fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিশ্ব যোগ দিবসে ঘরের মধ্যেই পালিত করার পরামর্শ পতঞ্জলির

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : মহর্ষি পতঞ্জলির মতে, ‘স্থিরসুখমাসনং’। অর্থাৎ স্থিরভাবে সুখে অবস্থান করাকেই আসন বলে। আগামী ২১ শে জুন বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আসন বা যোগব্যায়াম অভ্যাস করার পরামর্শ দিলেন যোগগুরুরা। আসলে কোরোনা উদ্ভুত লকডাউন পরিস্থিতিতে জমায়েত করে যোগাভ্যাস করা চলবেনা। কিন্তু সুস্থ দেহ এবং মনের বিকাশের জন্য যোগাভ্যাস জরুরি সারা বছর ধরেই। যোগ দিবস পালনের মাধ্যমে সেই ধারাটাকে সচল রাখার অনুপ্রেরণাই সাধিত হয়।

 

 

 

কিন্তু এবছর দিনটি জনসমক্ষে পালন অসম্ভব। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পতঞ্জলি যোগ সমিতির সভাপতি তথা ‘শিক্ষারত্ন’ প্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষক গৌতম কুমার বোস বলেন, এই দিনটিতে বাড়ির ছোটবড় পরিবার পরিজনদের নিয়ে একসাথে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যেই পালিত করা হোক। এরফলে যাঁদের যোগাভ্যাসে নূন্যতম অনীহা আছে, তাঁদেরও কিঞ্চিত আগ্রহ জন্মাতে পারে। যা কিনা আখেরে তাঁদের যোগাভ্যাসের প্রতি ধীরে ধীরে আগ্রহ জন্মাতে বাধ্য। ফলে পরবর্তীতে তার প্রভাব রোগমুক্ত দেহ এবং মনের বিকাশে সহায়ক হয়ে উঠবে।

 

 

গত ২০১৪ এর ২৭ শে সেপ্টেম্বর United Nations General Assembly (UNGA) তে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রস্তাব দেন আন্তর্জাতিক যোগদিবস পালনের। প্রতি বছর ২১ শে জুন উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন। সেইজন্য মোদী মান্যতা দেন এই দিনটিই আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের পক্ষে উপযুক্ত। বিশ্বব্যাপী সুস্থতা এবং সৌহার্দ্য সম্প্রীতি বজায় রাখতে যা জরুরি। সেই ভিত্তিতে বিশ্বের ১৭০ টি দেশ সহমত হলে ঐ বছরের ১১ ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদে দিনটি পালনের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকও দিনটিকে স্মরনীয় রাখতে দশ টাকার বিশেষ মুদ্রাও চালু করে।

 

 

প্রতিবছর এই দিনটিতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লাবগুলি ঘটা করে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করতো জমায়েত করে। এবার সম্ভব নয় তা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই দুষ্কর এতে। তাই যোগগুরুদের পরামর্শ যে যাঁর নিজেদের বাড়িতে আত্মীয় স্বজন, পরিবার পরিজনদের নিয়ে পালিত করুক দিনটি। এতে বাইরের লোকজনের সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকলো। আবারও দিনটিও মর্যাদায় পালিত হোলো। শরীর মনের সুস্থতার দিকে একধাপ এগুনো সম্ভব হবে। কোলাঘাটের একটি ক্লাব আবার দিনটি পালন করছে অনলাইনে মোবাইলের মাধ্যমে। বাড়িতে যোগব্যায়াম করার ছবি ভিডিওতে তুলে পাঠাতে হবে।

 

 

কেন যোগাভ্যাস প্রয়োজন? মাংসপেশীর পুষ্টিসাধনের জন্য নানা ধরনের ব্যায়াম অভ্যাস করা যেতে পারে। যেমন প্যারালাল বার, কুস্তি, খালিহাতে ব্যায়াম, বারবেল নিয়ে ব্যায়াম ইত্যাদি। কিন্তু যোগগুরুদের বক্তব্য, কেবলমাত্র যৌগিক ব্যায়ামই পারে দেহাভ্যন্তরের স্নায়ূমণ্ডলীকে, গ্রন্থিগুলিকে এবং অন্যান্য যন্ত্রগুলিকে পুষ্ট এবং সবল করতে। যা কিনা অন্য কোনও ব্যায়ামের দ্বারা সম্ভব নয়।

 

 

গৌতম কুমার বোস বলেন, নিয়মিত যোগব্যায়াম অভ্যাসের ফলে মস্তিষ্কের ধারণশক্তি বাড়ে। স্নায়ু সতেজ এবং মাংসপেশি সবল হয়। অনেক দুরারোগ্য ব্যাধি দূর হয়। যোগাসনে যৌবন এবং সৌন্দর্য দীর্ঘস্থায়ী হয়। এছাড়া স্বাস্থ্য, বীর্য ও দীর্ঘমেয়াদি জীবন সঞ্চিত হয়। সর্বোপরি, মানসিক শক্তিবৃদ্ধি এবং একাগ্রতা আনতে যোগব্যায়ামের জুড়ি মেলা ভার।

 

 

তাই ছাত্রছাত্রীদের জন্য এটি একটি মহৌষধ। যাঁরা নিয়মিত যোগাভ্যাস করেন, তাঁদের স্নায়ুতন্ত্র অধিকতর নিয়ম, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, নিশ্চয়তা এবং সূক্ষ্মতার সঙ্গে পরিচালিত করার সুঅভ্যাস গড়ে ওঠে। ছেলেমেয়েদের চরিত্রবান, সুস্থ, কর্মঠ, দীর্ঘজীবী এবং সবল করে তুলতে খালিহাতে ব্যায়াম জরুরি। ১৯৭৪ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দশম শ্রেণীর পাঠ্যক্রমে ব্যায়াম ও খেলাধুলাকে আবশ্যিক শিক্ষনীয় বিষয় হিসেবে যুক্ত করলেও এখন তা ঐচ্ছিক হয়ে গিয়েছে। ফলে ছাত্র ছাত্রীদের অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে এই বিষয়ে।

 

 

আজ বেশিরভাগ যুবসমাজের কাছে পদ্মাসন, বৃশ্চিকাশন, আকর্ণ ধনুরাসন, জানুশিরাসন, হলাসন, অর্ধমৎস্যেন্দ্রাসন নামগুলি খুবই অপরিচিত। মোবাইল গেম আর টিকটক ভিডিওতে আসক্ত যুবসমাজকে সঠিক দিশা দেখাতে পারে নিয়মিত যোগাভ্যাসই। বৃক্ষাসন থেকে উৎকটাসনই পারে উৎকট মানসিকতার পরিবর্তন করে একটা সুন্দর সুস্থ মনের অধিকারী করে তুলতে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল বার্তা তো সেটাই।

Related Articles

Back to top button
Close