fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

আজ সংসদে ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বিবৃতি দেবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: মঙ্গলবার বেলা তিনটের সময় সংসদে ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধ নিয়ে বিবৃতি দেবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সংসদের লিস্ট অব বিজনেস তালিকায় একথা উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্ত বিরোধ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েছে সরকার। গত রবিবার সংসদের বিজনেস অ্যাডভাইসারি কমিটির বৈঠকে চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের প্রসঙ্গ ওঠে। ভারত-চিন সীমান্ত সংঘাত নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রথম অফিশিয়াল বিবৃতি হবে এটাই। গত রবিবার সংসদে বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি আলোচ্য ছিল। আজ সংসদের নিম্নকক্ষে রাজনাথ সিং ঠিক কখন বিবৃতি দেবেন তা এখনও জানা যায়নি। ইন্দো-চিন সীমান্তের উত্তেজনা প্রসঙ্গে বহুদিন ধরেই বিরোধীদের তীব্র আক্রমণের মুখে রয়েছে কেন্দ্র। এদিকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত ঠিক কী অবস্থায় রয়েছে কেন্দ্র তা দেশবাসীকে জানাক, দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। গত ৫ মে ইন্দো-চিন সীমান্তে পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা ছড়ায়।

সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি বলেন, বিষয়টি সংবেদনশীল। তা সামরিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, সংসদে এবিষয়ে বিবৃতি দেওয়া হবে কিনা। গত মে মাস থেকেই লাদাখ সীমান্তে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। ভারতীয় সেনার সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয় ১৫ জুন। ২০ জন ভারতীয় সৈনিক নিহত হন। এর পরে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে চিনের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালায় ভারত। কিন্তু তার পরেও চিনারা ভারতের জমি দখল করার চেষ্টা চালাতে থাকে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে দক্ষিণ প্যাঙ্গং হ্রদের উঁচু পাহাড়ি এলাকা কবজা করার চেষ্টা করে চিনের বাহিনী। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা চুমার এলাকাকেও তারা টার্গেট করে। চিনের সে উদ্দেশ্য প্রতিহত করে ভারতীয় সেনাবাহিনী।

ওই দিন চিনের তরফে ২৫০ জন লালফৌজ ও ভারতীয় সেনার মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এই সংঘর্ষের জেরে ১০০-রও বেশি ভারতীয় সেনা আহত হন। বাদ যায়নি চিনের সেনারাও। এরপর গত ৯ মে প্যাংগং লেকের হামলার সংঘর্ষের সূত্র ধরে উত্তর সিকিমেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়। গত ১৫-১৬ জুন রাতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে লাদাখের গলওয়ান ভ্যালিতে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে হামলা চালায় লালফৌজ। এই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা শহিদ হন। এই সীমান্ত সংঘর্ষে চিনের লালফৌজের ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ফের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় গুলি চলেছে। লালফৌজের দাবি ভারতীয় সেনা আগ বাড়িয়ে সীমান্তে গুলি চালিয়েছে। যদিও পিপল লিবারেশন আর্মির এই অভিযোগ ফুত্‍কারে উড়িয়েছে ভারতীয় সেনা। তথ্যানুসারে, প্যাঙ্গং লেকের দক্ষিণ তীরে দুই দেশের সেনাবাহিনী সংঘর্ষে জড়ায়। প্যাঙ্গং লেকের দক্ষিণ তীরে সুবিধেজনক জায়গায় রয়েছে ভারতীয় সেনা। লেকের ৮ আঙুল পর্যন্ত জায়গা নিজেদের বলে দাবি করেছে ভারতীয় সেনা। অন্যদিকে লালফৌজ প্যাঙ্গং লেকের পাঁচ থেকে আট আঙুলের মধ্যে সেনা ব্যারাক তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: ‘ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে নর্দমার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে’ সংসদে সরব জয়া বচ্চন

সংসদে বাদল অধিবেশনে একাধিক বিষয় নিয়ে কথা তোলার ব্যাপারে মুখিয়ে রয়েছে বিরোধীরা। এর মধ্যে রয়েছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত-চিন উত্তেজনা, দেশের আর্থিক মন্দা, করোনা পরিস্থিতি ও বেকারির মতো ইস্যু। এর মধ্যে লাদাখ ইস্যুই জোরদার হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অধিবেশনের প্রথম দিনেই বলেছেন, সেনার পাশে রয়েছে সরকার। চাই বিরোধীরাও থাকুক। তবে লাদাখ নিয়ে আলোচনার জন্য কোনও সময় এখনও দেওয়া হয়নি বলে খবর।

 

Related Articles

Back to top button
Close