fbpx
দেশহেডলাইন

৩৭০ ধারা অবলুপ্তির পর জম্মু–কাশ্মীরে তৃণমূল স্তরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বেড়েছে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  জম্মু–কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার জামুলা লোয়ার গ্রামের সরপঞ্চ আকিস নাসির। রাজ্যের কনিষ্ঠতম পঞ্চায়েত প্রধান হওয়ার পর থেকে ২৬ বছর বয়সী আকিস ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন। গ্রামের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নের জন্য সকাল থেকে তাঁর জামুলার অফিসে ভিড় লেগেই থাকছে। তিনি এখন গ্রামের অন্যতম মুখপত্র। গ্রামের মানুষের ভালবাসা আর তাঁদের আশা ভরসার পাত্র হয়ে আকিস বুঝতে পারছেন এই চাহিদা পূরণ খুব সহজ কাজ নয়।

ছোটবেলা থেকে আকিসের স্বপ্ন ছিল ভবিষ্যতে ক্রিকেটার হয়ে ভারতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা। শচিন তেন্ডুলকারের ভক্ত আকিস স্বপ্ন দেখতেন একদিন ভারতবাসীর আশা ভরসা হয়ে উঠবেন। সুযোগ পেলেই শচিন মাঠে কিরকম আচরণ করেন, কিভাবে ব্যাটিং করেন তা খুঁতিয়ে দেখতেন। স্বপ্ন দেখতেন একদিন শচিনের সঙ্গে দেখা করে তাঁর কাছ থেকে ক্রিকেটের খুঁটিনাটি জানবেন।

৩৭০ ধারা কার্যকরের পর:‌

আকিস নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন ৩৭০ ধারা প্রয়োগ পরবর্তীকালের একজন কর্মী হতে পেরে। জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রয়োগের আগে পঞ্চায়েতের ক্ষমতা ছিল কাগজে কলমে। স্থানীয় পর্যায়ের কর্মীরা কোনও সরকারি অর্থ পেতেন না। নিজেরাই নিজেদের খরচ জোগাড় করতেন। সরপঞ্চ হওয়ার পর আকিস সরকারি পর্যায়ে অনেক চিঠি চালাচালির পর নাম মাত্র অর্থ পেতেন। ৩৭০ ধারা কার্যকর হওয়ার পর বদল এল। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যবস্থাপনায় এবং উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ তরান্বিত হল। আর স্থানীয় প্রশাসন পেল ক্ষমতা।

আরও পড়ুন: স্বাধীন ভারতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নজির গড়বেন নরেন্দ্র মোদি

স্থানীয়দের উন্নয়নের স্বার্থে এই সুযোগ কাজে লাগালেন আকিস। গ্রামসভায় ২৮ জন সদস্যকে নিয়ে শুরু করলেন এলাকার উন্নয়ন। প্রতিটি ওয়ার্ড সভায় তিনি উপস্থিত থাকতেন। আর গ্রামসভায় উপস্থিত থাকার বদলে তিনি প্রতিনিয়ত নজর দিলেন এলাকার উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিখুঁত ভাবে করার দিকে। তিনি এর জন্য ধন্যবাদ দিচ্ছেন ভারত সরকারকে। তাদের জন্যই উচ্চপর্যায়ের শাসন থেকে একেবারে নিচের তলায় সরকারি কার্যক্রম পৌঁছতে পেরেছে।

এভাবেই আকিস পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে নতুন ভাবে সাজিয়ে তুলেছেন। সকল বিভাগীয় আধিকারিককে বাধ্য করেছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজের দায়, দায়িত্ব নিতে। কর্মচারিরাও নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন। উন্নয়নের শরিক হচ্ছেন। সর্বশেষ আইন অনুযায়ী, পঞ্চায়েতের কাজকর্ম তদারক করা এবং গ্রাম সরপঞ্চকে পরিবেশ পর্যবেক্ষণ অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার বণ্টন করা হয়েছে। যাতে তাঁরা জম্মু–কাশ্মীরের বন ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষচ্ছেদন বন্ধ করতে পারেন।

আত্মত্যাগী যুবকের সরপঞ্চ ব্যবস্থা:‌

যুবক আকিসের আত্মত্যাগী কর্মযজ্ঞ তাঁকে এনে দিয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের ‘জাতীয় শিশুশুবান্ধব পঞ্চায়েত পুরস্কার‌’। গ্রামের শিশুদের সময়মত টিকাদান কর্মসূচি এবং তাদের সঠিক স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করতে পারার ফল এই পুরস্কার।

আরও পড়ুন: এবার করোনায় আক্রান্ত পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

শিক্ষা, সংস্কৃতি প্রসারের উদ্দেশে আকিস নিজের গ্রামে গ্রন্থাগার স্থাপন করেছেন। গ্রামসভার কমিটি তৈরি করে স্কুল পড়ুয়া বাচ্চাদের জন্য মিড ডে মিল চালু করেছেন। পাশাপাশি অষ্টম, দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য চালু করা হয়েছে পুরস্কার। এভাবে স্কুলছুটের সংখ্যা যথেষ্ট ভাবে কমানো গেছে। গ্রামীণ যুবকদের স্বনির্ভর করতে ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে তাঁরা নিজেদের ব্যবসা করায় আগ্রহী হয়েছেন। গ্রামের সব বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা গেছে। এভাবেই আকিস জাতীয় পুরস্কারের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। আর নিজের গ্রামকে বদলে নিয়েছেন।

শুরুতে অবশ্য পরিস্থিতি এরকম ছিল না। তাঁর গ্রামেরই অনেকে ৩৭০ ধারার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু বিরাট কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে তিনি নিজের গ্রামকে করে তুলেছেন উন্নত। এভাবে তিনি উপলব্ধি করলেন, ৩৭০ ধারার অবলুপ্তির মাধ্যমে তাঁর গ্রামের লোকেরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন। সবাই নতুন এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শরিক হতে চাইছেন।

 

Related Articles

Back to top button
Close