fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রাস্তা তৈরির সব প্রকল্প এক ছাতার তলায় এনে শুরু হচ্ছে পথশ্রী প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সড়ক সংক্রান্ত সমস্ত প্রকল্পকে এক ছাতার তলায় এনে পথশ্রী অভিযান নামে একটি নতুন প্রকল্প তৈরি করছে রাজ্য সরকার। উত্তরবঙ্গ সফরকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রিমটে ওই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন বলে নবান্নে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। সড়ক নির্মাণ এবং তার সংস্কারের কাজে গতি আনতে এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সমস্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প কে এক ছাতার তলায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এবার থেকে নতুন তৈরি হওয়া বা সংস্কার হওয়া রাস্তায় এই প্রকল্পের নামে বোর্ড বসানো হবে। যেখানে প্রকল্প তৈরির খরচ সহ বিভিন্ন খুঁটিনাটির উল্লেখ থাকবে। গতকাল রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা বাংলা গ্রামীণ সড়ক যোজনা সহ সড়ক নির্মাণের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে সব জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন। সেখানে পুজোর আগে রাজ্যের সমস্ত সড়কের সংস্কারের কাজ সেরে ফেলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দিন কয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। ওই বৈঠকে গ্রামীণ সড়ক যোজনা হাল-হকিকত নিয়েও আলোচনা হয়। চলতি আর্থিক বছরে ওই প্রকল্পের আওতায় দুই হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বিভিন্ন জেলায় ৪০০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

নবান্ন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন মমতা। ওই দিন সেখানে একটি প্রশাসনিক পর্যালোচনামূলক বৈঠকেও যোগ দেবেন তিনি। এদিন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এম ভি রাও এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানান যে আগামী ১ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী রাজগঞ্জ থেকে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন যার প্রাথমিক লক্ষ্যই হল গ্রামীণ রাস্তার যথাসম্ভব সংস্কারসাধন। সাধারন প্রতি বছর বর্ষার আগে ও পরে গ্রামীণ রাস্তার সংস্কার সাধন করা হয়। কিন্তু এই বছর করোনার আবহে বর্ষার আগে সেই রাস্তা সংস্কারের কাজে হাতই দেওয়া যায়নি। তাই গ্রামীণ এলাকার রাস্তাঘাটের বর্তমান অবস্থা একদমই ভালো নয়। চলতি বছরে পুজোর সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায় নেওয়ার কথা। তাই রাজ্য সরকার চাইছে উৎসব মরশুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেন গ্রামীণ রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে যাক। মাঝের সময়ের মধ্যে টেন্ডার ডাকা ও তা নিয়ে কোন কোন এলাকায় কোন কোন ঠিকাদার কাজ পাবেন তা জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন পুজোর আগেই গ্রামের রাস্তাঘাট পুরো সারাই করে ফেলতে। এর জন্য প্রায় ২৭০০কিমি রাস্তা চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যে ৪০০ কিমি রাস্তা সারাইয়ের কাজও শেষ হয়ে গিয়েছে। আগামী ১ তারিখ এই রাস্তাগুলিই উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর পাশাপাশি সামনের বছর মার্চ-এপ্রিল মাসের থাকবে রাহ্য বিধানসভা নির্বাচন। তাই সেই সময়ে রাস্তা নির্মাণ বা সারাইয়ের কোনও কাজ করা যাবে না। কার্যত বাংলার ভোটের দিনক্ষন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরে পরেই লাগু হয়ে যাবে আদর্শ নির্বাচন আচরণবিধি। তখন নতুন করে কোনও কাজেই হাত দেওয়া যাবে না। তবে শুরু হওয়া কাজ ওই সময়ে শেষ করা বা চালিয়ে যাওয়া যায়। সেই কথা ভাবেই মুখ্যমন্ত্রী পুজোর পরে পরে করেই রাজ্যজুড়ে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ শুরু করে দিতে চান যাতে তা সামনের বছরে বর্ষার আগেই শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্কও যেন শাসকদলের অনুকুলেই থাকে।

Related Articles

Back to top button
Close