fbpx
আন্তর্জাতিককলকাতাগুরুত্বপূর্ণদেশবিনোদনহেডলাইন

প্রয়াত স্বনামধন্য নৃত্যশিল্পী অমলাশঙ্কর

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রয়াত স্বনামধন্য নৃত্যশিল্পী তথা ভারতের নৃত্যশৈলীর অন্যতম পথ প্রদর্শক উদয় শঙ্করের সহধর্মিণী অমলাশঙ্কর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০১ বছর। গত মাসেই তাঁর জন্মদিন পরিবারের সকলকে নিয়ে পালন করা হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর নাতনী শ্রীনন্দা শঙ্কর। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ শিল্পী মহল।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষয়িত্রী অমলা শঙ্করের জন্ম হয় ১৯১৮ সালের ২৭ জুন তৎকালীন যশোর জেলার মাগুরা মহকুমার বাটাজোড় গ্রামে। তখন তিনি অমলা নন্দী নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বাবা অক্ষয় কুমার নন্দী ছিলেন একজন বিশিষ্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী।

১৯৪২ সালে প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্করের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। শ্রীমতি অমলা শঙ্করের একমাত্র কন্যা মমতাশঙ্করও নামকরা অভিনেত্রী ও আন্তজার্তিক খ্যাতি সম্পন্ন নৃত্য শিল্পী রূপে পরিচিত।

অমলা শঙ্করের একমাত্র পুত্র আনন্দ শঙ্কর সঙ্গীত জগতে এক আন্তজার্তিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুনাম অর্জন করেছিলেন। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী তথা অমলা শঙ্করের পুত্রবধূ তনুশ্রী শঙ্করও একজন নামকরা নৃত্য শিল্পী ও অভিনয় জগতে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

অমলা শঙ্কর প্রথমবার স্টেজে পারফর্ম করেন ১৯৩১ সালে, বেলজিয়ামে৷ ‘কালীয় দমন’ এ ‘কালীয়’র চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে নৃত্য পরিবেশন করেন তিনি৷ এরপর কলকাতায় ফিরে তিনি একটি বইও লেখেন৷

১৯৪৮ সালে উদয় শঙ্করের পরিচালনায় ভারতের প্রথম চলচ্চিত্র মূলত শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পীর প্রধান চরিত্র ‘কল্পনা’য় অভিনয় করে নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজের কৃতিত্ব তুলে ধরেন তিনি।

যদিও চলচ্চিত্রটি সেই সময় বক্স অফিসে ভালো না চললেও এটি পরে অনেক সমালোচক ও চলচ্চিত্র প্রেমীদের দ্বারা স্বীকৃত এবং প্রশংসিত হয়। যা ২০০৯ সালে ডিজিটাল পুনঃস্থাপন করা হয়।

নৃত্যের পাশাপাশি অমলা শঙ্কর ছিলেন একজন চিত্রশিল্পী। ছবি আঁকার বিষয়ে তিনি কোনও প্রশিক্ষণ নেননি৷ উদয় শঙ্করের নৃত্য পরিবেশনার বিভিন্ন মুহূর্তই তাঁর আঁকায় ফুটে উঠেছে৷ তবে তিনি তুলি দিয়ে ছবি আঁকেননি৷ ছবি আঁকার ক্ষেত্রেও অভিনবত্ব ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। কখনও আঙুল দিয়ে, কখনও টুথপিক দিয়েই এঁকেছেন ছবিগুলি৷ এমনকি ঝাঁটার কাঠি আর নখ দিয়েও চিত্রের সূক্ষ্ম কাজগুলি সম্পন্ন করেছেন৷ তাঁর কিছু চিত্র কয়েকটি নাটকেও ব্যবহৃত হয়েছে৷ যেমন ‘লাইফ অফ বুদ্ধ’ এবং ‘রামলীলা’৷

জীবনে প্রচুর সম্মানে ভূষিত হয়েছে এই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী অমলা শঙ্কর। তাঁর এই কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৯১ সালে ভারত সরকারের কাছ থেকে ভারতের অন্যতম উচ্চ সম্মান ‘পদ্মভূষণ’লাভ করেন। দিল্লিতে এক রাষ্ট্রীয় স্বাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আর ভেঙ্কটরমনের হাত থেকে তিনি এই পুরস্কার নেন।

এই স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃত্যশিল্পীর মৃত্যুতের ভারতীয় নৃত্যশৈলীর একটি যুগের অবসান হল।

Related Articles

Back to top button
Close