স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ফি না বাড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন। কিন্তু তাতেও পুরোপুরি কাজ হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আর্জি মেনে কিছু স্কুল বর্ধিত ফি কমিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, কয়েকটি স্কুল এখনও ফি কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। কোনও কোনও স্কুল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফি জমা না দিলে জরিমানা নেওয়ার কথাও বলেছে বলে। সম্প্রতি অভিভাবকদের একটি সংগঠন ‘ইউনাইটেড গার্ডিয়ান্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর তরফে এব্যাপারে ক্রেতা সুরক্ষা দফতরকে চিঠি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এর আগেও রাজ্য সরকারের তরফে বারবার বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষকে আরও মানবিক হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তাতেও কাজ হয়নি। তবে এবার নির্দেশিকা অমান্য করলে স্কুলগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর।

Related Articles

Back to top button
Close